মেইন ম্যেনু

ক্ষতিপূরণের দাবীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আল্টিমেটাম

গত ২ই নভেম্বর পুলিশ কর্তৃক নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

৩ই নভেম্বর সন্ধ্যায়, সংবাদ সম্মেলনে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর টিপু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সঞ্চালনা করেন চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন।লিখিত বক্তব্যে বলা হয় আগামী ১০ই নভেম্বর, ২০১৫ ইং তারিখের মধ্যে গতকালের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ না দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাগাতার কর্মসূচী পালন করবে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ র‍্যাগ বিরোধী কর্মসূচী পালন করে। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ১ম বর্ষ ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় এবং ছাত্রলীগ নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়, কিন্তু গত ২০ শে জুলাই চবি ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের নেতৃত্বে যখন পরিচ্ছন্ন ভাবে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখনই কায়েমী স্বার্থের বাহক ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কিছু লোক তাদের চির স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যখন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলো ঠিক তখনই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ শাহ্‌ আমানত ও শাহ্‌জালাল হলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে,।

আরো বলা হয়, ”গতকালের ঘটনায় যারা পুলিশের উপর হামলা করেছে কিংবা সংঘাত সৃষ্টির অপতৎপরতা চালিয়েছে তারা ছাত্রলীগের কেউ হলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নিবে প্রয়োজনে এ ব্যপারে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। কিন্তু পুলিশ যেভাবে ভর্তিচ্ছু সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে তার জন্য ছাত্রলীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী শুধু মারধোরে সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা ব্যাপক লুটপাটও চালিয়েছে। পুলিশ রুমে রুমে ঢুকে ছাত্র, ভর্তি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনতাই, শুধু অবাকই করে নাই, কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্লিপ্ত ভূমিকায় এদের মানবিকতাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়, গতকালের (০৩/১১/২০১৫) সংঘর্ষের সাথে যারা জড়িত, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে। তাদের যোগসূত্রে দুই হলের অন্তত ১০লক্ষ টাকার মত সম্পদ লুট করেছে পুলিশ প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ পুলিশের উপর হামলা এবং পুলিশ কর্তৃক নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের হামলা ও লুটপাটের এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এ সকল ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছে।আগামী ১০ই নভেম্বর, ২০১৫ ইং তারিখের মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ না দিলে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাগাতার কর্মসূচী পালন করবে।






মন্তব্য চালু নেই