মেইন ম্যেনু

কোচ হাথুরুসিংহেকে কড়া জবাব দিলেন সাকিব

আর একটু পরেই মহারণ। এই মহারণ বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ের। তবে এর আগে হয় অন্যরকম লড়াই। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোচ হাথুরুসিংহেকে কড়া জবাব দিলেন সাকিব আল হাসান।

এই সাথে আজকের ম্যাচে ভালো করার পণও সাকিবের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই হেরেছিল বাজেভাবে। এজন্য দলের প্রধান কোচ দায়ী করেছেন সিনিয়রদের ভূমিকার। তার মতে বিদেশের মাটিতে সিনিয়র ক্রিকেটারদেরই বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। এখানে নতুনদের ওপর ভরসা রাখা উচিত নয়। তিনি বলেছেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটারদের এগিয়ে আসতেই হবে।

বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে গিয়ে প্রথম সফরে আসা নতুন ছেলের ওপর বেশি ভরসা করা যায় না।’ কোচের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তিনি কথা বলেছেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে। সেখানেই তিনি কোচের মতামতের উল্টো সুরে বলেন, ‘যদি এভাবে ভাবা হয় যে সিনিয়ররাই সব করবে, তাহলে তো আপনাকে পাঁচ জন খেলোয়াড় নিয়েই খেলতে হবে। কিন্তু খেলোয়াড় তো ১১ জন। ছয় জন জুনিয়র খেলোয়াড় যখন খেলবে, তখন তাদেরও কাজ আছে।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বোলাররা ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েসরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়েছে ৩৪১ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে। পরের ম্যাচে বোলাররা ২৫৫ রানে নিউজিল্যান্ডকে আটকে সুযোগ এনে দিয়েছিল প্রথম জয়ের। কিন্তু মুশফিকুর রহীম ইনজুরিতে দলের বাইরে ছিটকে পড়ায় তামিম, মাহমুদুল্লাহ, সাকিব, ইমরুলরা দলকে জয়ের ভিত গড়ে দিতে ব্যর্থ হন। সেই সঙ্গে তৃতীয় ওয়ানডেতেও তামিম ছাড়া ব্যর্থ দলের সব সিনিয়র ক্রিকেটারই।

যে কারণে কোচ মনে করেছেন, অভিজ্ঞদের দায়িত্বটা ছিল সবচেয়ে বোশি। কারণ, তারা এই কন্ডিশন ভালোভাবে চেনেন। সত্যিটা অবশ্য সাকিব মেনে নিলেও তার নিজস্ব কিছু যুক্তি ও মত আছে। সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, সিনিয়রদের দায়িত্ব তো একটা থাকেই। তবে যদি চিন্তা করেন সিনিয়ররাই সব করবে, তাহলে তো হবে না। জুনিয়র ক্রিকেটার যখন খেলবে, তাদেরও কাজ আছে। আমরা বিশ্বাস করি, যে যার জায়গায়ই খেলুক বা ম্যাচে যে যেখানেই খেলুক, সবাই কাজটা ঠিকমতো করতে পারলেই আমরা জিতবো।’

নিউজিল্যান্ডে প্রথম ম্যাচেই দলের হয়ে ফিফটি হাঁকিয়েছেন দলের জুনিয়র ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অবশ্য পরের দুই ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি তিনি। কিন্তু পরের ম্যাচে মুশফিক ও মোস্তাফিজ না থাকায় দলে তিনটি পরিবর্তন আসে। পেসার শুভাশীষ খুব খারাপ না করলেও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। নূরুল হাসান সোহান ওয়ানডে অভিষেকে দলের বিপর্যয়ে ৮ নাম্বারে নেমে ২৪ রানের ইনিংস খেলে লড়েছেন। পরের ম্যাচেও বিপর্যয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৪ রান। একমাত্র অভিক্ত লেগস্পিনার তানভির হায়দার ছাড়া নতুন দু’জন খুব খারাপ করেছে তা বলা যায় না।

সাব্বির রহমান রুম্মান চেষ্টা করেছেন প্রথম ম্যাচে। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন হারে যেমন সিনিয়রদের ব্যর্থতা ছিল তেমনি জুনিয়ররাও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু বাইরে থেকে কোচের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। যেমন, নাসির হোসেনকে দলে না রাখা, রুবেল হোসেনকে একাদশে না খেলিয়ে শুভাশীষ ও তানভিরকে বিপরীত পরিবেশে দলে রাখা ও খেলানো নিয়েও সমালোচনাও কম হচ্ছে না।






মন্তব্য চালু নেই