মেইন ম্যেনু

গণপরিবহনের নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি

চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহন বিশেষ করে ইজিবাইক, টমটম, হিউম্যান হলার, সিএনজিও টেক্সি এবং বাস সার্ভিসের জন্য সুনির্দিষ্ঠ নীতিমালা না থাকায় ও আইন প্রয়োগে ট্রাফিক বিভাগের কঠিন নজরদারি না থাকায় যাত্রিরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার। আর যাত্রি হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীর ইচ্ছায় গন্তব্যে না যাওয়া, যত্রতত্র পাকিং, বিকাল বেলায় অফিস ফেরত যাত্রীদের বাস বিঢম্বনা, চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানির শিকার সহ নানা অপরাধে গণপরিবহন সাধারন মানুষের যাত্রাপথে সহায়ক না হয়ে বিঢম্বনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। অন্যদিকে কোন প্রকার নিয়ম কানুন ও নীমিতালা ছাড়া ইজিবাইক চালু করা এবং পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা না করে মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে সাধারন যাত্রিদের দুর্ভোগ ও দুর্দশা বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় নগরীতে গণপরিবহনে শৃংখলা আনয়নে জরুরী ভাবে ইজিবাইক, টমটম, হিউম্যান হলার, সিএনজি ও বাস সার্ভিসের জন্য সুনিদিষ্ঠ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নগরীতে চলাচলকারী গাড়ী, চালক ও হেলপারে ডাটাবেস তৈরী, চালক ও হেলপারদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন, বিশেষ করে জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষন প্রদান, তাদের সাথে নিয়মিত সভার আয়োজন, যাত্রিদের বিঢম্বনা রোধে সিএমপি ও থানা পর্যায় হেলপলাইন চালু, প্রধান প্রধান স্টেশনগুলিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক, ক্যাব, শ্রমিক ও যাত্রী প্রতিনিধি নিয়ে যাত্রি হয়রানি তদারকি কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন দেশের ভোক্তাদের সংগঠন কনজুমারস অ্যাসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহনের বেহাল দশা ও ইজিবাইক, টমটম, হিউম্যান হলার, সিএনজিও এবং বাস সার্ভিসের জন্য সুনিদিষ্ঠ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন বিগত ২ বছর আগে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী চট্টগ্রামে লক্কর যক্কর বাসগুলি অপসারন করে নতুন বাস নামানোর জন্য বাস মালিকদের অনুরোধ করলেও আজ পর্যন্ত একটি বাসও রাস্তায় নামেনি। নগরীতে চলমান বাসের সংখ্যা কত? কতটি নিয়মিত চলাচল করে তার পরিসংখ্যানও হয়তো ট্রাফিক বিভাগে আছে কিনা সন্দেহ? অন্যদিকে মিটারে সিএনজি টেক্সি চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ট্রাফিক বিভাগ কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। অধিকন্তু সিএনজি টেক্সিনিয়ে চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংগঠিক হচ্ছে সেখানে ট্রাফিক বিভাগ শৃংখলা বিধানে সক্ষম হচ্ছে না। সিএমপি এক সময় সিএনজি টেক্সি চালকদের ডাটাবেস করার চিন্তা করেছিল পরে তা থেকে সরে আসে। এছাড়াও নগরীতে যত্রযত্র পার্র্কিং, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ইজিবাইক, হিউম্যান হলারগুলি কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই চলাচল করছে। যদিও এসমস্ত গণপরিবহনগুলিও নগরীর যাত্রী পরিবহনে অধিক ভুমিকা রাখছে, বিশেষ করে সাধারন যাত্রীদের জন্য অন্যতম বাহন হয়ে আছে। এসমস্ত গণপরিবহনগুলির বিশৃংখল পরিস্থিতির কারনে সাধারন জনগন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে আর এই রেজিস্ট্রশনবিহীন অবৈধ গাড়ী নিয়ে চলছে চাঁদাবাজি বানিজ্য যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনও জড়িত বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

এছাড়াও নগরীতে কতটি বাস চলাচলের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে, কতটি চলছে তার কোন সুনিদিষ্ঠ পরিসংখ্যান ও নজরদারি নেই। ফলে সকাল বেলায় অফিস ও কলকারখানা মুখি যাত্রীরা যেরকম হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। ঠিক তার চেয়ে কঠিন অবস্থা হয় ইপিজেড, পতেঙ্গা ও আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ফেরত যাত্রীরা। অনেক সময় নারী যাত্রীরা যথাসময়ে বাস না পেয়ে যাত্রা পথে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এখানে অধিকসংখ্যক বাস বিকাল বেলায রির্জাভ চলে যাওয়ায় বাস সংকট সৃষ্ঠি হয়। বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে বারবার বলার পরও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই নগরীতে একবার ব্যাটরী চালিত রিকসা প্রচলন করা হলো। আবার হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ করা হলো। একই কায়দায় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইজিবাইক চালনা শুরু হয় কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই। যেখানে ইজিবাইক চলাচলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাঁদাবাজি বানিজ্য। আর এসমস্ত বাহনে কিছু সংখ্যক যাত্রীও পরিবহনে অভ্যস্ত হতে শুরু করলো। আর হঠাৎ করে বিকল্প কিছু না করে বন্ধ করা হলো। কিন্তু সাধারন যাত্রিরা হয়ে পড়লো অসহায়। তাই নগরীতে চলাচলকারী ইজিাবাইক, টমটম, হিউম্যান হলার, সিএনজিও এবং বাস সার্ভিসের জন্য অনিতিবিলম্বে সুনিদিষ্ঠ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণপরিবহনের সমস্যা সমাধান ও এসংক্রান্ত নীতিমালা প্রনয়নের জন্য মেট্রো আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি থাকলেও কমিটি ৬০ লক্ষ যাত্রী/ভোক্তার কোন প্রতিনিধি নেই। সেখানে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যবসায় জড়িতরাই যাবতীয় নীতিনির্ধারন করে থাকেন, ফলশ্রুতিতে ভোক্তা স্বার্থ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই জরুরী ভাবে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিতে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত ভোক্তা অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবী জানান।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই