মেইন ম্যেনু

কেরির সফরে বহু ‘জয়’ দেখছে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বঙ্গবন্ধু হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন, তার মেয়ের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের যাত্রা কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশের চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে নিজ দেশে ফিরে পর্যালোচনা করবেন তিনি।

জন কেরির সফরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে কথা হয়েছে। কেরি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ আছে, তারা সহায়তা করতে চান। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষজ্ঞ নন, তথ্য চান তারা।

এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ নানা বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। ফলাফল কী তা নিয়ে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে একটু হলেও নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র। আর এটাই আপ্লুত করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরকে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জন কেরি বাংলাদেশ সফরে শুধু সরকার নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগও লাভবান হয়েছে। তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পিছনেও যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল এমন অভিযোগও আছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করে শোক বইয়ে সই করেছেন। লিখেছেন এই হত্যা ছিল কাপুরোষিত।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, জন কেরির লেখায় ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের মাঝ থেকে একজন প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে যে নৃশংসতায় সরানো হয়েছে তাদের প্রতি ক্ষোভ। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু কন্যার দৃঢ় নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাও স্বীকার করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর যে অবদান সবাইকে স্বীকার করতে হবে। স্বাধীনতার সময় যে তাদের অবস্থান ভুল ছিল তা এখন মানতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। এর একটি অন্যতম উদাহরণ বঙ্গবন্ধু নিয়ে জন কেরির এই উদ্ধৃতি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, জন কেরির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং শোক বইয়ে লেখা তাঁর মন্তব্য তাৎপর্য্যপূর্ণ।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আবার বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে দশম জাতীয় নির্বাচনের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র নানা বক্তব্য দিয়েছিল। কিন্তু কেরি সফরকালে এ বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি, উল্টো কেরি টুইট বার্তায় সরকারে উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন।

কেরির এ বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার একটি ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা মনে করেছিলেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শীতল তাদের জন্য একটি বার্তা দিয়েছেন জন কেরি। সমালোচনাকারীরা হয়তো এখন বুঝতে পারবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর।’

জন কেরির সঙ্গে নিজে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেখা করতে যাওয়াকেও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি গুরুত্ব হারিয়েছে। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময়ও দেখা গেছে বিএনপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে দেখা করতে নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টখানেক আগেই হোটেলে গিয়েছিলেন। এবারও তারা অনেক কষ্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন খালেদা জিয়া।’

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিকে ফিরিয়ে আনতে আশাবাদী সরকার

আওয়ামী লীগের নেতারা সবচেয়ে স্বস্তিতে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশের চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে জন কেরির ‘ইতিবাচক’ মনোভাব নিয়ে। জেরির সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীরা। আর কেরি বলেছেন, দেশে ফিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কষ্ট তিনি বোঝেন- কেরির এমন মন্তব্য আশাবাদী করছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা জন কেরির কাছে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফিরিয়ে দেওয়া দাবি জানিয়েছি। তিনি সব ব্যাপারেই পজেটিভ বলেছেন।’

ক্ষমতাসীন নেতারা বলছেন, কেরির এ মন্তব্যে মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেছে।

কেরি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেছেন। এটাও ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

জন কেরি তাঁর টুইট বার্তায় লেখেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যু ও চরমপন্থি সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় সহযোগিতা নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই