মেইন ম্যেনু

গরিব মানুষেরাই ঋণ ফেরত দেন বেশি

চলতি বছরের আগস্টে ভারতে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে বন্ধন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার চার মাসে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ লাখ। গোটা ভারতে ২৭টি রাজ্যে ৫৯৮টি শাখার মাধ্যমে এটির কার্যক্রম বিস্তৃত। গ্রাহকের মাঝে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৯০ কোটি রুপি।
এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির ঋণ আদায়ের হার প্রায় শতভাগ। তাহলে কি ভারতে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি নেই? এ প্রশ্নই ছিল বন্ধন ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দ্রশেখর ঘোষের কাছে। জবাবে তিনি বললেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া হয় না। শুরু থেকে বন্ধন ব্যাংক গরিব মানুষকেই ঋণ দেয়। কারণ, গরিব মানুষের মধ্যে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা কম। তাই ঋণ ফেরত পাওয়ার হারটি শতভাগ।

চন্দ্রশেখর ঘোষ একসময় বাংলাদেশের নাগরিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে ভারতের নাগরিক। বর্তমানে তিনি সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। তাঁর সম্মানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) গতকাল সোমবার এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ‘ভারতের ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সভায় তিনিই ছিলেন মুখ্য আলোচক। বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।

নির্ধারিত বক্তৃতা শেষে এই আয়োজনে ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। তাতে উপস্থিত ব্যাংকার, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বন্ধন ব্যাংক ও ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রশেখর বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়ে থাকে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসব পরিচালক নিয়োগ করা হয়। বন্ধন ব্যাংকের ঋণ আদায় প্রক্রিয়া-সম্পর্কিত
অপর এক প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রশেখর বলেন, ঋণ দেওয়ার পর ঋণগ্রহীতারা ঋণের টাকা কীভাবে ও কোথায় ব্যবহার করেন, তা কঠোরভাবে তদারক করা হয়। এ কারণে ঋণের অপব্যবহার কম।

চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, গত সেপ্টেম্বর শেষে ভারতে ব্যাংক খাতে সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর বেসরকারি ব্যাংকে তা ২ শতাংশের কাছাকাছি। এই অবস্থায় ভারত সরকার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে আগামী চার বছরে ৭০ হাজার কোটি রুপি মূলধন সরবরাহ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতিউর রহমান বলেন, ‘ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত মজবুত ও স্থিতিশীল। মোবাইল ব্যাংকিংসহ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানা কর্মকাণ্ডে আমরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছি।’

ভারতের ব্যাংক খাতে ঋণ ফেরত দেওয়ার প্রবণতার বিষয়টি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ঋণ যদি ভালো জায়গায় দেওয়া হয়, তাহলে তা সঠিক সময়ে ফেরত পাওয়া যায়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে সরকার মূলধন জোগান দেওয়ায় যে সমালোচনা হয়, সেটি উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, ‘ভারত সরকার সে দেশের সরকারি ব্যাংকে ৭০ হাজার কোটি রুপি মূলধন জোগান দিচ্ছে। আর আমাদের দেশে এ বছর কয়েকটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে মূলধন জোগান দেওয়ার জন্য বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাতে অনেক সমালোচনা।’ তাঁর মতে, মূলধন জোগান দেওয়া সব সময় খারাপ নয়, যদি সেটি ব্যাংকের উন্নয়নে কাজে লাগে।






মন্তব্য চালু নেই