মেইন ম্যেনু

খুলনায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণা তুঙ্গে

পৌর নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীরা সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণার সময় পাবেন। তাই শেষ মুহূর্তের জমজমাট প্রচারণায় জমে উঠেছে খুলনার দুটি পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ।

স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভার আকাশ-বাতাস। সবাই এখন একটাই আওয়াজ তুলছেন ‘ভোট চাই ভোটারের, দোয়া চাই সকলের’। এ আওয়াজ পথসভায়, উঠান বৈঠকে। উন্নয়নের মার্কা… মার্কা। এভাবেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা।

নির্বাচনী পোস্টার, হ্যান্ডবিল আর ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগর-জনপদ। উৎসব ও শঙ্কার মধ্যেও প্রার্থীরা বসে নেই। সময় স্বল্পতার কারণে খাওয়া-দাওয়া ভুলে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটতে হচ্ছে প্রার্থীদের। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ। শীত উপেক্ষা করে প্রার্থীরা পৌরসভার উন্নয়নে ভোটারদের দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি।

পৌরসভার নির্বাচনী এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জয়-পরাজয়ের আগাম বিশ্লেষণে মুখর হাট-বাজার আর চায়ের দোকানগুলো।

মেয়র প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে নামার সুযোগ পাওয়ায় এ নির্বাচন যেন জাতীয় নির্বাচনের মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে রাজনীতির মাঠের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রতীক নৌকা আর ধানের শীষের জমজমাট লড়াই দেখার সুযোগ মিলেছে অনেক বছর পর। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ এই দুই প্রতীকের লড়াই হয়েছে।

এদিকে, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনকে ঘিরে সরব খুলনা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দুই পৌরসভার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছে সমন্বয় কমিটি, মনিটরিং সেলসহ ১০ উপ-কমিটি। রোববার ও সোমবার দুই পৌরসভায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটছেন দলের প্রার্থীদের প্রচারণায়।

অপরদিকে, প্রচারণায় থেমে নেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও। পৌরসভাগুলোতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরছেন তারা। দলীয় প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আসন্ন পৌর নির্বাচনে খুলনার পাইকগাছা ও চালনা পৌরসভায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন ৮৭ জন প্রার্থী। এ দুটি পৌরসভায় বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৭ জন, সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রার্থী।

খুলনার চালনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে ৩৩ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সনৎ কুমার বিশ্বাস, ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ আব্দুল মান্নান এবং বর্তমান মেয়র জগ প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল (জগ)।

পাইকগাছা পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর পদে ৩৪ এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত ২ আসনে নারী কাউন্সিলর পদে কবিতা দাস বীনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর (নৌকা), বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী এড. জি এম আব্দুস সাত্তার (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এড. আব্দুল মজিদ গাজী (নারিকেল গাছ) প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালনা পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। নেই সড়ক বাতি। নদী ভাঙনের কবলে পড়তে হয় পৌরবাসীকে। এছাড়া রাস্তাগুলোর অবস্থাও ভালো না। পৌরসভার উন্নয়নে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। এখানে প্রতীকের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজও কাজ করবে। নৌকা আর ধানের শীষের পাশাপাশি হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে থাকবেন জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এ পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হবে। এমনটাই জানালেন চালনা পৌরবাসী।

এদিকে, এবারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ দুটি পৌরসভার বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন।

পাইকগাছা পৌরসভায় ব্যক্তি ইমেজের পাশাপাশি প্রতীকের কারণে ভোটাররা নৌকা আর ধানের শীষের দিকে ঝুকবেন বলে পৌরবাসীর ধারণা। তবে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতার (নারিকেল গাছ) প্রতীকের নিরব সমর্থন রয়েছে বলে ভোটাররা জানান।

চালনা পৌরসভার ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন রয়েছে। এখানে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হলে আমার বিজয় নিশ্চিত। তবে, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে কি না সংশয় রয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।’

পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচিত পৌর মেয়র। ইতোমধ্যে পৌরসভার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব কাজ সম্পন্ন করবো। আমার সমর্থক রয়েছে। পৌরবাসী পুনরায় আমাকে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভোটের আগেই সমর্থকদের হামলা-মামলাসহ নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।’

তবে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সনৎ কুমার বলেন, ‘এখানে নৌকার সমর্থক ব্যাপক। ভোটারদের কথা শুনেছি। বিগত মেয়র এখানের উন্নয়নে তেমন কোনো কাজ করেনি। আমি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর উন্নয়নে কাজ করবো।’এবার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

পাইকগাছা পৌরসভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে বিজয় নিশ্চিত।’ একই কথা বললেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. আব্দুল মজিদ গাজী। আর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জনগণের সমর্থন পেয়েছি। এবার নির্বাচনে নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর সেবা করবো।’

খুলনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পৌরসভার স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসারের নিকট ভোটের উপকরণ পৌঁছে গেছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্নের জন্য সোমবার সকাল থেকে জুডিশিয়াল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।’ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে যা করা প্রয়োজন সব কিছু করা হবে বলেও জানান তিনি।

খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিএ হালিম জানান, চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫টি সাধারণ। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের একজন এসআই’র নেতৃত্বে ৫ জন কনস্টেবল ও আনসারের একজন পিসি ও এপিসি’রসহ ১৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশের একটি মোবাইল টিম এবং প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪টি মোটরসাইকেলে পুলিশের ৮ জন সদস্য টহল দেবেন।

উল্লেখ্য, খুলনার চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রের ৭৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ভোটার রয়েছে ২৩ হাজার ২৯৯ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৬৬ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৭৩৬ নারী ভোটার।






মন্তব্য চালু নেই