মেইন ম্যেনু

কেমন হয় ধর্ষণের পরে একটি মেয়ের জীবন…

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ধর্ষণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও যেন নিরাপদ নয় নারীরা। কর্মস্থল থেকে শুরু করে যানবাহনেও নারীরা প্রায়ই ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অবশ্যই এই ঘটনা নিয়ে মাঝেমধ্যেই দেশটিতে জনদ্রোহের খবর আমরা মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারি। ২০১২ সালে দিল্লিতে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার পর দেশটিতে আন্দোলনের ঝড় ওঠে। সে সময় দেশটিতে ধর্ষণবিরোধী একটি নতুন আইন করা হয়। তারপরও নারী ও শিশুদের ধর্ষণ, যৌন হয়রানির খবর আমরা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে পেয়ে থাকি। আর ধর্ষণবিরোধী নতুন আইন করার পরও ২০১৪ সালে ভারতে ৩৫ হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিবিসির চিত্রগ্রাহক শমিতা শর্মা ধর্ষণের শিকার এমন কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ধর্ষণ-পরবর্তী জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসরকারি সংগঠনের সহযোগিতায় শমিতা বছরব্যাপী ধর্ষণের শিকার নারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। আর যাদের ছবি তোলা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই শিশু। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং এই লেখায় তাদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। পাঠকদের জন্য লেখাটি তুলে ধরা হলো :

মোনালিকে (১৩) তার পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক লোক অপহরণ করেছিল। ভারতের উত্তর প্রদেশে মোনালির বাড়ি। ধর্ষক যাদব সম্প্রদায়ভুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। মোনালিকে অপহরণ করে মহারাষ্ট্রের একটি রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পতিতালয়ে বিক্রি করার আগে অপহরণকারীর কাছ থেকে দৌড়ে পালায় মোনালি এবং রেলওয়ে ‍পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলে। কিন্তু পুলিশ মোনালির পক্ষে কাজ করার পরিবর্তে ১২ দিন কারাগারে রাখে এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

২০১১ সালে রিতিকা (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বনে গেলে নিজ গ্রামের এক ব্যক্তি তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। পরে তার মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। রিতিকা বর্তমানে দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ভুগছে এবং ওই ঘটনার পর থেকে সে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের গ্রামে যেসব নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে, তাদের ৬০ ভাগই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে এই হয়রানির শিকার হয়েছে।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি দ্বারা বিদ্যা (১৭) অপহৃত হয়। উত্তর প্রদেশের রবার্টসগঞ্জে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যাকে অপহরণ করে পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বিদ্যার পরিবার বিদ্যাকে সাপোর্ট করে এবং তাৎক্ষণিক তার ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। পরে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে মানসিক সমস্যা ও লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যা।

২০০৮ সালে ভাড়াবাড়ির মালিকের ছেলে দ্বারা কারিশমা (১৭) ধর্ষিত হয়। ধর্ষণের পর সে লজ্জা ও ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু ধর্ষণের ফলে কারিশমা গর্ভবতী হয়ে পড়লে তার মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দল ধর্ষককে বিয়ে করার জন্য তাকে চাপ দেয়। তবে কারিশমা মামলা তুলে নিতে ও ধর্ষককে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে সে কলকাতার একটি উপশহরে ছেলেকে নিয়ে থাকে এবং একটি সেলুনে হেয়ার স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ করে।

আট বছর আগে নেহা (২০) নিজ গোষ্ঠীরই এক ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষিত হন। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর নেহার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ধর্ষককে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। পরে সে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু ওই ধর্ষকের স্ত্রী হতে তিনি কখনো রাজি হননি। ধর্ষণ ঘটনার এক বছর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয় এবং তাকে আদালতে তোলা হয়। নেহা এখন মুড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দৈনিক ১৬ ঘণ্টা কাজ করে সপ্তাহে ৪০০ রুপি আয় করেন।

যখন বর্ষার (১৫) ছবিটি তোলা হয় তখন বর্ষাকে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের পাহারায় ঝাড়খন্ডের রাজমহল জেলা আদালতে তোলা হচ্ছিল। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল। বর্ষা আমবাগানে কাজ করত এবং সেখানেই এক ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষিত হয়। ধর্ষক কাউকে কিছু না বলতে বর্ষাকে হুমকি দেয়। কিন্তু বর্ষা দেখল তার নীরবতার সুযোগে ধর্ষক পুনরায় তাকে ধর্ষণ করতে আগ্রাসী হচ্ছে। শেষে সে তার পরিবারকে ধর্ষণের ব্যাপারে জানায় এবং থানায় অভিযোগ করেন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই