মেইন ম্যেনু

কোন ভূতে ভর করলে কী হয়? কী বলছে সেই ভারতীয় পরম্পরা?

কেবল ভারতীয় নয়, ‘আরব্য রজনী’-তে উল্লিখিত জিন বা হুরিরাও কখনও উপকারী, কখনও অপকারী। বিলেতের ভূত-অপদেবতাদের মধ্যেও এই ভাল-মন্দ বিভাজন রয়েছে। তবে এখানে আলাপ সীমায়িত থাকবে ভারতীয় পরম্পরায় উল্লিখিত অতিপ্রাকৃত এবং তাদের প্রভাবের মধ্যেই।

প্রেত ও অতিলৌকিক জগৎ সম্পর্কে ভারতীয়দের চর্চা সভ্যাতর শুরু থেকেই। দেবতাদের জন্মের আগেই প্রেত ও অতিপ্রাকৃত অপদেবতাদের কথা ভেবেছিল আদিকালের মানুষ, এমনটাই বলে থাকেন নৃতাত্ত্বিকরা। মৃত পূর্বপুরুষের আত্মা, প্রিয়জনের দেহবিহীন সত্তা ইত্যাদি ছাড়াও প্রাকৃতিক বিভিন্ন অপশক্তিকে নিয়ে নিরন্তর ভাবনা একদিকে যেমন লোকসংস্কৃতির গভীরে শিকড় চারিয়ে দেয়, তেমনই সংস্কৃত বা তার পরবর্তী আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যে বার বার উঠে আসে পিশাচ, যক্ষ, কিন্নর, নাগ, অপ্সরাদের কথা। কারা এরা? কী এদের চরিত্র? তার চাইতেও জরুরি প্রশ্ন, এরা কি সবাই ক্ষতিকর?

মজার ব্যাপার, ভারতীয় পরম্পরায় অপদেবতা, উপদেবতা, প্রেত ইত্যাদিকে সর্বদাই ভয়ঙ্করভাবে চিত্রিত করা হয়নি। যদি ‘রামায়ণ’ বা ‘মহাভারত’-এর দিকেই তাকানো যায়, দেখা যাবে, অসংখ্য বার সেখানে প্রেত-পিশাচের প্রসঙ্গে এলেও তাদের দিয়ে কোনও আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করা হয়নি। ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’-তে রাজা বিক্রমাদিত্য অমাবস্যার রাতে শ্মশানে প্রবেশ করে ভূত-প্রেতের নৃত্য দেখেছেন, অতি অবাধ্য শবরূপী বেতালকে কাঁধে ফেলে যাত্রা করেছেন সন্ন্যাসীর আশ্রমের দিকে। কিন্তু এই বিরাট গোলমালে কোথাও একতিলও ভয়ের এলিমেন্ট নেই। সেদিক থেকে দেখলে একথা কি বলা যেতে পারে, ভারতীয় পরম্পরায় ভুতেরা তেমন ভয়ঙ্কর ছিল না? কিন্তু তাদের থেকে ক্ষতিসাধনের ব্যাপারটা ভারতীয় ঐতিহ্যে বার বার উল্লিখিত। কেবল ভারতীয় নয়, ‘আরব্য রজনী’-তে উল্লিখিত জিন বা হুরিরাও কখনও উপকারী, কখনও অপকারী। বিলেতের ভূত-অপদেবতাদের মধ্যেও এই ভাল-মন্দ বিভাজন রয়েছে। তবে এখানে আলাপ সীমায়িত থাকবে ভারতীয় পরম্পরায় উল্লিখিত অতিপ্রাকৃত এবং তাদের প্রভাবের মধ্যেই।
দেখা যাক কোন অপদেবতার প্রভাবে মানুষের কী অবস্থা হয়।

• ভূত— মৃত মানুষের আত্মা। মৃ্ত্যুর পরে নাকি সাংঘাতিক শক্তিধর হয়ে ওঠে। যার উপরে ভর করে, তার বিকার উপস্থিত হয়। সে ভুল বকতে শুরু করে। আশ্চর্য সব ভবিষ্যবাণী করে। শারীরীক অসুস্থতাও দেখা দেয়।

• পিশাচ— মূলত এক ভিন্ন লোকের বাসিন্দা। মানুষকে আক্রমণ করে অথবা আচ্ছন্ন করে। পিশাচগ্রস্ত অবস্থায় মানুষ অনর্গল খারাপ কথা বলে যেতে থাকে। প্রায়শই নগ্ন হয়ে ঘোরাফেরা করতে চায়। সর্বদাই ক্ষুধার্ত থাকে। মাঝে মাঝে বিকট চিৎকার করে।

• যক্ষ— অন্য লোকের বাসিন্দা। মানুষকে প্রভাবিত করে। তবে এরা মোটেও ক্ষতিকারক নয়। যক্ষ ভর করলে মানুষের লাল রঙের উপরে আসক্তি বাড়ে। আচ্ছন্ন মানুষ ইঙ্গিতে কথা বলতে ভালবাসে।

• প্রেত— অপঘাতে মৃত মানুষের আত্মা। মানুষের উপরে ভর করলে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। মানুষ যন্ত্রণআয় ছটফট করতে থাকে। চিৎকার করতে থাকে। খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

• শাকিনী— সদ্যবিবাহিতা নারীর আত্মা। সেই সব বিবাহিতাদের উপরেই সাধারণত ভর করে, যাদের যৌন চাহিদা খুব বেশি। শাকিনীর ভর করলে শরীরে মারাত্মক ষন্ত্রণা হয়। আক্রান্ত মাঝে মাঝে অজ্ঞানও হয়ে ছেতে থাকে।

• অপ্সরা, যক্ষিণী, মোহিনী— উপদেবীশক্তি। সাধারণত অল্পবয়সি যুবকদের উপরে ভর করে। এমন আক্রান্তদের চেহারা উদাস হয়ে যায়। সর্বদা হাসিমুখে বিরাজ করতে থাকে। তাদের কল্পনাশক্তিও বিপুলভাবে বেড়ে যায়। একা থাকতে ভালবাসে। খেতে চায় না। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

• জিন— এদের কথা যদিও ইসলামিক সূত্রেই জানা যায়, তবু ভারতীয় অতিলৌকিক জগতের এরা বেশ পরিচিত বাসিন্দা। ‘জিনেধরা’ হিন্দু-মুসলিম উভয় সমাজেই প্রচলিত ব্যাপার। তবে জিনদের মধ্যে ভাল-মন্দ রয়েচে। ক্ষতিকারক জিনের পাল্লায় পড়লে মানুষ হিংস্র হয়ে ওঠে। ক্রমাগত মাথা ঝাঁকাতে থাকে। কিন্তু ভাল জিনের পাল্লায় পড়লে ভবিষ্যৎ দর্শনের ক্ষমতা লাভ হয়।






মন্তব্য চালু নেই