মেইন ম্যেনু

‘কোন পথে খালেদা, কোথায় যাচ্ছে বিএনপি’

চলতি বছর টানা তিন মাস আন্দোলনে ‘ব্যর্থ’ হয়ে দল গুছানোর ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ ঘোষণার দুই মাস পরও দৃ্শ্যত কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।

এ ছাড়া সম্পতি দলের দুই শীর্ষ নেতার ফাঁস হওয়া ফোনালাপে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আর্দশ থেকে দল সরে গেছে— এমনটাও উঠে এসেছে। এমন অবস্থায় বিশিষ্টজনরা বলছেন, কোন পথে খালেদা জিয়া, কোথায় যাচ্ছে বিএনপি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘এখনো পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না তারা (খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি) কোন পথে এগোচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভিতরকার অবস্থা বাহির থেকে পরিষ্কার বুঝা মুশকিল। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বিএনপি অসংগঠিত, দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় রয়েছে।’

মিজানুর রহমান শেলী বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেভাবে প্রভাব রাখার কথা, সেভাবে প্রভাব রাখতে পারবে না। সে জন্য কী করণীয় তা অবশ্য খালেদা জিয়াই ঠিক করবেন, যদি সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এগোতে পারেন ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’ বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব এনে নিজেদের সেখানে তৈরি করতে হবে বলেও মনে করেন শেলী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, ‘দল গুছানোর জন্য যেভাবে প্লান-পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেভাবে তিনি(খালেদা জিয়া) কাজটি পারেননি। দলের অনেক নেতাই এখনো প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না, তা ছাড়া অনেকেই আবার কারাগারে অন্তরীণ আছেন। সুতরাং আরও কিছুদিন সময় হয়ত লাগতে পারে।’

সম্প্রতি দলের দুই শীর্ষ নেতার ফোনালাপ ফাঁস হয়। এতে দলের দলীয় বিভিন্ন দুর্বল দিক উঠে আসে। ‘এই বিএনপি দিয়ে হবে না’- বলে মন্তব্য করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে মুঠোফোনে আন্দোলনোত্তর বিএনপির নীতি-কৌশল নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে মওদুদ ওই মন্তব্য করেন। ফোনালাপটি হয় ৪ মে। এ সংবাদটি একটি জাতীয় দৈনিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপের একপর্যায়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘শোনো (আবেদ) এই বিএনপিকে দিয়ে হবে না। এটুকু জেনে রাখো।…জিয়াউর রহমানের বিএনপি যদি করতে পার…।’

এ ছাড়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রইস উদ্দিন রইসের একটি ফোনালাপ ‘বাংলা লিকস’ নামে ইউটিউবে এটি প্রকাশ করে। ৩ জুনের এই ফোনালাপটি প্রকাশ হয় ৫ জুন। এতে উঠে এসেছে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাসিনা-খালেদা টেলিফোন আলাপ, চীন, জামায়াত, সেনাবাহিনী, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন ও সিনিয়র নেতাদের জামিনসহ নানা প্রসঙ্গ।

এদিকে ৪ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করেন- ‘বিএনপি থেকে জিয়াউর রহমান নির্বাসিত’। সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিএনপি আজ হাজার হাজার মাইল দূরে সরে গেছে। এ জন্য বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বজনপ্রীতি, কলুষিত, অবক্ষিত আর রুগ্ন দলে পরিণত হয়েছে।’

অনেকেই বলাবলি করছেন- ‘বিএনপি পথ হারিয়েছে’ যদি তাই হয় তবে পথ খুঁজে নিতে হবে উল্লেখ করে জেনারেল মাহবুব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি স্পর্শ করে নাই। তাই বিএনপিকে পথ খুঁজে পেতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করতে হবে।’

সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বিনাশ হওয়ার দল নয়। হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। জাতীয়তাবাদী শক্তি বিনাশ কখনই বিনাশ হতে পারে না। মনীষীরা বলে গেছেন জাতীয়তাবাদী দর্শন ধারণ করলে সেই জাতি বিনাশ হয় না। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবে।’

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এর পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বিএনপির বেশির ভাগ নেতা। গত ৫ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিনা বাধায় নিজের বাসভবনে ফিরে যান। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়। অবশ্য নির্বাচনের পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলেও বেশির ভাগ নেতাই আত্মগোপনে রয়ে গেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার আতঙ্কে নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন না।দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই