মেইন ম্যেনু

খালেদা-কেরি বৈঠক ইতিবাচক মনে করে বিএনপি

বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ, দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ও সংসদ অনুপস্থিত এবং সরকার বিরোধীদের ওপর সরকারের দমন পীড়নে কোনঠাসা হয়ে পড়া বিএনপির কাছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলটির নেতারা। দুনেতার সঙ্গে বৈঠকের পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি দেখা গেছে। দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার পাশাপাশি কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বৈঠকের বিষয় তাদের তৃপ্তির কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিএনপির সংবাদ প্রচার নিয়ে সাংবাদিক ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

যদিও কেরি খালেদার বৈঠক নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর ও বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকের আগমুহূর্ত পর্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনায় কেরি বহু দলীয় গণতন্ত্রের উপর জোর দিয়েছেন, যেখানে সবার মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির বাংলাদেশের ওই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ওয়াশিংটনও অসন্তোষ জানিয়েছিল। তারা সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনের প্রত্যাশাও জানিয়ে আসছে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রভাবশালী এই দেশটির সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়ে তারা আগের অবস্থানে আছে।

দুদু বলেন, বিএনপিকে তারা বড় দল হিসেবে দেখে বলেই জন কেরি সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা ধরে নিতে পারি সরকারি দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেমন সম্পর্ক আছে, বিএনপির সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক আছে। আমরা একে পজিটিভ হিসেবে দেখতে চাই।

দলটির অপর ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম বলেন, এই বৈঠকটি আমরা খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আমেরিকা গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্র সবদিক থেকে তারা অনেক উন্নত রাষ্ট্র। আমাদের দেশের গণতন্ত্র উন্নয়নে তাদের পাশে চাই, এক সঙ্গে কাজ করতে চাই। এ বিষয়গুলো বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, জন কেরিও বৈঠকে গণতন্ত্র, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলেছেন। অবাধ গণতন্ত্র অত্যন্ত মূল্যবান বিষয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া এ ধরণের সংকট মোকাবেলা করা কঠিন।

অবাধ নিবার্চন নিয়ে বিএনপি বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে বিদেশে নানা ফোরামে দাবি তুলে ধরেছে। কিন্তু বারবার বলারপরও এখনো সেই নিবার্চনের দেখা নেই। তাহলে এই বৈঠকে লাভ কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে আহমদ আযম বলেন, সাত বছর ধরে আমরা বলে আসছি। আরো যতদিন পর্যন্ত এই দেশে গণতন্ত্র, প্রতিনিধিশীল সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন এই নিয়ে আমাদের আন্দোলন, আলোচনা চলবে উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে। এ নিয়ে আমরা কাজ করে যাবো। নিবার্চন কবে হবে এ বিষয়ে সুনিদির্ষ্টভাবে কোনো কথা হয়নি। সরকারের সঙ্গে হয়েছে কিনা তা জানি না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করার কারণে বিএনপি খালেদা জিয়া সরকারি প্রটোকলের বাইরে চলে যান। এরআগ পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলীয় নেতার প্রটোকল পেয়েছেন। ফলে বিদেশী কোনো সরকার প্রধান বা রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশ সফরে আসলে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি থাকতো। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি প্রধান এখন একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। তাই তার সঙ্গে বিদেশী কোনো মেহমানের সাক্ষাতের বিষয়টি অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আয়োজন করে থাকেন দলের কূটনৈতিক কোরোর দায়িত্বশীল নেতারা।






মন্তব্য চালু নেই