মেইন ম্যেনু

‘কোনও মহিলাই স্বামীর অন্য প্রেমের সম্পর্ক মানতে পারেন না’

চরিত্রের খাতিরে বয়সের সঙ্গে আপসে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রেমিক ঠকালে আপস করবেন না মোটেই! ‘ওবেলা’র সঙ্গে অকপট রাইমা সেন।

অকপট রাইমা সেন ‘ক্ষত’য় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং পাওলি দামের চরিত্র নিয়েই বেশি আলোচনা শোনা যাচ্ছে। আপনার চরিত্রটা কি ততটা জোরাল নয়?

ত্রিভুজের তিনটে রেখা সমান না হলে কিন্তু গল্পটাই জমে না! ওদের চরিত্র নিয়ে কথা হওয়ার কারণ আছে। ওদের দৃশ্যগুলো বেশ বোল্ড। যে রকম দৃশ্য এখনও পর্যন্ত বাংলা ছবিতে দেখানো হয়েছে বলে মনে হয় না। আর সাহসী দৃশ্য থাকলে তো সে সব বিষয় নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হয়। চরিত্রের দিক থেকে দেখতে গেলে তিনজনেই সমান। এছাড়া ত্রিধা আর রণদীপের চরিত্রগুলোও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে ওরা এক অল্পবয়সি জুটি।

রাইমা সেন আর ইয়ং জেনারেশনের চরিত্র করেন না বলছেন!
(হাসি) তা কেন? যে চরিত্রে যেমন। আমি তো কতদিন আগেই বয়সের তুলনায় ভারী চরিত্র করেছি। এই ছবিটা আমাদের প্রজন্মের এবং তার পরের প্রজন্মের জন্যেও। ‘ক্ষত’র বিষয়টার সঙ্গে সকলেই সঙ্গে রিলেট করবেন।

আপনার কোনও সাহসী দৃশ্য নেই ছবিতে?
নাহ্‌। যদিও সাহসী দৃশ্য নিয়ে আমার কোনও ন্যাকামি নেই। শুধু বাবা-মা’ই যা একটু বেশি খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে (হাসি)! ‘ক্ষত’য় বুম্বাদার সঙ্গে আমার প্রেমটা অনেক বেশি প্লেটোনিক। আমাদের একটা মানসিক যোগাযোগ রয়েছে। দু’জনেই দু’জনকে ভালবাসে। তবে নির্বেদ লাহিড়ী (প্রসেনজিতের চরিত্র) লেখক। সেই জায়গা থেকে সে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেশে। মহিলাদের সঙ্গে ইনভল্‌ভড হয়ে পড়ে। শারীরিকভাবেও। সবটাই কিন্তু লেখার প্লট খোঁজার তাগিদে। এটাকে ইরোটিক থ্রিলার বলা যেতে পারে। কমলদা (কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়) বিষয়টা খুব ভাল সামলেছেন। বাংলায় তো এ ধরনের কাজ হয় না। উনি খুব সুন্দর করে সাহসী দৃশ্যগুলো শ্যুট করেছেন।

‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’এর সঙ্গে কি মিল রয়েছে?

আমার মনে হয় না।

স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে প্রেম করছে দেখে আপনার চরিত্রের প্রতিক্রিয়া কী?
বিষয়টা জেনে সৃজিতা, মানে আমার চরিত্রটা রেগে অবশ্যই যায়। কিন্তু সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। আসলে সন্তানের জন্যই পারে না। যদিও মেয়েটি সব জেনেই প্রেম করেছে। বললাম না, ওদের মধ্যে একটা প্লেটোনিক প্রেম রয়েছে।

সৃজিতা নিজেকে প্রতারিত মনে করে না?
একশোবার করে! সে তো নির্বেদের স্ত্রী রে বাবা! যতই উদার হোক না কেন, যদি জানতে পারে হাজব্যান্ড চিট করছে, তার অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, রাগ হবেই। রাগটা অবশ্য এক্ষেত্রে আন্ডার স্টেটমেন্ট। মহিলারা প্রচণ্ড পজেসিভ হন স্বামী বা প্রেমিকের ক্ষেত্রে। কোনও মহিলাই স্বামীর অন্য প্রেমের সম্পর্ক মানতে পারেন না। বাচ্চার কারণে সৃজিতা বিয়ে থেকে বেরিয়েও আসতে পারে না। আর এ রকমই তো হয়ে থাকে। মহিলারা স্বামীর অন্য সম্পর্কের কথা জানলেও, বাচ্চার কারণে আপস করে নেন। অনেকে আবার সম্পর্ক থেকে বেরিয়েও আসেন।

আপনি প্লেটোনিক লাভে বিশ্বাসী?
বিয়ের কিছুদিন পর সব প্রেমই তো প্লেটোনিক হয়ে যায় বলে মনে হয়! যদিও আমার এখনও বিয়ের অভিজ্ঞতা হয়নি (হাসি)। কিন্তু বিবাহিতদের মধ্যেও প্রেমে পড়ার প্রবণতা কম নয়। একজন মানুষ একাধিককে ভালবাসতেই পারেন। আলাদা আলাদা কারণে ভাললাগা আসে।

বলছেন একই সময়ে একাধিক মানুষের সঙ্গে প্রেম করা যায়?
আমার তো মনে হয় যায়। একজনের প্রতি হয়তো শারীরিক আকর্ষণ রয়েছে। অন্যজনের সঙ্গে মানসিক যোগ বেশি। ইন্টালেকচুয়াল ম্যাচ বলেও একটা ব্যাপার রয়েছে। সমাজের কিছু নিয়ম মেনে আমাদের থাকতে হয়। কিন্তু ব্যতিক্রমও তো আছে। নির্বেদ সে রকম। যারা ব্যতিক্রম তাদের কিন্তু আমরা হিরো বানাই। আসলে আমরা ও রকমই ব্যতিক্রম হতে চাই। আর চাইব না-ই বা কেন? সমাজের কিছু ঠুনকো নিয়ম মেনে হবেই বা কী! সমাজের চোখে যেটা খারাপ, সেটা আমার জন্য ভাল হতেই পারে। আমাদের সকলের জীবনেই কিছু সাদা-কালো আছে। কালো দিকটা আমরা যতটা পারি ঢেকে রাখার চেষ্টা করি।

বয়ফ্রেন্ড চিট করলে আপনি কী করবেন?
ছেড়ে দেব। নয়তো আমিও চিট করব (হাসি)! সমান-সমান হতে হবে তো।

আপনার কালো দিকটা কী রকম বলুন তো?
(হাসি) ওটা ঢাকাই থাক। তবে আমার ব্যাপারে সকলেই তো সব জানে। আই অ্যাম অ্যান ওপেন বুক।

কিন্তু মাঝেমধ্যে আপনি ইচ্ছে করে অন্য রকম একটা ইমেজ তুলে ধরেন। বিভ্রান্তি ছড়াতে ভালবাসেন?
ওটা আমার দুষ্টুমি। মাঝেমধ্যে একটু মিস্টিরিয়াস হতে ইচ্ছে করে (হাসি)! অনেকে কিন্তু সত্যিই আমাকে মিস্টিরিয়াস ভাবে। পরে ভাল করে আলাপ হয়ে গেলে অবশ্য ধারণাটা ভেঙে যায়!

আপনার কমিটমেন্ট ফোবিয়া এখনও আছে?
মনে হচ্ছে আছে। আপনি বিয়ের প্রসঙ্গে বলছেন তো?

হ্যাঁ।
(একটু থেমে) সাবকনশাসলি নিশ্চয়ই আছে। এখন ঠিক বুঝতে পারছি না। বিয়ে নিয়ে আলোচনা হলেই হয়তো ব্যাপারটা শুরু হয়ে যাবে (হাসি)!

পছন্দের মনসুন ফুড
আমি ফুডি নই। মুড অনুযায়ী খেয়ে ফেলি।

পছন্দের থ্রিলার মুভি
অনেক আছে। এই মুহূর্তে ‘ফেটাল অ্যাট্রাকশন’, ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ মনে পড়ছে।

বর্ষার ফ্যাশন টিপ্‌স
বুট্‌স পরলে ভাল হয়। এমন কিছু না পরাই ভাল, যাতে পা নোংরা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হালকা রঙের পোশাক পরতে পারলে ভাল। কারণ বৃষ্টি হলেও এখানে আর্দ্রতা বড্ড বেশি। তাই চড়া রং না পরাই ভাল।

রাইমার ‘মি টাইম’
প্রচুর মুভি দেখি। ‘উড়তা পঞ্জাব’, ‘ওয়েটিং’, ‘ফোবিয়া’— সবক’টাই ভাল লেগেছে। নেটফ্লিক্স’এও পর পর ছবি দেখে যাই। টিভি সিরিজ দেখি। ‘গেম অফ থ্রোন্‌স’, ‘হাউস অফ কার্ডস’। মি-টাইমটা মুম্বইয়েই কাটাতে বেশি পছন্দ করি। কলকাতা মানেই কাজ আর কাজ!-এবেলা






মন্তব্য চালু নেই