মেইন ম্যেনু

কেমন আছেন সেই রুবেল?

না, তেমন কিছু হয়নি। তবে যেটুকু হয়েছে, ততটুকুই খারাপ থাকার জন্য যথেষ্ট বিশ্বকাপের নায়ক রুবেল হোসেনের জন্য। সামনে দুইটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট-এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অথচ সেখানে খেলতে পারবেন না তিনি। যাত্রাভিনেতার সামনে মঞ্চে অভিনয় চললে, আর সেখানে যদি কোনো অভিনেতা অভিনয় করতে না পারেন, তখন যেমন অনুভূতি হয় ঠিক তেমনই হচ্ছে রুবেলের।

গত ছয় দিন ছুটি ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। ছুটি থাকলেও দুএকজনের দেখা মিলেছে বিসিবি পাড়ায়। রোববার সবাই চলে গেছেন চট্টগ্রামে। আজ থেকে ৮ দিনের ক্যাম্প চলবে সেখানে।

খুলনায় জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগ থেকে প্রায় সব ক্রিকেটারদের খোঁজ-খবর থাকলেও রুবেলের দেখা পাওয়া দায়। গোড়ালির ইনজুরিতে গত কয়েক মাস ক্রিকেট দুনিয়ায় তার পাদচারণা কম। বিপিএলে ইনজুরি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে বিসিবি তাকে দীর্ঘ মেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় পাঠিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে খুব সকালে মিরপুর স্টেডিয়ামে আসেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বাসায় চলে যান।

খুঁজতে খুঁজতে গতকাল রুবেলকে পাওয়া গেল ফোনে। কথা শুনে মনে হল বড় দুই টুর্নামেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে না পারার বেদনা তার মনে জেঁকে বসেছে, ‘সত্যি কথা বলতে কী, মনে হচ্ছে আমার ক্যারিয়ার গত কয়েক মাসে অনেক পিছিয়ে গেল। এত খারাপ লাগছে যে বলে বোঝাতে পারব না।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় বাগেরহাটের এই পেসার ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। ৯ মার্চ অ্যাডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার কল্যাণেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। রুবেলের কাছে সেই দিনগুলো এখন দূর আকাশের তারা, ‘বিশ্বকাপের সময় দারুণ ছন্দে ছিলাম। আমি নিজেও ভাবতে পারিনি এতটা সফল হব। ইচ্ছা ছিল এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলবে। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই…!’

এক বছর আগেও এই রুবেল ছিলেন বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তখন মুস্তাফিজের উত্থান হয়নি। আল-আমিন বিশ্বকাপের সময় থেকে দলছাড়া। তাসকিন থাকলেও তেমন ধারাবাহিক নয়। মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে সবার মনে নানা শঙ্কা। রুবেল তখন বলতে গেলে একাই পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলিয়েছেন।

সেই রুবেল এখন টিভিতে খেলা দেখে সময় কাটান। খেলতে না পারার ব্যথাটা জেগে ওঠে মা-বাবার জন্য, ‘আমি জানি এই অবস্থা থেকে ফিরে আসতে পারব। তবে সময় লাগবে। কিন্তু মা-বাবার জন্য বেশি খারাপ লাগে। তারা ক্রিকেট পাগল। সব সময় আমাকে মাঠে দেখতে চান। আমার কাছে খেলার কথা জানতে চাইলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়।’

‘এখন তো প্রচুর টুর্নামেন্ট হচ্ছে-পিএসএল, এমসিএল। এসব দেখেই সময় কাটছে। টিভিতে সাবেক কিংবদন্তিদের খেলা দেখতে সত্যি ভীষণ মজা লাগে।’

সাবেকদের খেলা দেখাটা মজার, কিন্তু সতীর্থদের টিভিতে দেখলে রুবেলের জন্য তা সহ্য করা কষ্টের। এই কষ্ট বেশিদিন মাথা পেতে নিতে নারাজ তিনি। ‘আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছি। আস্তে আস্তে বল করছি। খুব তাড়াতাড়ি পুরোদমে শুরু করব। যে কোনো মূল্যে আমাকে মাঠে ফিরতে হবে। এখনো অনেক কিছু অপেক্ষা করছে আমার জন্য…,’ হঠাৎ ফোনের ওপার থেকে উত্তেজিত হয়ে ওঠে পেসারের কণ্ঠ। যেন বিরাট কোহলির স্ট্যাম্প ছত্রখান করে দিয়েছেন চোখের নিমিষে!



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই