মেইন ম্যেনু

খালেদার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র আমলে নিলেন আদালত

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার দুই মামলায় দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছেন আদালত।

সোমবার হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার দুটি অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

খালেদার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলা দুটিতে (৫৮ ও ৫৯) মোট তিনটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ৫ মে ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বশির আহমেদ। ১৯ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের অপর এসআই জাহিদুল ইসলাম।

খালেদা জিয়াকে তিনটি অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বরকত উল্লা বুলু, আমান উল্লাহ আমান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন দিদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, বিএনপির ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব হাবিবুন-উব-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, প্রাক্তন সাংসদ সালাহ উদ্দিন আহমেদ, তার ছেলে তানভীর রবিন, নবীউল্লাহ নবী, কাইয়ুম কমিশনার, লতিফ কমিশনার এবং পেশাজীবী দলের নেতা সেলিম ভূঁইয়া।

অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এজাহারভুক্ত অপর ৪২ আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে চার্জশিটে।

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হলে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ।

এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক কে এম নুরুজ্জামান। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় দায়ের করা হয় আরো একটি মামলা। মামলা দুটিতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মীসহ মোট ৮০ জনকে মামলার আসামি করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সোহাগ ও লিটন নামে দুজন গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে কারা কারা জড়িত, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা, তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।






মন্তব্য চালু নেই