মেইন ম্যেনু

কয়লার দাম ৪র্থ দফা কমানোর পরও মিলছে না ক্রেতা !

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার দাম ৪র্থ দফা কমানোর পরও মিলছে না ক্রেতা ! গত ১৯ মে থেকে আবারও কয়লার দাম আরেক দফা কমিয়ে টনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়লার মূল্য ৪দফা কমানোর পরেও মিলছে না আশানুরূপ ক্রেতা । খনি চত্বরের কয়লার বিপুল মজুদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খনি কর্তৃপক্ষ।

গত ২০১৪ সালে ইটভাটা মৌসুমে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কয়লার চাহিদা বেশি থাকায় বড়পুকুরিয়ার প্রতিটন কয়লা বিক্রি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮০ টাকায়। আর আমদানি করা নিম্নমানের (অধিক সালফারযুক্ত) প্রতিটন কয়লা বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায়।গত ইটভাটা মৌসুমের শুরু থেকে বিদেশ হতে আমদানি করা কয়লার মূল্য প্রতি টন ৭ হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা কয়লার মূল্য কম থাকায় এর সাথে তাল মিলিয়ে বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রতিটন কয়লার দাম ২ হাজার ৬৮০ টাকা কমিয়ে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে।এতেও গ্রাহকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া না মেলায় গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আবারও কয়লার দাম আরেক দফা কমিয়ে ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। তাতেও আশানুরূপ সাড়া না মেলায় গত ১৯ মে থেকে আবারও কয়লার দাম আরেক দফা কমিয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে ৪ দফায় বড়পুকুরিয়ার কয়লার দাম টনপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার ৬৮০ টাকা কমানো হল।

খনির একটি সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা কয়লা অপেক্ষা বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা অনেক উন্নত ও সালফারের পরিমাণ কম। সে কারণে এখানকার কয়লা উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লাসহ সব ধরনের জ্বালানির মূল্য কমে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ কম দামে কয়লা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

কয়লা খনিতে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, বড়পুকুরিয়া কোল ইয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতা দুই লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে সেখানে মজুদ রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন কয়লা।কোল ইয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি কয়লা মজুদ থাকায় কয়লার স্তুপে তাপ মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিনিয়ত অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইটভাটা মালিক জানান, এখন ইট পোড়ানোর মৌসুম শেষ, মৌসুমের শুরুতে কয়লার দাম কমানো হলে প্রচুর কয়লা বিক্রি হতো। আমদানি করা নিম্নমানের কয়লা বাজারজাত করার সুযোগ করে দিতে এতোদিন কয়লার দাম কমানো হয়নি বলে অভিযোগ করছেন তারা।

এ ব্যাপারে রোববার বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করা কয়লা অপেক্ষা বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা অনেক উন্নত ও সালফারের পরিমাণ কম। সে কারণে এখানকার কয়লা উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লাসহ সবধরনের জালানির মূল্য কমে যাওয়ায় কম দামে কয়লা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’






মন্তব্য চালু নেই