মেইন ম্যেনু

খালেদা জিয়া গেলেই শহীদ মিনার অপমানিত হয় : সংসদে এমপিরা

সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই বলেই খালেদা জিয়া যতবারই যান, ততবারই শহীদ মিনার অপমানিত হয়। সে ও তার দল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সাংসদরা।

রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অধিবেশন চলাকালে এই আলোচনায় অংশ নেন- আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপন, মো. আব্দুল্লাহ ও লায়লা আরজুমান এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির আলতাফ আলী, বিএনএফ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আওয়াল।

শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সমালোচনা করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একুশের শহীদের প্রতি বিএনপি-জামায়াতের কোনো ধরনের শ্রদ্ধাবোধ নেই। যে কারণে, খালেদা জিয়া যখন শহীদ মিনারে যান তখন শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা হয়। প্রাণের এই প্রতিষ্ঠানটি অপমানিত হয়। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে সারা বিশ্বের মানুষের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

ডেইলি ষ্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজ মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। অথচ ভুল স্বীকার করে মাহফুজ আনাম পার পেয়ে যাবেন? তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে?

বিএনএফ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনী তুলে দেয়ার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা ভাসানীর জীবনী তুলে দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানের মতো একই কারণে যদি তার নাম বাদ দেয়া হয়, তাহলে সেটা দুঃখজনক। কারণ, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার তুলনা চলে না।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপন বলেন, যাদের মধ্যে ন্যূনতম দেশাত্মবোধ আছে, তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করতে পারে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে খালেদা জিয়া সেই কাজটি করেছেন। এই কারণে জনগন তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

ছিটমহল সমস্যার সমাধান একটি ঐতিহাসিক সফলতা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ দিন আটকে থাকা এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। মুক্তির আলো পেয়েছে ছিটমহলের জনগণ। এখন তাদের জীবনমানের উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে যাতায়াত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল বলেন, আপামর জনগণের দাবি জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি। বরং মসজিদের কমিটিগুলোতে জামায়াত সদস্যদের রেখে জঙ্গিবাদ নির্মূলের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এটা সম্ভব নয়।

জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিবাদ দমনে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই