মেইন ম্যেনু

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা ১০ খেলোয়াড়

ক্রিকেট খেলতে প্রয়োজন হয় দক্ষতা ও মেধার। বিশাল দেহের অধিকারী হওয়ার প্রয়োজন হয় না। অথবা অনেক বেশি লম্বা হওয়ারও প্রয়োজন নেই। শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারাদের মতো ক্রিকেটাররা অনেক লম্বা ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি সফল। তার পরও লম্বা ক্রিকেটাররা অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধা পান। বিশেষ করে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অনেক লম্বা খেলোয়াড়ের নজির রয়েছে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইরফান ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটারের খেতাবটি ধরে রেখেছেন। এরপর ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা ক্রিকেটার আছেন ৪ জন। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা ক্রিকেটার রয়েছেন আরো সাতজন। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটারদের শীর্ষ কয়েকজনকে নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

pp129

 

১. মোহাম্মদ ইরফান (পাকিস্তান) : উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি (২১৬ সে.মি)
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়ের নাম মোহাম্মদ ইরফান। যার উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। দুটি একদিনের ম্যাচ খেলার পর তিনি জাতীয় দল থেকে ছিটকে যান। এরপর ২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবার ফিরে আসেন। এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব ফাস্ট বোলার। যিনি নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন।

pp128

২ . জোয়েল গার্নার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)
জোয়েল গার্নার। বার্বাডোজের ‘বিগ বার্ড’ নামে পরিচিত। সত্তর ও আশির দশকে বল হাতে বেশ দাপট দেখিয়েছেন এই গতি তারকা। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা বোলারদের অন্যতম ছিলেন গার্নার। তিনি, মাইকেল হোল্ডিং, এন্ডি রবার্টস, কলিন ক্রফট এবং পরবর্তী সময়ে ম্যালকম মার্শালের মতো ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল যে টানা ১৫ বছর তারা কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি। ৫৮ টেস্টে তিনি ২৫৯টি উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২০.৯৮ গড়ে, যা টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি তার উচ্চতাকে ব্যাবহার করে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন (৯৮ ম্যাচে ১৪৬ উইকেট ৩.০৯ ইকোনমি রেটে)। ইয়র্কার, বাড়তি বাউন্স আর সুইংয়ের মিশেলে তার বল খেলা ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল অনেক কষ্টসাধ্য।

pp7

৩ . ব্রুস রিড (অস্ট্রেলিয়া) : উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)
জোয়েল গার্নারের সমান উচ্চতার ছিলেন তিনি। বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সহজাত সুইং করতে দক্ষ ছিলেন। তার বিরাট উচ্চতা বলের নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সহযোগিতা করেছে। প্রায়শই তিনি আঘাতে জর্জরিত থাকতেন ও খুব কম সময়ই পরিপূর্ণভাবে সুস্থদেহে মাঠে নামতেন। তার পরও তিনি ১৯৯০-৯১ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করে পাঁচ টেস্টে ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন।

pp6

৪ . পিটার জর্জ (অস্ট্রেলিয়া) : উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)
পিটার রবার্ট জর্জ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটার। ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। জর্জ তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন সাউদার্ন রেডব্যাকসের হয়ে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি টেস্ট খেলেছিলেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চির জর্জ ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম লম্বা খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার আরেক ক্রিকেটার ব্রুস রিডের সমান উচ্চতা ছিল তার।

pp5

৫ . বয়েড র‌্যানকিন (ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)
উইলিয়াম বয়েড র‌্যানকিন নর্দান আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার। তিনি ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। তিনি ছিলেন ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা এই ক্রিকেটার তার বলে স্বতন্ত্রসূচক বাউন্স দিতে পারতেন। উচ্চতার কারণে তিনি প্রচুর বাউন্স দিতে পারতেন। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় তার। এরপর ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজেও স্কোয়াডে ছিলেন।

pp4

৬ . ক্রিস ট্রেমলেট (ইংল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)
ইংল্যান্ডের এই ফাস্ট বোলার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম লম্বা খেলোয়াড়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার সুখ্যাতি রয়েছে ট্রেমলেটের। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়েছিল। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে তিনি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড দলে নিয়মিত হয়ে ওঠা হয়নি তার। ২০১০-১১ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন ক্রিস ট্রেমলেট।

pp3

৭ . স্টিভেন ফিন (ইংল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)
স্টিভেন ফিন একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মিডেলসেক্সের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সি ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে তার অভিষেক হয়। লম্বা এই বোলার তার বলে অতিরিক্ত বাউন্স সঞ্চার করতে পারেন। যা ব্যাটসম্যানদের বেশ সমস্যায় ফেলে। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ও বিশ্বের পঞ্চম লম্বা খেলোয়াড়।

pp2

৮ . কার্টলি অ্যাম্ব্রোস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জেন্টেল জায়ান্টের উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। উচ্চতায় গার্নারের চেয়ে সামান্য খাটো তিনি। আশির দশকে তিনি ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী বোলার। এন্টিগুয়ার এই বোলার দারুণ ইয়র্কার দিতে পারতেন। পাশাপাশি অসম্ভব স্লোগ। যার ফলে তিনি ৬৩০টি আন্তর্জাতিক উইকেট পেয়েছিলেন। যার ৪০৫টিই পেয়েছেন টেস্টে। ১৯৯২ সালে তিনি উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি আইসিসির হল অব ফেমে স্থান পান।

pp1

৯ . সুলেমান বেন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ক্রিকেটার বার্বাডোজের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা এই ক্রিকেটার ক্যারিবিয়ানদের জার্সি গায়ে ১৭টি টেস্ট, ২৫টি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা অন্যতম লম্বা ক্রিকেটার তিনি। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বেশি লম্বা স্পিনার।

pp

১০ . জ্যাসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম লম্বা এই ক্রিকেটারের অভিষেক হয় ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অভিষেকের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পান। ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়। গেল বিশ্বকাপে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এই তালিকায় আরো যারা রয়েছেন :

১১ . টম মুডি (অস্ট্রেলিয়া) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

১২. ডেভিড লার্টার (স্কটল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)১৩.

পিটার ফুলটন (নিউজিল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬.৭৫ ইঞ্চি (১৯৯ সে.মি)

১৪. টনি গ্রেইগ (ইংল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

১৫. কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

১৬. জ্যাকোব ওরাম (নিউজিল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

১৭ . মর্নে মরকেল (দক্ষিণ আফ্রিকা) : উচ্চতা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)।






মন্তব্য চালু নেই