মেইন ম্যেনু

কেমন আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা

“কুমড়ো ফুলে-ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা আর, আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি, খোকা তুই কবে আসবি। কবে ছুটি?” খোকা ফিরে আসবে এমন আশায় গত ৪৪ বছর বুক বেধে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগম (৭৮) একে একে পরিবারের ৮ সদস্যের চলে যাওয়া দেখলেও শুধু ছেলের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন।

প্রতিদিন সবার অজান্তে দিনের কোন এক সময় তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ে ছেলের কথা ভেবে, ছেলে ফিরে আসেনা। ছেলে যুদ্ধে যাওয়ার আগে বলে গেছেন দোয়া করো মা। হয়তো আর ফিরে নাও আসতে পারি। সেই যে গেলো মা ছেলের আর দেখা হলো না।

১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জন্মগ্রহন করেন ভোলা দৌলৎখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে । ১৯৮২ সালে রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙন ঐ বাড়িটি গ্রাস করার পর তার পরিবার ভোলা শহরের আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে চলে আসেন। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে ৯২ শতাংশ জমির ওপর শহীদ স্মরনীকা নামে একতলা পাকা ভবন নির্মান করে পরিবারটিকে পূনর্বাসন করা হয়। স্বামী, সন্তান, নাতীসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে হারিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগম এখন বাকরুদ্ধ প্রায়।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়ী সৈনিক ভোলার কৃতিসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। সেদিন দেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন। তিনি ব্রাহ্মমবাড়িয়ার আখাউরায় পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধে শহীদ হন। সেই শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে কেমন আছে তার মা এ খবর রাখেনা কেউ। বছর ঘুরেই এ মাসটিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় প্রত্যেকটি অঞ্চলে এই দিবসটিকে উদযাপন করা হয়। একই সাথে এই বিশেষ দিনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে শহীদদের পরিবারের অনেকটা খোঁজ নেয়া হলেও, দিন যাওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রতি দেখানো সহানুভূতি। বাকি দিন গুলো অবজ্ঞায় আর অবহেলায় পরে থাকে বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পরিবারের মতো শহীদ পরিবারগুলো।

দেশের সাত বীর শ্রেষ্ঠের মধ্যে মোস্তফা কামাল একজন। এরপরও তার পরিবারটি পায়নি সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন সহায়তা। মিউজিয়াম কাম লাইব্রেরী নির্মান প্রকল্পের আওতায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০০৯সালের ৩মে মোস্তফা কামালের বড়ির এক পাশে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করা হয় আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠদের ইতিহাস পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে। তবে প্রায় সময়ই এটি বন্ধ থাকায় দুর-দুরন্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে ফিরে যায়। এছাড়া খোলা থাকলেও দেখার মতো তেমন কোন সরঞ্জামাদি না থাকায় অনেকে একবার এসে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

মোস্তাফা কামালের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত জোট সরকারের আমলে তিনি ঢাকায় মোস্তফা কামালের নামে হওয়া স্টেডিয়ামে মাস্টার রোলে চাকুরী করতেন। তার ঐ চাকুরীটি স্থায়ীকরনের জন্য বার বার সরকারের কাছে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। সেখানে যা বেতন দেয়া হতো তা দিয়ে পরিবারের খরচ তো দুরের কথা নিজে চলাও কঠিন হয়ে যেত। এছাড়া নিয়মিত বেতন ভাতা না পাওয়ার কয়েক বছর আগে মোস্তাফিজ অভিমানে চাকুরী ছেড়ে ভোলায় এসে এখন চাষাবাদ করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, শহীদ পরিবারের তার দুই ছেলে অনার্স শেষ করেও ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারী চাকুরী। কবে সংসারের অভাব দুর হবে এ আশায়ই দিন গুনছে এখন তার পরিবারের।






মন্তব্য চালু নেই