মেইন ম্যেনু

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না ২৩ ব্যাংক

ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না ২৩টি ব্যাংক। জুলাই শেষে ৬টি বিদেশি ও ১৬টি বেসরকারি ও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি ছিল। সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এরপরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির স্প্রেড ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিনিয়োগের প্রধান প্রতিবন্ধকতা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। তাই ঋণের সুদহার এক অংকে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনতে দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে বরাবরই দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু একদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় কমাতে না পারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে পরছে না না ব্যাংকগুলো। যার কারণে বিনিয়োগ স্থবিরতায়ও সুদহার কমছে না।

ব্যাংক খাতের ঋণ ও আমানতের সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশের নিচে রাখার নির্দেশণা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এক সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশি-বিদেশি মিলে ২৩টি ব্যাংক এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামাতে পারেনি। এর মধ্যে দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের এ হার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ।

ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে গড়ে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে আর ঋণ দিচ্ছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। এ ব্যাংকের স্প্রেড ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে আইএফআইসি ব্যাংক (৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ) ও ওয়ান ব্যাংক (৫ দশমিক ৯১ শতাংশ)। পঞ্চম অবস্থানে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এছাড়া স্প্রেড ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে এবি ব্যাংকের (৫ দশমিক ২১ শতাংশ), দ্য সিটি ব্যাংকের (৫ দশমিক ১৫ শতাংশ), পূবালীর (৫ দশমিক ১০ শতাংশ), উত্তরা ব্যাংকের (৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ), ইস্টার্ন ব্যাংকের (৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ), ট্রাস্ট ব্যাংকের (৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ), এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের (৫ দশমিক ১৬ শতাংশ), এসবিএসি ব্যাংকের (৫ দশমিক ১১ শতাংশ), মেঘনা ব্যাংকের (৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ), এনআরবি ব্যাংকের (৫ শতাংশ ৮২ শতাংশ) এবং মধুমতি ব্যাংকের (৫ দশমিক ১৩ শতাংশ)।

এছাড়া বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এন.এ.-এর ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, ওরি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশের নিচে আনতে বরাবরই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। তারপরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে অবস্থান করছে। যারা এ নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাংক সুদের উচ্চ হার এ দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। তার মতে দেশের বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, সুদের হার কমানোর পাশাপাশি বকেয়া ঋণ পরিশোধেও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে হবে। খেলাপি ঋণ বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। সহজ শর্তে এই ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ সুদ। স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে কম মাত্র ২ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে স্প্রেড গড় সুদহার ৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

জুলাই মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ সুদ। স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের উপরে রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদ দিয়ে ঋণের বিপরীত আদায় করছে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট।






মন্তব্য চালু নেই