মেইন ম্যেনু

গরু হত্যার গুজবের জেরে আবারো কাশ্মীরে সহিংসতা

গরু হত্যার গুজবে এক মুসলমান ট্রাক চালককে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার দশ দিন পর হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর রোববার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে কাশ্মীরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, উদহামপুরে জাহিদ আহমেদ নামের ঐ মুসলামান ট্রাক চালককে দশ দিন আগে গো-মাংস খাওয়ার অভিযোগে গায়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় দিল্লীর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মারা যায় সে। জাহিদ মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার কাশ্মীরে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

পেট্রোল হামলার প্রতিবাদকারী জনতা পুলিশ লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। অনন্তনাগ জেলায় জাহিদের নিজের গ্রামে বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠি চার্জ করার ঘটনাও ঘটে।

দশ দিন আগে ৯ অক্টোবর ট্রাক সমেত জাহিদকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আক্রমণ করা হয়। জম্মুর উদহামপুরে তিনটি গরু হত্যার অভিযোগে জাহিদের ওপর এ হামলা করা হয়। ঐ সময় জাহিদ ও তার সহকারী চালক শওকত শ্রীনগরে যাচ্ছিল। হামলার দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হামলায় জাহিদের শরীরের ৬০ শতাংশ মারাত্মকভাবে পুঁড়ে যায়।

ঘটনায় জাহিদের চাচাত ভাই এনডিটিভিকে বলেন, ‘কেন তারা অভিযুক্তদের শাস্তি দিচ্ছে না। আমি মুফতি সাহেবকে (মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মাদ সায়েদ) ক্ষতিপূরণ দেব। প্রশাসন বা সরকারের কেউই আমাদের কাছে আসেনি।’

পুলিশ জানায়, জাহিদের ওপর হামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে জন নিরাপত্তা আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানায়, পরীক্ষা করে দেখা গেছে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় গরুগুলো মারা যায়। হিন্দু প্রধান এলাকাটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য গরুর হত্যার গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ হামলা জম্মু ও কাশ্মীরের সংসদকে নাড়িয়ে দেয়। বিরোধীদল দাবি করে বিজেপি আক্রমণকারীদের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারটি গোপন করতে চাইছে।

সেপ্টেম্বরে গরুর মাংস বিতর্কে ব্যাপক আন্দোলন প্রদেশটিকে নাড়িয়ে দেয়। এই মাসের প্রথমদিকে প্রদেশটির স্বাধীন সাংসদ প্রকৌশলী রশিদ গরুর মাংস দিয়ে পার্টি আয়োজন করলে কয়েকজন বিজেপি নেতা তাকে বেদম প্রহার করেন।

এক দশক আগে করা গরু হত্যা ও এর বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আইন উচ্চতর আদালত কর্তৃক পুনরায় প্রদেশগুলোতে বলবত করার পরই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

বিশেষত কিছু দিন আগে, গরুর মাংস খাওয়া এবং সংরক্ষণ করার গুজবকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর প্রদেশে মোহাম্মদ আখলাক নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসীরা। দাদরি গ্রামে আখলাকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু তছনছ করে দেয় গ্রামবাসী। সেসময় বাড়ির নারীদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে আখলাক এবং তার ২২ বছর বয়সী ছেলেকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে আনা হয় এবং ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যান আখলাক।

সূত্র: এনডিটিভি



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই