মেইন ম্যেনু

“কোনো কিছু আড়ালে করা হয়নি, কাজের স্বচ্ছতা শতভাগ”

dmpকোনো কিছু আড়ালে করা হয়নি, আমরা আমাদের কাজের স্বচ্ছতা কিন্তু শতভাগ মেইনটেইন করেছি। ভবিষ্যতেও করব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তল্লাশির সময় সাংবাদিকদের সরিয়ে দেওয়া ও কাছে না যেতে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৮ তারিখ রাতে আমি নিজে ওখানে ছিলাম। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অনেক সাংবাদিকের সাথে আমি কিন্তু ওখানে অবস্থান করেছি। পরদিন যখন পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হলো তখন সাংবাদিকদের দূরে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। আগের দিন যখন মূল উদ্ধারকাজ চলে তখন সাংবাদিক এবং আমরা পাশাপাশি থেকেই কিন্তু উদ্ধারকাজ অবলোকন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯ তারিখে সংবাদকর্মীদের দূরে রাখা হয়েছিল এ কারণে যাতে তল্লাশিকার্যটা ব্যাহত না হয়। তবু সেটিও কিন্তু টেলিভিশনে লাইভ দেখা গেছে। কারণ মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে এলাকাটি খুবই কাছে। দূর থেকে জুম দিয়ে এটি লাইভ করা সম্ভব ছিল। কোনো কিছু আড়ালে করা হয়নি, আমরা আমাদের কাজের স্বচ্ছতা কিন্তু শতভাগ মেইনটেইন করেছি। ভবিষ্যতেও করব।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো একেবারেই নতুন। তবে পানির মধ্যে ফেলার কারণে তাতে রাস্ট পড়েছে। স্টিল বা লোহা যখন আপনি পানির মধ্যে ফেলবেন তখন তাতে রাস্ট পড়বেই। এটাকে একটু ঘষে দেখলেই দেখা যাবে অস্ত্রগুলো একদম নতুন। এতে কোনো সন্দেহ নেই, আমরা ব্যাপকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি অস্ত্রগুলো একেবারেই নতুন প্যাকড করা। বড় ধরনের নাশকতার জন্যই দিয়াবাড়িতে খালে অস্ত্রের মজুত করা হয়েছিল। এটা কোনো সাধারণ অপরাধীদের কাজ নয়। যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল, নারী-শিশুদের পুড়িয়ে হত্যা করেছিল এটা তাদেরই কাজ হতে পারে। অতীতে এই ধরনের যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল এবং ২০১৫ সালের প্রথম ৯২ দিনে যে সহিংসতা, নজিরবিহীন তাণ্ডব আমরা দেখেছি সেগুলো কিন্তু আমরা কঠোরভাবে দমন করেছি। যারা এগুলো করেছে এটাও তাদের কাজই হতে পারে।’

কালো রঙ্গের নম্বরবিহীন গাড়িটি অস্ত্র নিয়ে চেকপোস্ট এলাকা পার হয়ে কিভাবে ঘটনাস্থলে গেল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিরপুর ব্রিজ ও আশুলিয়া স্টেশনের দূরত্ব এক কিলোমিটার। এক কিলোমিটার দূরে দুই পাশে পুলিশের দুইটি স্থায়ী চেকপোস্ট রয়েছে। সূতরাং চেকপোস্টের দিক থেকে গাড়িটি আসার কোন প্রশ্নই উঠে না। উত্তরা ১৪, ১৫, ১৬ সেক্টর দিয়াবাড়ির পর থেকে পুরো এলাকাটাই বিস্তীর্ণ। এখানে মাত্র রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে, কোন জনবলও নেই। আমাদের ধারণা কোন এক সময় অস্ত্রগুলো উত্তরাতে আনা হয়েছিল এবং উত্তরার ভেতর দিক থেকেই গাড়িটা এসে এখানে অস্ত্রগুলো ডাম্পিং করে গেছে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের এক পুলিশ সদস্য তার পরিবারকে নিয়ে বৌদ্ধমন্দির দেখার জন্য গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তিনি দেখতে পান একটা গাড়ি থেকে বস্তাজাতীয় কিছু ফেলছে। তখন তার ধারণা হয়েছিল তারা হয়তো লাশ ফেলছে। কারণ তুরাগ এলাকায় ইতিপূর্বে অজ্ঞাত লাশ ফেলার অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। তাই তিনি সেটা মনে করেই মোটরসাইকেলটা একটু এগিয়ে নিয়ে থেমে থানার ওসিকে ফোন করেন। ২০ মিনিটের মধ্যে ওসি তার দলবল নিয়ে পুরো এলাকা ঘেরাও করে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার শুরু করে। ততক্ষণে কিন্তু সেই গাড়িটি উত্তরার দিকে চলে গিয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই