মেইন ম্যেনু

কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করবে যে খাবারগুলো

আমেরিকায় কারডিওভাস্কুলার ডিজিজে মৃত্যুহার পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই অন্যান্য রোগের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। রেজিস্টার্ড ডায়েটেশিয়ান ও “Eat Right When Time Is Tight” বইটির লেখক Petricia Bannan কিছু প্রাকৃতিক খাবারের কথা বলেছেন যা কোলেস্টেরল কমাবে ও হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষা দেবে। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় যে খাবারগুলো খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে বলে জানা গেছে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই চলুন।

ব্রোকলি
ব্রোকলির রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর ক্ষমতা আছে। দ্যা ইন্সটিটিউট ফর ফুড রিসার্চ এর বিজ্ঞানীদের মতে, ব্রোকলিতে সালফারের পরিমাণ কম থাকে।

গ্রিনটি
দ্যা একাডেমী অফ নিউট্রিশন এন্ড ডায়াটেটিক্স নামক জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল আছে তাদের ক্ষেত্রে গ্রিনটি পান করলে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ৫-৬ পয়েন্ট কমায়।

চর্বিহীন মাংস
আসলেই চর্বিহীন গরুর মাংস কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করে। দ্যা আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়। চর্বিহীন লাল মাংস খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা ১০% পর্যন্ত কমায়। দিনে ৪-৫.৫ আউন্স চর্বিহীন মাংস খেতে পারেন। রোস্ট, গ্রিল, অল্প আঁচে দীর্ঘক্ষণ রান্না করা অথবা ফ্রাই করেও খাওয়া যেতে পারে।

শণ বীজ
প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল কমানোর অনেক ভালো একটি উপায় হচ্ছে ফ্লাক্স সিড বা শণ বীজ খাওয়া। হট সিরিয়াল ও স্মুদি এর সাথে শণ বীজ গুড়া করে দিতে পারেন অথবা সালাদে যোগ করতে পারেন।

চকলেট
ইংল্যান্ডের ৯৩ জন মহিলার উপর করা একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, অধিক ফ্লাভোনয়েড যুক্ত চকলেট খেলে কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্য হারে কমে। তবে কোকোয়াতে যে পরিমাণ ফ্লাভোনয়েড থাকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পণ্যে তার ঘাটতি দেখা যায়।

স্ট্রবেরি
ওক্লোহামা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ফ্রিজে সংরক্ষিত স্ট্রবেরির পাউডার স্থূলকায় মানুষের ক্ষেত্রে ৮ সপ্তাহের মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ১১% পর্যন্ত কমাতে পারে।

জিরা
সুস্বাদু মসলা জিরা দৈনিক আধা চামচ খেলেই কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করে। ৮৮জন স্থূলকায় মহিলাদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায় যে, দৈনিক ৩ গ্রাম অর্থাৎ আধা চা চামচ জিরার গুঁড়া খেলে কোলেস্টেরলের সিরাম লেভেল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। সিদ্ধ বা রান্না করা সবজির সাথে, মটরশুঁটির সাথে বা মাংসের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন জিরা গুঁড়া।

পেঁয়াজের রস
এন্ডোক্রাইন সোসাইটির করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা যায় যে, পেঁয়াজের রস কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করে। কয়েক বছর আগের করা কিছু গবেষণায়ও এটি পাওয়া গিয়েছিলো যে পেঁয়াজের রস খারাপ কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে ইঁদুরের উপর মানুষের উপর নয়। বেলোর প্লানো এর দ্যা হার্ট হসপিটাল এর কারডিওলজিস্ট ও এমডি দীপিকা গোপাল বিশ্বাস করেন যে, পেঁয়াজ ও রসুনের মধ্যে কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান আছে।

টোফু
গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, টোফু ও অন্যান্য সয়া পণ্য পরিমিত পরিমাণে খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের চিকিৎসকেরা বলেন, ১০ আউন্স টোফু বা আড়াই কাপ সয়া দুধ খেলে খারাপ কোলেস্টেরল ৫-৬% কমে। টোফুতে ফাইটোস্টেরলস থাকে যা নিম্ন কোলেস্টেরোল প্রোটিন। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন মাংসের পরিবর্তে টোফু খান।

এছাড়াও ওটমিল, মটরশুঁটি, বাদাম, কিউই, মৌরি, বৈচি, পেক্টিন, সবুজ জুস ইত্যাদি খাবার চমৎকারভাবে লিপিড স্তর কমাতে পারে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই