মেইন ম্যেনু

গঠনতন্ত্রের সঙ্গে স্থায়ী কমিটিতেও আসছে নতুন মুখ!

দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে বিএনপির ভেতরে-বাইরে । বিশেষ করে দলের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন, নতুন পদ সৃষ্টি,শীর্ষ কিছু পদে পরিবর্তনের বিষয় নিয়েই জল্পনা বেশি।

এ ছাড়া এবারের কাউন্সিলে প্রবীণদের চেয়ে তরুণ নেতারা ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে। দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তরুণদের সামনে আনার পক্ষে বলে জানা গেছে।

আর এসব বাস্তবায়ন হলে এত দিন সমঝোতা করে টিকে থাকা নিষ্ক্রিয় নেতারা পদ হারাতে পারেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

সাত বছর পর আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির জাতীয় সম্মেলন। এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দলটির পঞ্চম কাউন্সিল। এরপর কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি।

আসন্ন কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা-ভাবনা চলছে। চেয়ারপারসনের পাশাপাশি কো-চেয়ারপারসন বা কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে বিলুপ্ত করা হতে পারে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ।এ ছাড়া ‘চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ’ বিলুপ্ত করে ‘বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিল’ করা হতে পারে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ- এই দুই ভাগে ভাগ করার সম্ভাবনা আছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির সমর্থক বা বিএনপির প্রতি অনুরাগী বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে দলের পক্ষে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে গঠনতন্ত্রে একটি ধারা সংযোজনের কথা ভাবা হলেও সেটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলে দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোনো পরিবর্তন আসছে না এটা নিশ্চিত। তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক পদে আসছে নতুন মুখ। ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা জায়গা পেতে পারেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে নীরব থাকলেও বয়সে তরুণ নেতারা কাউন্সিলে ভালো পদ পেতে লবিং-তদবির শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এমন অনেক নেতাকে দলের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার লন্ডনেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

১৯ মার্চের কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, “এ বিষয়ে অনেকে মতও দিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির খালি জায়গাগুলো ভাইস চেয়ারম্যান বা উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে পূরণ করা হতে পারে। তবে এখানে সংখ্যা মনে হয় বাড়বে না। আবার চেয়ারপারসনের যেসব উপদেষ্টা আছেন, তাদের বিএনপির উপদেষ্টা করা হতে পারে। তখন তারা দলের হয়ে কাজ করবেন। এ ছাড়া ‘এক নেতা এক পদ’-এর বক্তব্য জোরালোভাবে এসেছে।

২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর ৩৮৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। পরে আরো কিছু যোগ হয়।

কাউন্সিলের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দলের স্থায়ী কমিটির হিসাব-নিকাশও সামনে চলে আসছে। তাতে নিষ্ক্রিয়তার পাল্লাই ভারী। ১৯ সদস্যের এই কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণে দলে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইতিমধ্যে একজনের ফাঁসি হয়েছে, একজন মারা গেছেন। আর কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য তারেক রহমান প্রায় আট বছর ধরে লন্ডনে। দলীয় সূত্রমতে,এসব কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হলে সবার আগে স্থায়ী কমিটিতে পরিবর্তন আসবে।

এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটিতে নতুন কারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তা নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লবিং চালানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক দুঃসময়ে যারা বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছেন,এমন নেতাদের নামই এ আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে এই মুহূর্তে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন হলে এ দুজন অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে আলোচনা আছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মহাসচিব হতে পারেন এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুকও। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘে তৎপরতা চালিয়ে খালেদা জিয়ার আস্থা অর্জন করেছেন।

এই পদে আসতে পারেন এমন যেসব নেতার নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আরো আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাদেক হোসেন খোকা ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যগত কারণে সারোয়ারী রহমান বাদ পড়লে নারী হিসেবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে দলের অনেকে মনে করছেন।






মন্তব্য চালু নেই