মেইন ম্যেনু

কে রে তুই? আমি ভুতু গো ভুতু…

কিছু হলেই খিলখিলিয়ে হাসে পুতুল পুতুল মেয়েটা। মাঝে মধ্যে অভিমানও দেখায় বেজায়। রেগে গেলে তো ভয়ঙ্কর। আর মা-বাবার কথা মনে পড়লে মনটাকে ভারী করে কোথও বসে থাকা। পুঁচকি মতো একটা ভূত। এ যাবৎ দেখা সবচেয়ে মিষ্টি ভূতও বটে। বিপদে এগিয়ে আসাই যে তার কাজ। তবে বাড়ির বাইরে সে বের হয় না। কারণ যে কোনো সময়ই ফিরে আসতে পারে তার বাবা-মা, যারা তাকে এ বাড়িতেই ফেলে চলে গেছে।

‘ভুতু’। এই সিরিয়ালের টানেই এখন জি বাংলায় চোখ সব বাঙালির। আর ভুতু হলো আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়। ক্লাস ওয়ান পড়ে সে। বলতে গেলে একটা পাকনা বুড়ি। সিরিয়ালে সেই মেয়ে অবশ্য বোঝেই না যে সে ভূত। জানে না মারা গেছে সে। ছোট্ট ভুতু ভাবে, সে ঘুমোচ্ছিল, এই ফাঁকে তাকে বাড়িতে একা ফেলে রেখে মা-বাবা চলে গেছে কোথাও।

বছর ছয়ের খুদে তাই খেলার সঙ্গী খোঁজে। আড়ি ভাব করে। বাড়িতে ভাড়াটে হয়ে আসা পরিবারগুলোর সঙ্গে মিশতে চেয়ে নানা কাণ্ডকারখানা ঘটিয়ে ফেলে। নিজের মতো করে চেষ্টা করে তাদের উপকার করতে। তা করতে গিয়েই আবিষ্কার করে, তাকে দেখতেই পাচ্ছে না কেউ। আর তারপর বাকিটা ম্যাজিক!

ভুতুর বেশভূষাটাও মানুষকে আকর্ষণ করে। নিজের থেকে অন্তত তিনগুণ বড় সাইজের শার্ট, টিশার্ট বা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে ঘুরঘুর করা সেই কুট্টি ভূতের কাণ্ডকারখানা দেখতে রোজ রাতে টিভির সামনে বসেন প্রায় অন্তত কোটি খানেক মানুষ। ওপার বাংলা এবং এপার বাংলা এক হয়ে যায় তখন।

মাস কয়েক হল, ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে ভুতু। রাস্তায় দেখলে ঘিরে ধরে লোকে, পাড়ায় তো নামই হয়ে গিয়েছে ‘জুনিয়র সুচিত্রা সেন’। হবেই না বা কেন? প্রোডাকশনের দিদি তো সগর্বে বলছেন, ‘জানেন, আজ অবধি একটা শটও এনজি হয়নি ওইটুকু মেয়ের! এতো সিরিয়াসলি কাজ করে। ও অনেক দূর যাবে।’

আর জনপ্রিয়তা? ফেসবুক পেজে লাইকের বন্যা ভুতুর একের পর এক মিষ্টি মিষ্টি ছবি আর ভিডিওতে। দর্শকসংখ্যা রোজই আকাশছোঁয়া।

প্রযোজক সংস্থা শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের মহেন্দ্র সোনি বলেন, ‘আর্শিয়া প্রথম এসেছিল ‘পটলকুমার গানওয়ালা’র ছোট্ট একটা চরিত্রে। মেয়েটা এতো সুইট আর এতো ভালো কাজ করছিল যে, তখন ওকে দেখেই ‘ভুতু’র প্ল্যান মাথায় আসে আমাদের স্ক্রিপ্ট রাইটার সাহানার। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। ব্যস আইডিয়াটা আমাদের সবার মনে ধরে গেল সঙ্গে সঙ্গে। আর তার রেজাল্ট তো দেখতেই পাচ্ছেন।’



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই