মেইন ম্যেনু

কোকেনকাণ্ডের নাটেরগুরু আফ্রিকান জোসেফ

হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার দুই কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেন পাউডারসহ আটককৃত এক পেরুর নাগরিক জেইম বার্ডলেস গোমেজের (৫৮) নামে পল্টনের একটি হোটেলের কক্ষ তিনদিনের জন্য বুকিং দেয়া ছিল। এই বুকিং দেন জোসেফ নামে এক আফ্রিকান নাগরিক। পাঁচ হাজার ডলারের বিনিময়ে তার হাতেই চালানটি পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল জেইমের। আর সিভিল এভিয়েশনের কর্মী সালাউদ্দিন (৪০) ও আবদুল সালাম (৪০) পেরুর নাগরিক জেইমকে হোটেলে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

মঙ্গলবার বিমানবন্দরে ব্রাজিল থেকে দুবাই হয়ে আসা জেইমকে কোকেনের প্যাকেটসহ আটক করে ডিএনসির কর্মকর্তারা। এসময় দুই সিভিল এভিয়েশন কর্মী সালাউদ্দিন ও সালামকেও আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত কোকেনের মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে কোকেনের এই চালানটি পশ্চিম ইউরোপের কোনো দেশে পাঠানো হচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ভোজ্যতেলের সঙ্গে আনা তরল কোকেনের একটি চালান ধরা পড়ে। ওই চালানটি এসেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া থেকে। পেরু ও বলিভিয়া পাশাপাশি দেশ।

ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ‘আটক জেইম ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে প্রথমে বাসে পেরুতে যান। এরপর সেখান থেকে বিমানে যান দুবাই। সেখান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাহজালালে অবতরণ করেন জেইম। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার ট্রলিব্যাগ তল্লাশি করে দুই কেজি ৩০০ গ্রাম পাউডারজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। এ সময় সালাউদ্দিন ও সালামকেও আটক করা হয়। তারা জেইমকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।

পরীক্ষা করে দেখা গেছে, উদ্ধারকৃত পাউডার আসলে কোকেন। যার মূল্য অন্তত ৬০ কোটি টাকা। ডিজি আরও জানান, এই অভিযানে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সহায়তা করেছে।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা জানান, কোকেনের চালানটি কালো পলিথিনে মোড়ানো ছিল। পেরুর ওই নাগরিকের নামে পল্টনের ভিক্টোরিয়া হোটেলে তিন দিনের জন্য একটি কক্ষ বুকিং করা ছিল। জোসেফ নামের একজন আফ্রিকানের কাছে তার কোকেনের প্যাকেটটি পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে জেইমকে পাঁচ হাজার ডলার দেয়ার চুক্তি হয়। আফ্রিকা হয়ে কোকেনের চালানটি পশ্চিম ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল।

ডিএনসির সহকারী পরিচালক (অপারেশন) লুৎফর রহমান বলেন, ‘জেইম ব্রাজিল থেকে দুবাই হয়ে ভারতে যাচ্ছিলেন। পথে রুট পরিবর্তন করে বাংলাদেশে চলে আসেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে তরল কোকেনের চালান আটক হওয়ার পর এই চালান আটকের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে এই কোকেনের রুটের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’

ডিএনসির প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা দুলাল কুষ্ণ সাহা জানান, কোকেন উদ্ধারের পর বিমানবন্দরেই তা কিট ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় উদ্ধার করা দ্রব্য উন্নতমানের কোকেন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যে মান চিহ্নিত করা গেছে, এ মানের কোকেনের বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩৫ কোটি টাকা।

ডিএনসির সহকারী পরিচালাক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চালান উদ্ধারের ঘটনার সূত্রপুর সার্কেলের পরিদর্শক ওবায়দুল কবির বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত জেইম ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে- বাংলাদেশে তিনদিন অবস্থানের কথা থাকলেও এটি ছিল তার ট্রানজিট রুট।’



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই