মেইন ম্যেনু

খোঁজ মিলছে না পোর্ট সিটির ১৬ সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর

খোঁজ মিলছে না চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির ১৬ সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর। তারা নিখোঁজ নাকি ভর্তি ট্রান্সফার করে অন্যত্র চলে গেছে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা লুকোচুরি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পুলিশ বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত হওয়া যাবে এসব শিক্ষার্থীর কি অবস্থা। সম্প্রতি দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ তালিকা সংগ্রহ করে পুলিশ।

সম্প্রতি পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এ ১৬ শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে দেখিয়ে তালিকা জমা দেয় নগরীর খুলশী থানা পুলিশকে। কিন্তু এসব ছাত্র আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে অবস্থিত পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫০ জন সোমালিয়ান। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী।

সব রকমের চেষ্টা করেও তাদের কোনো সন্ধান মিলছে না। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর সিভিল, টেক্সটাইল, ত্রিপলি ও বিবিএ বিভাগে ভর্তি হয়েছিল এসব শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব ছাত্রকে অনুপস্থিত দেখিয়ে থানায় একটি তালিকা জমা দেয়। এর পর ছাত্ররা ইউনিভার্সিটিতে হাজির হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে গত মাসে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এই সংখ্যক সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির তথ্য আমাদের জানানো হয়েছে।

তবে বর্তমানে এসব শিক্ষার্থীর কি অবস্থা তা আগামীকাল মঙ্গলবার থানা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. নুরুল আনোয়ারের দাবি এই মুহূর্তে তার প্রতিষ্ঠানের কোনো সোমালিয়ান ছাত্র নিখোঁজ নেই। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যে কজন ছাত্র অনুপস্থিত ছিল তারা সবাই ক্লাসে যোগ দিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্টার্ড সূত্রের দাবি, নিখোঁজের বিষয়টি সেভাবে স্বীকার না করলেও ভর্তি ট্রান্সফার করে ১৫-১৬ জন সোমালিয়ান ছাত্র ঢাকা কিংবা নিজ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা রেকর্ড আছে কিনা তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায় সূত্রটি।

ইউনিভার্সিটি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, টেক্সটাইল ও ত্রিপলি বিভাগে সোমালিয়ান শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেক্সটাইল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য মতে, অন্যত্র ট্রান্সফার হয়ে গেলে সহপাঠী হিসেবে বিষয়টা তাদের জানার কথা। নিজ বিভাগে ৪-৫ জন অনুপস্থিত জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাসের কোনো সহপাঠী অন্য কোথাও ভর্তি ট্রান্সফার করে চলে গেলে তা আমাদের জানার কথা। অন্তত তারা আমাদের বলে যেতেন কোথায় তারা নতুন করে ভর্তি হচ্ছেন! কিন্তু এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।

এদিকে একসঙ্গে এত সোমালিয়ান ছাত্র নিখোঁজ হওয়া এবং তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লুকোচুরির বিষয়টাকে রহস্যজনক মনে করছে সচেতন মহল।






মন্তব্য চালু নেই