মেইন ম্যেনু

ঢাকায় এশায়াত সম্মেলনে লাখো মুসলমানের ঢল

গাউছুল আজম ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল অতীত পুনরুদ্ধারের রূপকার

কে.এম জাহেদ, ঢাকা বায়তুল মোকাররম থেকে : কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মোর্শেদে আজম আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, কালজয়ী আধ্যাত্মিক মনীষী ও কিংবদন্তীতুল্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব গাউছুল আজম বর্তমান যুগে ইসলামের স্বর্ণযুগের পুনরাবৃত্তির অগ্রনায়ক। চৌদ্দশত বছর পরে এসে আধ্যাত্মিক জাগরণের মাধ্যমে বিশ্বময় ইসলামের পুনর্জাগরণ ও গৌরবোজ্জ্বল অতীত পুনরুদ্ধারের রূপকার। তাঁর তরিক্বতে রয়েছে ইসলামের সুমহান আদর্শের সোনালী অতীত তাওয়াজ্জুহ্, মোরাকাবা ও ফয়েজে কুরআনের জ্যোতিতে আলোকিত হওয়ার সুনিপুণ আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি’১৬ শনিবার রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বরে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে পবিত্র জশ্নে জলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ঐতিহাসিক এশায়াত সম্মেলনে উপস্থিত লাখো সুন্নি জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগে ইসলাম, সুন্নাতে নববী ও আদর্শের প্রতি এতই সচেতন, দৃঢ়চেতা গুণী ব্যক্তিত্ব গাউছুল আজম ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে রাখছেন অসামান্য অবদান। বেলায়তের সর্বোচ্চ পদে ও খলিফায়ে রাসুলের মর্যাদায় অভিসিক্ত এ মহান মনীষী দেশ-বিদেশে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও পাঠাগার স্থাপন এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতির বিপরীতে যুব সমাজের মুখে হামদ-নাত পরিবেশন, মুসলমানদেরকে ইসলামী তাহজীব ও তামাদ্দুন অনুসরণ-অনুকরণে ধাবিত করার যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যিই অসাধারণ। যাঁর তরিক্বতের সংগঠনের মুনিরীয়া যুব তবলীগের মনোগ্রাম বৃক্ষ-তরুলতা থেকে শুরু করে কবরেও পর্যন্ত অলৌকিকভাবে অংকিত হয়ে এর কবুলিয়তের সাক্ষ্য বহন করছে।

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদাররেছিন সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ¦ এ.এম.এম. বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর, বাংলাদেশ প্রেসিডেন্সী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মুহাম্মদ হারুন-আর রশিদ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন এর মহাসচিব হযরতুলহাজ¦ আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজী। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া।

প্রধান অতিথি যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, যুবকেরা হচ্ছে দেশ ও জাতির প্রাণ। যুব সমাজ যদি তরিক্বত চর্চায় আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে কোরআন-সুন্নাহ্র আলোকে জীবন গঠন করে তাহলে বাংলাদেশ সহ পুরো পৃথিবীটাই হবে শান্তির আবাসভূমি।

সম্মেলনে গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রী আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর এপিএস আলহাজ্ব মুহাম্মদ নূর খান।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ¦ এ.এম.এম. বাহাউদ্দীন বলেন, যুগশ্রেষ্ঠ অলী কাগতিয়ার গাউছুল আজম এবং তাঁরই উত্তরসূরী অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী তরিক্বতের দীক্ষায় দেশ-বিদেশের অগনিত যুবকদেরকে সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গীবাদ থেকে বিমুখ করে সত্য, ন্যায় ও শৃঙ্খলার পথে পরিচালিত করার যে দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন -তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু দেশে নয়, বিশ্বসমাজেও আজ বেশ সমাদৃত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আবুল মনছুর বলেন, তরিক্বতের মাধ্যমে যুব সমাজকে আলোর পথ দেখানোর পাশাপাশি কাগতিয়ার গাউছুল আজম ইসলামী শিক্ষার প্রসারে নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে দেশে-বিদেশে বহু মসজিদ-মাদ্রাসা নিমার্ণের মধ্যে দিয়ে ইসলামের খেদমতে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা অন্যদেরকেও প্রেরণা যোগাবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে কাগতিয়া দরবারে রয়েছে বিশ্ববিরল রূহানী প্রযুক্তি ‘তাওয়াজ্জুহ্ বিল গায়েব’। যে প্রযুক্তিতে বিশ্বের যে কোন দেশের মুসলিম নারী নিজগৃহে বসে এ তরিক্বতের নেয়ামত গ্রহণ করে নূরে মুহাম্মদীর জ্যোতিতে আলোকিত হতে পারেন।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ¦ কামাল উদ্দিন মজুমদার, চেয়ারম্যান, ফেনী পরশুরাম উপজেলা পরিষদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ ড.সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ উদ্দিন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, মাওলানা সেকান্দর আলী, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান নোমান ও মাওলানা মুহাম্মদ ফোরকান।

সম্মেলনে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ, জাতীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন। ভোর থেকেই দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সম্মেলনস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাগরিবের আগেই সম্মেলনস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এর আশপাশের এলাকা ও সড়ক লোকে লোকারন্য হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

মিলাদ-কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কাগতিয়ার গাউছুল আজমের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।






মন্তব্য চালু নেই