মেইন ম্যেনু

কে এই মোস্ট ওয়ান্টেড আব্দেল হামিদ আবাউদ?

প্যারিস হামলার পরে ফ্রান্সের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজছে আইএস জঙ্গি আব্দেল হামিদ আবাউদকে। গোটা ইউরোপে তিনি এখন মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী। কিন্তু শুধু প্যারিস হামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত আইএস জঙ্গি বললে তার পুরো পরিচয় সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায় না। আব্দেল হামিদ আবাউদ আইএসের সাধারণ কোনো সদস্য নন, তিনি শীর্ষ স্থানীয় একজন যোদ্ধা। তার উপর সমগ্র ইউরোপে জঙ্গি অভিযান চালানোর দায়িত্ব আরোপ করেছে ইসলামিক স্টেট।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, আব্দেল হামিদ আবাউদের সাথে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।এমনকি ইউরোপে আইএস যত সন্ত্রাসী হামলা চালায় তার মূল নকশা এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা করেন তিনি। ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা আইএসের অন্যান্য সদস্যদের সাথেও তার যোগাযোগ রয়েছে।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্যারিস হামলার আগে থেকেই এই আবাউদ ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের তালিকায় প্রথম দিকে ছিল এবং গত মাসে তাকে উদ্দেশ করে সিরিয়াতে বিমান হামলা চালিয়েছিল ফরাসি।

ফরাসি সেনাবাহিনী গত অক্টোবর মাসে আবাউদকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিরিয়ার রাক্কাতে একটি ট্রেনিং ক্যাম্পে বিমান হামলা চালায়।

ফ্রান্স সন্ত্রাসবিরোধী সূত্র থেকে বলা হয়, আবাউদ ক্যাম্পের বিদেশি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিতেন এবং বেশিরভাগ সময়ই ক্যাম্পের ভেতরে থাকতেন কিন্তু বিমান হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন কি না সেটা নিশ্চিত জানা যায়নি।

ফ্রান্সের প্রাক্তন সন্ত্রাসবিরোধী প্রধান বিচারক জন লুই ব্রুগেঁ সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, প্যারিস হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয় সিরিয়াতে এবং আবাউদের সাথে তখন অবশ্যই আইএস নেতা বাগদাদির যোগাযোগ ছিল।

তিনি আরো বলেন, আইএস নেতা বাগদাদির স্বপ্ন হচ্ছে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত করা এবং যুদ্ধ করে সেটাকে পশ্চিমা দেশে নিয়ে যাওয়া। কাজেই গোটা ব্যাপারটা খাপেখাপে মিলে যায়।

সন্ত্রাসী সালাহ আব্দেস সালেমের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগও প্যারিস হামলার সাথে আবাউদের যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দেয়। সালাহ আব্দেস সালেম প্যারিস হামলার পর পালিয়ে বেড়ানো আটজন আসামির একজন এবং তার সাথে আবাউদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তারা একত্রে বেলজিয়ামের মলেনবেকে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছে।

ফ্রান্সের সংবাদপত্র লা মঁদ জানিয়েছে, আইএসের একজন ফরাসি সদস্যকে গত আগস্ট মাসে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি বলেছেন, আবাউদ আইএসের একজন উচ্চপর্যায়ের সদস্য এবং আবাউদ তাকে ফ্রান্সের কনসার্ট হল আক্রমণ করার কথা বললে তিনি তাতে সম্মত হননি।

বেলজিয়ামের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য থেকেও একইরকম দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। শেষদিকে আইএস তাদের ইউরোপিয়ান সদস্যদেরকে দিয়ে ইউরোপ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। আবাউদ যেহেতু একসময় বেলজিয়ামের মলেনবেকে বসবাস করতো সেহেতু তার সাথে গ্রিক এবং সিরিয়ার আরো বেশ কিছু আইএস জঙ্গিদের ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তাছাড়া ২০১৪ সালের মে মাসে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের একটি ইহুদি জাদুঘরে হামলা করে ৪ জনকে মেরে ফেলার আসামি মেহেদি নেমুচের সাথেও আবাউদের যোগাযোগ ছিল। এই রকম আরও অনেকগুলো জঙ্গি হামলার আসামিদের সাথে আবাউদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে অনলাইন ভিত্তিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘ডাবিক’ এ আইএসের উপরে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আবাউদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি সত্ত্বেও আমি ইউরোপ এবং সিরিয়াতে যাতায়াত করেছি। আমার নাম এবং ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা সত্ত্বেও আমি তাদের দেশে বসেই তাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করেছি এবং সময়মত সেখান থেকে চলে এসেছি।’

২০১৪ সালে আইএসে যোগ দেয়ার পরে আবাউদ যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অবস্থায় নিজের বেশ কিছু ভিডিও ধারণ করে সেটা অনলাইনে পোস্ট করেন। এরকমই একটা ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘শুধু রক্ত দেখে মজা পাওয়ার কিছু নেই, বরং যখন আমি অবিশ্বাসীদের রক্তপাত দেখি তখন সেটা আমাকে তীব্র আনন্দ দেয় কারণ বেড়ে ওঠার সময় আমি টিভিতে সারা বিশ্বে মোসলমানদের রক্তপাত দেখেছি।’

আবাউদ খুব সম্ভবত ২০১৪ সালের প্রথম দিকে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেন। এর কিছুদিন পরেই তার ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাই সেখানে যোগ দেয়। আবাউদের পরিবার বসত করে বেলজিয়ামে। পরিবার থেকে জানানো হয়, আবাউদ সিরিয়াতে চলে যাওয়ার পরে তার কাছ থেকে আর কোন সংবাদ তারা পাননি। তবে গত বছরের অক্টোবর মাসে তারা খবর পান আবাউদ যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছেন। বেলজিয়ামের সন্ত্রাসবিরোধী কর্তাব্যক্তিদের মতে, আবাউদ ইচ্ছা করেই নিজের মৃত্যুর ‍গুজব ছড়াই যাতে করে খুব সহজেই সে ইউরোপে যাতায়াত করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার প্যারিসে ধারাবাহিক হামলায় ১২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।। এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজনদের মধ্যে আব্দেল হামিদ আবাউদকে মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই