মেইন ম্যেনু

ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেওয়া মুস্তাফিজের এক বছর

ভারত ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফর করল, সে সময়কার কথা বলছি।

ফতুল্লায় ভারত-বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট। বৃষ্টির বাগড়ায় পুরো টেস্ট পণ্ড। ড্র মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম থেকে ফেরার ঠিক আগে বাংলাদেশ তিন ওয়ানডের জন্যে দল ঘোষণা করল।

ভারতীয় সাংবাদিকরা আমাদের দেশের সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো মেইল সংগ্রহ করল। ভারতীয় এক সাংবাদিক বাংলাদেশের দল দেখে প্রশ্ন করে বসলেন,‘মুস্তাফিজুর রহমানটা আবার কে?’

নিউজ এজ পত্রিকার স্পোর্টস এডিটর আজাদ মজুমদার বললেন,‘আছে একটা ছেলে। বামহাতে পেস বোলিং করে। খুব প্রমিসিং। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুদিন আগে একটা টি-টোয়েন্টি খেলেছিল।’

ভারতীয় সাংবাদিক বললেন, ‘আমাদের দেশেও এরকম বামহাতি পেসার আছে ডজনখানেক।’

ছোট মরিচের ঝাঁঝ একটু বেশি হয় সেদিন ভারতীয় সাংবাদিক সেটা মনে রাখেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট, পরের ম্যাচে ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে ২ ম্যাচে ১১ উইকেটের তকমায় বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে যায় প্রথমবারের মত। সেই প্রথম ম্যাচের মত আজও মুস্তাফিজ বিস্ময় ছড়িয়ে যাচ্ছে।

দেশ ও আন্তর্জাতিকের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে মুস্তাফিজ এখন একটি ব্র্যান্ডের নাম। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু এ বিস্ময়কর পেসারের। হুট-হাট করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে মুস্তাফিজ। নেটে কোচ হাথুরুসিংহের পছন্দ হওয়ায় মুস্তাফিজুর রহমানকে নামিয়ে দেন জাতীয় দলের জার্সিতে। নিজের অভিষেক ম্যাচেই কি পাননি মুস্তাফিজ? ৪ ওভার বোলিং করে ২০ রান দিয়েছেন বামহাতি এই পেসার। তা-ও আবার টি-টোয়েন্টিতে, ভাবা যায়! উইকেটও নিয়েছেন ২টি। মুস্তাফিজের করা ২৪ বলের ১৬টিতেই রান নিতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।

সেদিনের পর অনেকদিনই মুস্তাফিজকে নিয়ে হাক-ডাক শোনা যায়নি। আলোচনায় আসেন ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডের আগে। স্কোয়াডে জায়গা পেলেও মুস্তাফিজকে প্রথম ম্যাচে নিতে মানা করেছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি খেলাতে বলেন আরাফাত সানীকে।

কিন্তু প্রথম ম্যাচের অভূতপূর্ব সাফল্যে হতবাক হয়ে যান বোর্ড সভাপতি। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হলেও ভারত সিরিজে মুস্তাফিজ লাইমলাইটে আসেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুস্তাফিজের এক বছর পূর্ণ হল আজ।

এই এক বছরের পথচলায় কি পাননি মুস্তাফিজুর রহমান। সেরা বোলারের খেতাবও পেয়েছেন। আইসিসির বর্ষসেরা একাদশে জায়গাও পেয়েছেন। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা স্কোয়াডেও ছিলেন। সব মিলিয়ে মুস্তাফিজময় হয়েছিল ২০১৫-১৬ সালের ক্রিকেট দুনিয়া।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মুস্তাফিজ এখন নয়নের মনি। খেলছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। কি অসাধারণ পারফর্ম করে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কম মুস্তাফিজের। তাইতো তার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যে বাংলা ভাষা শেখার চেষ্টায় হায়দরাদের কোচ টম মুডি, মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ ও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

আইপিএল বাদেও মুস্তাফিজের ডাক এসেছিল পাকিস্তান সুপার লিগ খেলতে। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেখানে খেলা হয়নি তার। আইপিএলের পরপরই ইংল্যান্ডের সাসেক্সের হয়ে খেলবেন ‘ফিজ।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম বছরের হিসেবে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এত সাফল্য অর্জন করেনি।

২ টেস্টে ৪ উইকেট, ৯ ওয়ানডেতে ২৬ উইকেট ও ১৩ টি-টোয়েন্টিতে ২২ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। এক বছরের সাফল্য যাত্রায় মুস্তাফিজ নিজেকে চিনিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে। সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন তার ‘স্লোয়ার কাটারে’। ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে ব্যাটসম্যান পর্যন্ত মুস্তাফিজের এ বিস্ময়কার কাটারে বিভ্রান্ত, বিপর্যস্ত। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুস্তাফিজের প্রথম বছর ছিল এক কথাই অসাধারণ, রূপকথার গল্পের মতই।

প্রথম টি-টোয়েন্টি উইকেট: শহীদ আফ্রিদি
প্রথম ওয়ানডে উইকেট: রোহিত শর্মা
প্রথম টেস্ট উইকেট: হাশিম আমলা
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বল: ওয়াইড বল। মিডল স্ট্যাম্প থেকে সুইং করে লেগ সাইডে দিয়ে বল বাইরে যায়।
ওয়ানডেতে প্রথম বল: ডট বল। ফুললেন্থ বল সুইং করে উইকেটের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। এলবিডাব্লিউর আবেদন হয়েছিল। কিন্তু উইকেট পাননি।
টেস্টে প্রথম বল: ফুললেন্থ বল। সঙ্গে ছিল বিস্ময়কার কাটার।
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বাউন্ডারি: শহীদ আফ্রিদি (ছয়)
ওয়ানডেতে প্রথম বাউন্ডারি: রোহিত শর্মা (ছয়)
টেস্টে প্রথম বাউন্ডারি: ডিন এলগার (চার)






মন্তব্য চালু নেই