মেইন ম্যেনু

ক্ষতিগ্রস্ত দেড় হাজার সংখ্যালঘু পরিবার, ধর্ষিত ২৫

২০১৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় দেড় হাজারের বেশি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হামলায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। ধর্ষকের নির্মম বলি হয়েছেন ২৫ সংখ্যালঘু নারী। ভিটেমাটিছাড়া ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে অনেক। জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো বর্বর ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রতিবছরই সংখ্যলঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতেই নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুরা।

এ ছাড়া সংখ্যালঘুরা মামলা দায়র করতে গেলে তা গ্রহণ করতে থানা প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বেশিরভাগ সময়ই সহযোগিতা করে না, এ অভিযোগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট সংগঠনটির।

শনিবার (৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোল টেবিল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় তারা ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে রানা দাশগুপ্ত জানান, গেল বছর দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ২৬২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৫৬২টি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বছর বিভিন্ন হামলায় ২৪ জন নিহত ও ২৩৪ জন আহত হয়েছেন।

২০১৫ সালে ২৪ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ৯টি ক্ষেত্রে জোর করে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে।

সংখ্যালঘু নারীর প্রতি নিপীড়নও কম হয়নি ওই বছরে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫ নারী। এর মধ্যে ১০ জনকে গণধর্ষণের মতো বর্বরতার শিকার হতে হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪ নারী, হত্যাও করেছে দুর্বৃত্তরা।

২০১৫ সালে জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০৯টি। উচ্ছেদের শিকার হয়েছে ৬০ পরিবার। এ ছাড়া প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১৮০টি।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা।’

‘এমন অত্যাচারের যদি বিচার না হয়, যদি একের পর এক হিন্দুদের ভিটেমাটি দখল করে ঘরছাড়া করা হয়, তা হলে একসময় দেশে হিন্দু সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে’, শঙ্কা রানা দাশগুপ্তের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও সামাজিক অনুশাসনে বহুত্ববাদের স্বীকৃতি ও চর্চার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত হয়েছে। এর ফলে এ দেশের সংখ্যালঘুরা নিজ দেশে বসবাস করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।’

রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কর্তৃক ধর্মকে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ করার কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে পরিণত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তার।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই