মেইন ম্যেনু

গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ

শরিফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বৈশাখের শুরু থেকে দুর্বিষহ গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণ। ভ্যাপসা গরমের কারণে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। গরম বাতাস শরীরে লাগছে আগুনের হল্কার মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তিনেই। শিশু, বৃদ্ধসহ সব শ্রেণির মানুষ গরমে কাবু হয়ে পড়েছে। কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

প্রচণ্ড গরমের কারণে মারত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের দিন মুজুররা। সকাল

থেকেই তাপদাহ শুরু হওয়ায় মাঠে, ঘাটে, ফসলের ক্ষেত কিংবা ভ্যান, রিকশা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের। একদিকে গরম অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে

চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণ। ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই পান করছেন ঠান্ডা পানি ও পানীয় জল। সেই সঙ্গে খাচ্ছেন শসা। প্রচণ্ড গরমে তরমুজ, আনারস, ঠান্ডা পানীয়, ডাবের পানি যে যার সাধ্য মতো ক্রয় করে খাচ্ছেন। পিপাসায় কাতর মানুষ রাস্তার
ধারের খাবার খেয়ে অনেকেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গরমের সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। গত ১ সপ্তাহ ধরে দিনে রাতে সমান তালে চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। দিনরাত মিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে পিক আওয়ারে লোডশেডিং বর্তমানে নিয়মিত

ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গড়ে দিনের বেলা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, রাতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা। গরমের তীব্রতায় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বেড়েছে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রচণ্ড গরমে প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন পান করতে হবে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তার ব্যবসায়ী রেজাউল হাফিজ রাহী জানান, গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। চৈত্র মাসে কাঠফাটা গরম হবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ একটু নিরবিচ্ছিন্ন থাকলে ভোগান্তি কম হতো। কখন বিদ্যুৎ আসে আর কখন যায় এটা হিসাব রাখাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঠাকুরগাঁও গত এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত সমানতালে লোডশেডিং চলছে।

এছাড়া সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকাটা বর্তমানে রুটিনে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে আর আসার খবর থাকে না। এ রকম পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফ্যান, ফ্রিজ, কম্পিউটার, টিভিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলীজানান, আগামী তিন-চার দিনেও বৃষ্টির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

এমনকি তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণেই তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বৃষ্টি হলেই গরম কমে যাবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, ঘরের পরিবেশযতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখা গেলে ডায়রিয়া ও শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। এছাড়া গরমে শিশুদের বেশ সাবধানে রাখতে হবে।

রোদে যাতে বেশি ঘোরাঘুরি না করে তা দেখতে হবে। ঘেমে গেলে শরীর মুছে দিতে হবে। অধিক ঠান্ডা পানির পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা হালকা ঠান্ডা পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সুতির হালকা কাপড় পরতে হবে।

ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর মাহফুজুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় আমাদের জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম। তাই লোডশেডিং দিয়ে আমরা সে চাহিদা পূরণ করি। আর গরমের সময় বিদ্যুতের চাপ বেশি থাকায় লোডশেডিং একটু ঘন ঘন দেয়া হয়। ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা.

নজরুল ইসলাম প্রচণ্ড এই গরমে সবাইকে প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকতে হলে রাস্তার ধারে ফুটপাতের খোলা জায়গায় বিক্রি করা শসা, আখের রস, আনারস, লেবুব শরবতসহ সব ধরনের খোলা পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে হবে। গরমে বাইরের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।






মন্তব্য চালু নেই