মেইন ম্যেনু

ক্যানসার ট্রেনের নাম শুনেছেন? রয়েছে এই ভারতেই…

এই প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির আসল নাম অবশ্য ‘ক্যানসার ট্রেন’ নয়। এই ট্রেনটির আসল নাম যোধপুর-ভাটিন্ডা প্যাসেঞ্জার। কিন্তু এই ট্রেনটির যাত্রীদের জন্যই এই গত কয়েক দশক ধরে এই ট্রেনটি এমন তকমা পেয়ে আসছে। কারণ পঞ্জাবের ভাটিন্ডা থেকে যে যাত্রীরা এই ট্রেনে চেপে রাজস্থানের বিকানেরে যান, তাঁদের একটা বড় অংশই ক্যানসারে আক্রান্ত।

ভাটিন্ডা থেকে রাজস্থানের বিকানেরের আচার্য তুলসি রিজিওনাল ক্যানসার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য যান। প্রতিদিন রাত ৯.২০ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি ভাটিন্ডা থেকে ছাড়ে। গড়ে প্রতিদিন এই ট্রেনে ষাট থেকে একশোজন ক্যানসার রোগী এই ট্রেনে সওয়ার হন।

মূলত ভাটিন্ডা এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলের কৃষক এবং কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্তরাই এই মারণ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। কারণ হিসাবে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকাজে কোনওরকম সতর্কতা ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত কীটনাশক এবং রাসায়নিক সার ব্যবহারের জেরে এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা। বছরের পর বছর ধরে এমনটাই চলে এসেছে। তার উপরে এলাকার দূষিত পানীয় জলও রয়েছে।

একে জলে বিষাক্ত ধাতুর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি, তার উপরে দূষণ— সব মিলিয়ে ক্যানসারের শিকার হন ভাটিন্ডা, মোগা, ফিরোজপুর, মুক্তসার এবং মানসার বাসিন্দারা। পঞ্জাবের সবুজ বিপ্লবের নেপথ্যে থাকা এই মারণ সমস্যার সাক্ষী যেন বহন করে চলেছে এই ‘ক্যানসার ট্রেন’।

শুধু ক্যানসারই নয়, ভাটিন্ডা এবং তার আশপাশের এলাকায় সন্তানহীনতা, সদ্যোজাতদের মধ্যেও নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়।

প্রতিদিন ভাটিন্ডা থেকে রাত ৯.২০ নাগাদ ছেড়ে পরের দিন ভোর ছ’টা নাগাদ বিকানের পৌঁছায় ‘ক্যানসার ট্রেন’। সুস্থ হয়ে ফেরার আশায় যে ট্রেনে সওয়ার হন মারণ রোগে আক্রান্ত যাত্রীরা।






মন্তব্য চালু নেই