মেইন ম্যেনু

গভীর রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কয়েকটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

গভীর রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫টি দোকান পুড়ে গেছে। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরকারি কলেজের বিপরীতের এ দোকানগুলো অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ১২টার পরপরই বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০মিনিটের দিকে (সোমবার) ছিদামের স্যালুন ও জাবিদ ট্রেডার্সের তালাবদ্ধ দোকানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের লেলিহান শিখায় পাশের রড-সিমেন্টের দু’টি দোকান, ব্যবসায়ি মিঠুর কাঠের স’মিল, শ্রী গোবিন্দ’র পাইপ-পার্টসের দোকানেও আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে প্রায় ঘন্টাব্যাপি চেষ্টা করার পর রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তৎকক্ষনে কয়েকটি দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা কঠিন হলেও তা নেহাতই কম নয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় দোকানগুলোর সামনের যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’পাশে দূরপাল্লার অনেক বাস-ট্রাক আটকা পড়ে।

অগ্নিৎপাতের পরপরই খবর পেয়ে কলারোয়া থানার এসআই মোয়াজ্জেম, এএসআই ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজে স্থানীয়দের সহযোগিতা করেন। এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শিক্ষক দীপক শেঠ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ প্রমুখ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আগুন নেভানোর কাজে সাহায্যকারী কলারোয়া ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আ.রশিদ কচি, ব্যবসায়ি বিজু, মোশারফ, তারেক, দিশান, ভোলাসহ স্থানীয়রা জানান, দূর থেকে পানি আনতে বেশি সময় লাগার কারণে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসও আসতে কিছুটা দেরি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারতো। বিদ্যুতের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুত লাইন বন্ধ করার জন্য বারংবার মোবাইল ফোনে কল করার পর অন্তত ১০/১৫ মিনিট পরে বিদ্যুৎ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ফোন রিসিভ করে।

কলারোয়া থানার এসআই মোয়াজ্জেম জানান, তারা অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে-ই সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেন।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট লিডার আ.ছাত্তার জানান, সংবাদ পেয়ে-ই তাৎক্ষণিক আমরা রওনা হই। রাস্তায় ৮/১০টি বিট থাকায় হয়তো আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ঘটনাস্থলে এসেই তরিৎ গতিতে কাজ করে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।

এদিকে, সোমবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ কুমার তালুকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু প্রমুখ। তারা ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সাথে কথা বলেন ও সমবেদনা জানান।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে তাদের প্রায় ৪০লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই