মেইন ম্যেনু

খালেদার বাড়তি নিরাপত্তা : সাড়া দিচ্ছে না সরকার

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতে দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি সরকার, বাড়ানো হয়নি তার নিরাপত্তা। পুলিশি যে নিরাপত্তা ছিল, সেটিই বহাল রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান রোববার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর: বাংলামেইল

তারা বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়নি। পুলিশি নিরাপত্তা যা ছিলো, তাই রয়েছে।’

বর্তমানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ও তার চলাচলের সময় পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে। এর বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)’ কাজ করে থাকে। এই টিমে দুইজন এসআই রয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করে। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) সংসদের প্রধান বিরোধী দল হয়। আর দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন, যদিও দলটি সরকারেও রয়েছে।

এদিকে রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরোধী দলীয় নেতার নিরাপত্তা প্রটোকলও প্রত্যাহার হয়ে যায়। তবে খালেদা জিয়া তিনবাবের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। এছাড়া তিনি দেশের একজন ভিভিআইপিও, পাশাপাশি বিএনপিরও প্রধান। এসব বিবেচনায় বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার চলাচলের সময়ে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে সরকার। বর্তমানে তার নিরাপত্তায় একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট পুলিশের একটি পেট্রোল টিম নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে গত বছরের এপ্রিলে সর্বশেষ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজার সামনে থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা পুনর্বহাল করা হয়। একজন হাবিলদারের নেতৃত্বে পুলিশের চারজন সদস্য বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)’ এর টিমে তার নিরাপত্তায় স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) দুইজন এসআই নিয়োজিত রয়েছে। সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তার নেতৃত্বে সিএসএফ টিমে ৩৫ জনের মতো সদস্য রয়েছে।
জানা যায়, ১/১১ এর সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে কারামুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় পর্যায়ক্রমে সিএসএফ গঠন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানে গত শুক্রবার (০১ জুলাই) রাতে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী, যাতে দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ জিম্মি হন অন্তত ৩৩ জন। ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্টুরেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনির সদস্যরা।

অভিযানে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে রেস্টুরেন্টে তল্লাশি চালিয়ে ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপান ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি ৩ জন বাংলাদেশি, যাদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রেরিত এক বিবৃতিতে গুলশানবাসী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় দলটি।

পরদিন শনিবার এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
খালেদার নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপারে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়নি। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে নেয়া হয়নি বাড়তি কোনো নিরাপত্তা। আগের নিরাপত্তাই রয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সিকিউরিটি প্রটেকশন হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যে নিরাপত্তা থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি, সেটি নেই। এ অবস্থায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসী, উনার (খালেদা) আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিষয়টি সরকারকে বহুবার বলা হলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি।’

খালেদা জিয়ার চলাচলের জন্য বর্তমান পুলিশি নিরাপত্তা পর্যাপ্ত ও কাঙ্ক্ষিত নয় দাবি করে এটি বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। বলেন, ‘শুধু আমি-আপনি নই, দেশবাসীও তার নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত বলে মনে করে। কারণ, খালেদা জিয়া ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী।’

খালেদা জিয়া এখন কী হিসেবে পুলিশি নিরাপত্তা পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তিনবাবের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। এছাড়া তিনি দেশের একজন ভিভিআইপিও। আর ভিভিআইপি হিসেবে উনার ব্যক্তিগত একটা ইমেজও আছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) প্রধানও তিনি। সব মিলিয়ে উনি এখনো ভিভিআইপি এবং উনার এক্স প্রোটোকলও আছে।’

এ প্রসঙ্গে রুহুল আলম চৌধুরী আরো বলেন, ‘তবে ঠিক কোন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ, সরকার থেকে এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি কিছু বলা হয় না। তবে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য এ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।’






মন্তব্য চালু নেই