মেইন ম্যেনু

ক্যামেরার লেন্সের দাম ৪৫৩ হাজার ডলার!

নিলামে উঠেছে চাঁদে ব্যবহৃত ক্যামেরার লেন্স। এই লেন্সটি দিয়েই এডিউন অলড্রিনের সেই বিখ্যাত ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। আজ এতোদিন পর সেই লেন্সটি নিলামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হয়েছে এবং এর প্রাথমিক দামই ধরা হয়েছ ৪৫৩ হাজার ডলার। এটিই সর্বপ্রথম চাঁদে ব্যবহৃত হওয়া ক্যামেরার লেন্স। ১৯৭১ সালে নভোচারী ডেভ স্কট যখন প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন তখন তার ক্যামেরায় ব্যবহৃত হয় মূল্যবান এই লেন্সটি। এই লেন্সের সাহায্যেই তিনি তুলে এনেছিলেন চাঁদের দুর্লভ কিছু ছবি।

১৯৭১ সালের ৭ অগাষ্ট তিনি যখন অ্যাপোলো-৫ এ করে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হন তখন তার সেই ঐতিহাসিক মিশনের দুর্লভ চিত্র ক্যামেরাবন্দি করার জন্য নাসার পক্ষ থেকে তাকে এই ক্যামেরাটি দেয়া হয়। বর্তমানে ওই ক্যামেরার লেন্সটি বোষ্টনভিত্তিক আরআর হাউজে নিলামে উঠেছে। চাঁদে অবতরণের পর স্কট হ্যাসালব্লাড ক্যামেরায় এই লেন্সটি ব্যবহার করেন। দুই দিনের ওই মিশনে তিনি চাঁদের কক্ষপথের এবং চাঁদের পৃষ্ঠের বেশ কিছু দুর্লভ ছবি ধারণ করেন।

লেন্সটি দৈর্ঘ্যে ১২ ইঞ্চি লম্বা এবং এর কিছু বিশেষ আধার তৈরি করা হয়েছিল যাতে স্পেসস্যুটের উপর থেকেও লেন্সের ফোকাস ঠিক করা যায়। মহাশূণ্যে ছবি তোলার জন্য লেন্সটিতে সংযোজিত করা হয়েছিল বিশেষ অটো ফোকাস। আরআর হাইজের মতে লেন্সটি দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠের মোট তিনশ ছবি তোলা হয়েছিল। নাসার পক্ষ থেকে স্কট তিনবার চাঁদে অবতরণ করেছিলেন।
2016_04_23_14_08_39_WNukEpIIcz1ekEvgaMrBYBZcXyvIhP_original
প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখার মিশনে তার সফর সঙ্গী ছিলেন নীল আর্মস্ট্রং। তারাই প্রথম জেমিনি-৮ নামে একটি মহাকাশযান চালু করেন। আর সেই মহাকাশযান দিয়েই নীল এবং স্কট বেশ সফলতার সঙ্গে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেন বলে নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়। নাসার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, অ্যাপোলো-১৫ ই ছিল স্কটের চাঁদে অভিযানের শেষ মিশন।

সাহসী এই ব্যাক্তি ১৯৭৫ নালে এয়ারফোর্স থেকে অবসর নেন। নাসার তথ্য মতে, তিনি তার কর্মজীবনে সর্বোচ্চ ৫,৬০০ ঘণ্টা মহাকাশে ভেসে বেড়িয়েছেন এবং সুস্থতার সঙ্গে ফিরেও এসেছেন। তার প্রসঙ্গে আরআর হাউজের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্ট লিভিংষ্টন বলেন, ‘নভোচারী ডেভ স্কট একজন সত্যিকারের আমেরিকান নায়ক। আমরা সত্যিই আনন্দিত তার কর্মজীবনের সফলতা নিয়ে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র একটি লেন্স নয় এটি চাঁদে ব্যবহৃত প্রথম হার্ডওয়্যার যা নিলামে উঠেছে।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে আরআর হাউজে চাঁদে ব্যবহৃত নানা জিনিস নিলামে উঠেছে। এর মধ্যে স্যাটার্ন ভি ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারও নিলামে উঠেছে। যার দাম তোলা হয়েছে ৬১ হাজার ডলার। অ্যাপোলো-৫ এ চাঁদের পৃষ্ঠের রোভার মানচিত্রটির দাম উঠেছে ৫৩ হাজার ডলার। যেখানে রয়েছে নীল আর্মষ্ট্রংয়ের নিজ হস্তে করা স্বাক্ষর। এছাড়াও রয়েছে মহাকাশে ব্যবহৃত নানরকম জিনিস। তবে এত কিছুর মাঝেও সবার একটু বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে লেন্সটির প্রতি।






মন্তব্য চালু নেই