মেইন ম্যেনু

মাহফুজ আনামকে প্রধানমন্ত্রী:

কয়টা মামলাতেই ঘাবড়ে গেলেন?

আত্মমর্যাদা থাকলে এক এগারোর পর ভুল সংবাদ প্রকাশের দায় নিয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম পদত্যাগ করতেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা জিডিএফআই সরবরাহ করা সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে করা মামলার সমালোচনাকারীদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। মাহফুজ আনামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কয়টা মামলাতেই ঘাবড়ে গেলেন?’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ভাষা ও স্বাধীকারের জন্য বাঙালির সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। কথা বলেন, মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়েও। বলেন, এক এগারোর পর দুই জন সম্পাদক শেখ হাসিনা ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তখন শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন তারা।

মাহফুজ আনামের নাম বললেও অন্য সম্পাদকের নাম বলেননি প্রধানমন্ত্রী। ডেইলি স্টারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই পত্রিকায় লিখা থাকে নির্ভিক সাংবাদিকতা করে তারা। তাহলে এক এগারোর পর কীভাবে ডিজিএফআইয়ের কথা ছেপেছে তারা?’। চাপে পড়ে নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এসব সংবাদ ছাপা হয় বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এক এগারোর পর তাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করেছে ওই সরকার। আর এতে সহযোগিতা করেন দুই সম্পাদক। এর অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা সংবাদ ছাপা হয় বলে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন তারা (দুই সম্পাদক)। আমি মাহফুজ আনামকে বলবো, আপনি তো আপনিই, আপনার পিতৃতুল্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও আমাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি বের করতে পারে নাই তারা’।

এক এগারোর পর ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতার জীবনে এক বড় ভুল বলে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শোতে স্বীকার করেছেন মাহফুজ আনাম। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে ৭০টিরও বেশি মানহানি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সব মিলিয়ে ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এভাবে গয়রহ মামলা দায়েরের সমালোচনা করেছে সম্পাদক পরিষদ।

তবে এসব সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যারা সমালোচনা করছেন তারা এক এগারোর পর মিথ্যা মামলা আর অত্যাচার-নির্যাতনের সময় মুখে কুলপ এঁটেছিলেন। আর দুই সম্পাদক কেবল মিথ্যা সংবাদই প্রকাশ করেননি। কথিত কিংস পার্টিকে সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। ড. ইউনুসের নাম উল্লেখ না করে তার রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পেছনেও দুই সম্পাদকের হাত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক এগারোর পর তার বিরুদ্ধে কেবল মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি। বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার এবং বাড়ি তল্লাশিও করা হয় তখন। শেখ হাসিনার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়াকে তখন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় বলেও জানান শেখ হাসিনা। আর আটকাবস্থায় ইঁদুরে কাঁটা ছেড়া চাদর বিছানো ঘরে রাখা হয় বলেও জানান তিনি। বলেন, তখন ঠিক মতো খাবারও দেয়া হতো না, চিকিৎসাও করা হয়নি। ঈদে স্বজনদেরকে দেখাও করতে দেয়া হয়নি। পরে এ নিয়ে ফুপু সংবাদ সম্মেলন করার পর চোখের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। আর সেখানেও সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আমাকে সলিডারিটি কনফাইনমেন্ট সেলে রাখা হয়। তখন তো তারা এ নিয়ে কথা বলেনি’।

এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আনামকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়টা মামলাতেই ভড়কে গেলেন? যদি এভাবে আপনাকে রাখা হতো তাহলে কী করতেন?

মাহফুজ আনামের পক্ষে বিবৃতিদাতাদেরকেও এক হাত নেন শেখ হাসিনা। বলেন, সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাধায়ক সরকারের আমলে সংবাদ ছাপিয়ে কেবল ভুল স্বীকার করলেই চলবে না। বলেন, বিবিসি একবার একটি সংবাদ প্রকাশের পর যখন তারা ভুল বুঝতে পারে, তখন এর জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি এই সংবাদ প্রকাশে জড়িত সবাই পদত্যাগ করেছিল। মাহফুজ আনামও ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা সংবাদ প্রকাশ করে ভুল করেছেন। আর এর খেসারত দিয়েছে দেশের সব শ্রেণির মানুষ। কই তিনি ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করার সাহস তো দেখাতে পারলেন না। আত্মমর্যাদা থাকলে তিনি অবশ্যই পদত্যাগ করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মাহফুজ আনামরা কেবল এক এগারের পর ষড়যন্ত্র করেনি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন না হয় সে জন্যও চেষ্টা করেন তারা। বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন যেন না হয় সে জন্য পত্রিকাটির কী ভূমিকা ছিল? যখন নির্বাচন করে ফেলেছিলাম, তখন তাদের মধ্যে ছিল হতাশা। হতাশা ছিল, একটি পতাকা তারা পাননি’।






মন্তব্য চালু নেই