মেইন ম্যেনু

গাছ বাড়ি নয়, তৈরী হলো গাছ হোটেল!

অনেক অনেক কাল আগের কথা৷ সভ্যতার উন্মেষ হয়নি তখনো৷ সেই সময় মানুষ থাকত গাছের ডালে, পাখির মতো৷ সেই সময় গত হয়েছে, তাও অনেক কাল আগে

তবে পূর্ব পুরুষের সেই আবাস এখনো মানুষের মনে দোলা দিয়ে যায়৷ তাই হয়তো শৈশবে সবাই হতে চায়, পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে, গাছে নীড় বেঁধে থাকতে৷ সেই স্বপ্ন বাস্তব করতেই ট্রি হাউস হোটেল৷

ইউরোপ-অ্যামেরিকায় কিশোর-কিশোরীদের খেলার একটা বিশেষ জায়গা হলো ট্রি হাউস বা গাছ-বাড়ি৷ এবার ছেলেবেলার সেই ‘খেলাঘর’ প্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল হয়ে ফিরে এসেছে, বেশ চড়া দামে৷

জার্মানির একেবারে পুব কোণায়, পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে জঙ্গলের মধ্যে একটা গ্রাম, যেন কোনো ফ্যান্টাসি ফিল্মের দৃশ্যপট! গাছের সঙ্গে লাগোয়া ন’টি কাঠের বাড়ি, যেগুলোতে সিঁড়ি কিংবা মই দিয়ে চড়তে হয়৷ এটাই হলো ‘গাছ-বাড়ির হোটেল’, যার পোশাকি নাম সংস্কৃতি-দ্বীপ তপোবন৷

ড্রেসডেন শহর থেকে আগত দুই বান্ধবী, লিজা কিয়র্স্টেন এবং পাউলিনা উর্সিনস এখানে গাছের মাথায় রাত কাটাতে চান৷ এই রূপকথার কাঠের বাড়িগুলোর মতো দেখতে হোটেলে এক রাতের ভাড়া ১৮০ ইউরো কিংবা তার বেশি হতে পারে৷

প্রত্যেকটি গাছ-বাড়ি কোনো একটি বিষয় ও রূপকথার কোনো কাল্পনিক চরিত্রকে নিয়ে সৃষ্টি৷ আরামের উপকরণ সব বাদ দেয়া হয়েছে: এখানে না আছে কলের জল, না বিদ্যুৎ, না হিটিং৷ টেলিভিশন, ইন্টারনেট কিংবা রুম সার্ভিসও অনুপস্থিত৷ তবে ও সব বাদ দিয়ে থাকতে রাজি হলে, চারতলা উঁচু থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মন ভরানো যাবে৷

২০০৫ সালে ইয়ুর্গেন ব্যার্গমান এই ‘ট্রি হোটেল’-টি তৈরি করেন৷ ইয়ুর্গেন হলেন শিল্পী৷ গাছ-বাড়ির বেশ কয়েকটি তৈরি হয়েছে তার নিজের নকশায়৷ জার্মান পর্যটন পুরস্কার বিজয়ী ইয়ুর্গেন ব্যার্গমান বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় এ ধরনের সব গাছ-বাড়ি দেখে বড় হয়েছি৷ আমি নিজেও বস্তুত একটি গাছ-বাড়িতে থাকি, আমার অফিসও একটি গাছ-বাড়িতে৷ আমার অতিথিদেরও আমি সে সুযোগ দিতে চাই৷’

চার মিটার উচ্চতায়; বাড়ির দেয়াল অ্যালুমিনিয়ামের পাতে মোড়া৷ বাড়ি দু’টি ভাড়া নেয়া যায়; ভাড়া পড়ে সপ্তাহে ৮০০ ইউরো কিংবা তার বেশি৷ শোবার ঘর, বসবার ঘর আর স্নানের ঘর মিলিয়ে প্রায় ৩০০ স্কোয়্যার ফুট৷

গাছ-বাড়ি দু’টির মালিক কলিয়া স্টেগেমান তার শৈশবের স্বপ্ন পূর্ণ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কিশোর এ ধরনের একটি গাছ-বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখে বলে আমার ধারণা৷ আমার ক্ষেত্রে সেটা আমার বয়সের অনুপাতে এই চেহারা নিয়েছে৷ আসলে এটা খেলা, অরণ্য প্রকৃতি, জানার কৌতূহল, এসব মিলিয়ে একটা কিছু৷ হয়তো নতুন কিছু পরীক্ষা করে দেখার আনন্দ; আবার আরামপ্রদ, প্রথাগত বাড়ি তৈরি করার আত্মপ্রসাদটাও রয়েছে৷’

সুইডেনের বোডেন পৌর এলাকাটি মেরুবৃত্তের ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে৷ কেন্ট ও ব্রিটা লিন্ডভাল ২০১০ সালে এখানে তাদের ‘ট্রি হোটেল’-টি খোলেন৷ কেন্ট লিন্ডভাল বলেছেন: ‘গাছের মগডালে এসব জিনিস করাটা একটা মজার ব্যাপার….এখানে আমাদের চারপাশে একটিই বস্তু আছে: একগাদা গাছ৷ কাজেই আমাদের তা নিয়েই কিছু একটা করতে হয়েছে৷’

মাটি থেকে ছ’মিটার উঁচুতে ছ’টি ডিজাইনার গাছ-বাড়ি– প্রত্যেকটি বাড়ি একক ও অনন্য; প্রতিটি বাড়িই ভিন্ন ভিন্ন স্থপতির নকশা অনুযায়ী তৈরি৷ কটেজগুলো ১৬০ থেকে ৫৬০ স্কোয়্যার ফুট৷ আসবাবপত্র যথাসম্ভব কম – কিন্তু দামি৷ দু’জনের থাকার এক রাত্তিরের ভাড়া ৫০০ ইউরো কিংবা তার বেশি৷

কেন্ট লিন্ডভাল জানালেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম একটা ডিজাইনার পরিবেশ প্রেজেন্ট করতে৷ ট্রি হাউসে থাকার অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক, সুন্দর একটা কিছু হতে হবে৷’

ফেরা যাক জার্মানির গাছ-বাড়ি হোটেলে৷ লিজা কিয়র্স্টেন ও তার বান্ধবী হোটেল-সংলগ্ন অ্যামিউজমেন্ট পার্কে দিনটা কাটিয়েছেন৷ লিজা কিয়র্স্টেন বলেন, ‘একটা সাধারণ হোটেলে তো সবসময়েই ঘর নেয়া যায়, সব জায়গাতেই৷ অবশ্যই সেখানে আরাম অনেক বেশি৷ কিন্তু এখানে আছে অ্যাডভেঞ্চার, নতুন সব অভিজ্ঞতা৷ আমরা একটা জঙ্গলের মধ্যে রয়েছি – এমনকি বাড়িটাও দোলে! সেটাই তো একটা দারুণ ব্যাপার৷’

গাছ-বাড়ি হোটেলগুলো পরস্পরের থেকে যতই অন্যরকম হোক না কেন, একটি বিষয়ে তারা এক: সন্ধ্যায় বাতাসের শব্দ আর পাতার মর্মরে অতিথিদের চোখে ঘুম নেমে আসতে বাধ্য৷ তথ্যসূত্র : ডয়চে ভেলে






মন্তব্য চালু নেই