মেইন ম্যেনু

গাছে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর এবং প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে গাইবান্ধার পুলিশ। ঘটনার পরপরই নির্যাতিত নারীকে উদ্ধার ও দুই নির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জরুরিভাবে নির্যাতিত গৃহবধূ আতিয়া বেগমকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, রাত ১০টার দিকে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে জরুরিভাবে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী স্বামী ফারক হোসেন, ভাসুর জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে ঘটনার পর ৬ জনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, শনিবার (৯ জুলাই) দিনে-দুপুরে গাছের সঙ্গে বেঁধে আতিয়াকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাচ্চু মিয়া লোকজন নিয়ে সেখানে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গ্রাম্য শালিসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ওই গৃহবধূকে থানা পুলিশ করতে দেয়া হয়নি। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করতে নিষেধ করা হয়।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার মধ্য ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল্লাহ সরকারের মেয়ে আতিয়া বেগম। একই গ্রামের মোজা মিস্ত্রির ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষ যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করে। মেয়ের সুখের কথা ভেবে আতিয়ার বাবা আতিকুল্লাহ সরকার যৌতুক হিসাবে জামাই ফারুককে ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি থাকে ২০ হাজার টাকা। এই ২০ হাজার টাকা আর দিতে পারেননি আতিকুল্লাহ সরকার।

আতিয়ার স্বামী ফারুক হোসেন নিজেও মিস্ত্রির কাজ করেন। সংসার মোটামুটি চলে। সুখেই কাটছিলো তাদের সংসার। ১০ বছর সংসার জীবনে এ দম্পতির ঘর আলো করে আসে দুই সন্তান। প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ার পর থেকেই যৌতুকের বাকি ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্বামী ফারুকের সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দিতে শুরু করে আতিয়ারের। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগে থাকতো।

২০১৩ সালে স্ত্রী আতিয়া ও দুই সন্তান রেখে কাজের কথা বলে বাড়ি ছাড়েন ফারুক হোসেন। সেই যে যাওয়া, আর খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন না স্ত্রী-সন্তানের। স্বামী খোঁজ না নিলেও স্বামীর বাড়িতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিলো আতিয়ার।

পেটের তাগিদে কাজ নেন অন্যের বাড়িতে। কোনো মতে দুই সন্তান নিয়ে পার করছিলেন দিন। স্ত্রী, সন্তানের ভরন-পোষণের টাকা দিচ্ছিলেন না স্বামী ফারুক হোসেন, বাড়িতেও আসতেন না। তবে যেখানে থাকত সেখান থেকে বাবা-মা, ভাইবোনের নামে নিয়মিত টাকা পাঠাত। তবে ওই টাকা আতিয়া ও তার দুই সন্তানকে দেয়া হতো না।

দীর্ঘ সময় খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে স্বামীর প্রতীক্ষায় থেকেও কোনো কূল পাচ্ছিলেন না এ গৃহবধূ। খাবারের কষ্টের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে ২০১৫ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে আতিয়া বেগম আশ্রয় বাবার সংসারে।

এভাবে চলতে থাকলেও যৌতুকের বাকি ২০ হাজার টাকার জন্য অতিয়ার বাবা আতিকুল্লাহ সরকারকে চাপ দিতে থাকে স্বামী ফারুক হোসেনের পরিবারে পক্ষ থেকে।

তারা আতিয়ার বাবাকে জানান, যৌতুকের বাকি ২০ হাজার টাকা না দিলে ফারুক আর বাড়িতে আসবে না। সে বিয়ে করে অন্যত্র থাকবে। রোজায় স্বামী ফারুক হোসেন বাড়ি আসার খবর জেনে দুই সন্তান নিয়ে ঈদের একদিন পর শনিবার (৯ জুলাই) শ্বশুর বাড়িতে যায় আতিয়া বেগম।

স্বামী ফারুক হোসেনসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন অতিয়ার কাছে জানতে চায়, যৌতুকের বাকি টাকা সে নিয়ে এসেছে কি না। কিন্তু আতিয়ার মুখে ‘না’ শব্দ শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তারা। দেবর সঞ্জু, সুমন, আব্দুর রশিদসহ বাড়ির লোকজন আতিয়াকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তারপর টেনে-হেঁচড়ে প্রকাশ্যে বাড়ির পাশে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে।

খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে গৃহবধূ অতিয়াকে উদ্ধার করে।






মন্তব্য চালু নেই