মেইন ম্যেনু

গর্ভবতী নারীদের কি ব্যায়াম করা উচিত ?

একজন সচেতন নারীই পারেন একটি সুস্থ-সবল শিশুর জন্ম দিতে। গর্ভবতী নারীর একটু বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয় – এটা আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু এ সময়ে ব্যায়াম করাটা কতখানি জরুরি, আদৌ জরুরি কি না এ ব্যাপারে জানা নেই বেশির ভাগ মানুষেরই।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য যেমন সুষম খাবারের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম করাও। গর্ভকালীন সময়ও তার ব্যতিক্রম নয়। গর্ভকালীন সময় সাধারণত বেশির ভাগ নারীরই ওজন ১৫ কেজি বেড়ে যায়। যেহেতু আগের তুলনায় কায়িক শ্রম করা অনেক কমে যায়, তাই ওজন বেড়ে যাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। এই বাড়তি ওজনের সাথে সাথে নিজেকে আনফিট মনে হতে থাকে। ধীরতা, স্থবিরতা আসে। কিন্তু এ সময়ে যদি সঠিক ব্যায়াম করা যায় তাহলে মা ও শিশু দুজনেই ভালো থাকেন। তবে অবশ্যই নিজে থেকে কোনো ব্যায়াম করতে যাবেন না। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যদি কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে সবার আগে নিজের ডাক্তারের কাছে নিন যে, আদৌ আপনার ব্যায়াম করা উচিত হবে কি না!
যেসব কারণে করা উচিত ব্যায়াম

– গর্ভকালীন সময়ে নানারকম শারীরিক সমস্যা হতে পারে। যেমন – পিঠে ব্যথা, রাতে ঘুম না হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। আর এখানেই ব্যায়ামের উপকারিতা। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পিঠের ব্যথা কমে যায়, ইন্টেস্টাইনের মুভমেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। ব্যায়াম স্ট্রেস ও উদ্বিগ্নতা কমিয়ে রাতে ঘুমাতে সাহায্য করে। ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চেহারায় নিয়ে আসে নতুন উজ্জ্বলতা।

– গর্ভকালীন সময়ে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে হাত-পায়ের জোড় ঢিলে হয়ে যায়। ফলে হাত-পায়ে ব্যথা হতে পারে। জোড়ের মধ্যে যে লুব্রিকেটিং ফ্লুয়িড থাকে, ব্যায়াম করলে তার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে হাত-পায়ে ব্যথা অনেক কম হয়।

– ব্যায়াম ঊরু, পিঠ ও শরীরের নিম্নাংশের মাসল টোন করে পশ্চার ভালো করতে সাহায্য করে। আপনার শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে। হার্ট ও পেশীকে শক্তিশালী করে প্রসবের সময় লেবার পেইন কমায়।

– গর্ভাবস্থায় যেহেতু চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসে তাই অনেকে এই বদলগুলোর সাথে চট করে মানিয়ে নিতে পারেন না। নিজেকেই অচেনা মনে হয়। মন-মেজাজ ভালো থাকে না। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডরফিন (এক ধরনের কেমিক্যাল) নিঃসৃত হয় যা মন ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও ব্যায়াম এনার্জি লেভেল বাড়াবে ও আপনাকে “সেন্স অব কন্ট্রোল” দেবে, যা পরোক্ষভাবে মন ভালো রাখে।

– গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম করলে বাচ্চা হওয়ার পর ব্যায়ামের রুটিনে ফিরে আসা খুব সহজ হয়ে যায়। ফলে খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যাওয়া ওজন কমে যায়।

তথ্যসূত্র: ভেসনা জেকব, ফিটনেস এক্সপার্ট,
স্ট্রংলিভিং ডটকম,
রবিন বারিকদার, জিম ইন্সট্রাক্টর ও ফিটনেস এক্সপার্ট






মন্তব্য চালু নেই