মেইন ম্যেনু

ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চাঙ্গা করে যেসব খাবার

প্রতিদিনের চাপ এবং নানামুখী কাজের ভারে শরীর যখন ক্লান্ত, তখন সহজলভ্য কিছু খাবারেই ফিরিয়ে আনতে পারেন কর্মচাঞ্চল্য। তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদে শক্তি জোগাতে সক্ষম এমন কিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো-

কলা: কলা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমন এর প্রচুর গুণ রয়েছে৷ চিকিৎসকরা বলেন প্রতিদিন একটা করে কলা খেলে শরীরে সব ভিটামিনের অভাব দূর হয়৷ সকালে উঠার পর দুটো কলা খেয়ে যদি এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়া যায় তাহলে শরীরে কোন ক্লান্তি থাকবে না৷ শক্তি বাড়বে সেই সঙ্গে ক্লান্তিভাব দূর হবে। অপরদিকে খাওয়ার পরে যদি প্রতিদিন একটা করে কলা খেতে পারেন তাহলে খাওয়ারটা খুব তাড়াতাড়ি হজম হযে যাবে৷

মিষ্টি আলু: ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, ওয়েজেস, ম্যাশড পটেটো নাম নিয়ে আলু নানাভাবে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এই আলুরই কয়েকটি প্রকারের মধ্যে মিষ্টি আলুর দখল অনেকটা জুড়ে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর শর্করা এবং চিনি থাকে। এটি শরীরে শক্তি জোগান দেয়। কাজে-কর্মেও গতি আসে। এ ছাড়াও মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

বাদাম: বাদামের চর্বি হার্টকে ভালো রাখে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেল। বাদাম স্ন্যাক হিসেবে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, এটি কোলেস্টেরল কমায়। এ ছাড়া এর রয়েছে আরো অনেক গুণ। প্রতিদিন কেবল ১ দশমিক ৫ আউন্স বাদাম (এক থেকে তিন কাপ) দেহের গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল এবং সারা দিনের শক্তির জোগান দিতে পারে। বাদামকে পুষ্টিকর স্ন্যাক হিসেবে ধরা হলেও একে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ডিম: সহজলভ্য পুষ্টির উৎস হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক কিংবা দুপুর-রাতের খাবারে ডিমের একটা মেন্যু ঘুরেফিরে আসবেই যেন। ছোট একটা ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি১২ খাবারবে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।

মধু: হাজারো গুণে ভরা মধুতে গুকোজ ও ফ্রুকটোজ আছে যা শরীরে শক্তি যোগায়। এর অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সকালবেলা গরম দুধের মধ্যে মধু মিশিয়ে খেলে কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সারা দিন শরীরের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

মাশরুম: মাশরুম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি খাবার। মাশরুম কম ক্যালরি এবং উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। এতে শর্করা রোধক বেশ কিছু উপাদানও রয়েছে। মাশরুম রোগ প্রতিরোধে খুবই উপকারী তাতে সন্দেহ নেই। মাশরুমে রয়েছে জীবের এমন এক ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহ যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

পালং শাক: সহজলভ্য এ শাকটির রয়েছে অনেক খাদ্যগুণ। ভিটামিন `ডি` ছাড়া বাকি সব ভিটামিনই এতে রয়েছে। বিশেষ করে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন `ই` এবং ভিটামিন `সি`র উৎস পালং শাক। প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, আয়রনসহ বেশকিছু প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে এতে। এটা শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে।এতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন যা দেহে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে রয়েছে লিম্ফোবিক এসিড যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ও ই কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এটা রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দিনের বেলার ক্লান্তিভাব দূর করে।

সামুদ্রিক মাছ: অতিরিক্ত কাজের চাপে আমাদের মস্তিষ্ক কান্ত হয়ে পড়ে। এই কান্ত ভাব দূর করতে হলে কাজের মাঝে হালকা নাস্তার সঙ্গে সামুদ্রিক মাছজাতীয় কিছু খেয়ে বাইরের আলো-বাতাসে একটু ঘুরে আসালেই ফিরে পাবের চাঙ্গা অনুভূতি। আমাদের ত্বকে উৎপন্ন ভিটামিন ডি এবং সামুদ্রিক মাছ থেকে পাওয়া ওমেগা-থ্রি একত্রে মিলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই সেরোটোনিনই দেহের কর্মকাণ্ড এবং মস্তিষ্কের কর্মমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক ক্ষমতাও বাড়ায়। ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের সঙ্গে সেরোটোনিন উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে। এসব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস মস্তিষ্ক গঠন করে এবং সামাজিক যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।






মন্তব্য চালু নেই