মেইন ম্যেনু

গান বাজাতে নিষেধ করায় শিক্ষার্থীকে পেটালো ছাত্রলীগ

লাইব্রেরিতে গান বাজাতে নিষেধ করায় দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। বুধবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই শিক্ষার্থীকে পেটানোর পর ছাত্রলীগের কর্মীরা শওকত নামে এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাইব্রেরির এক নারী কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাষ্ট্রনীতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সুজন, শওকত ও মীম নামের তিন ছাত্র কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করছিল।

এ সময় লাইব্রেরির কর্মচারী তানিয়া ইসলাম রনি ও তার ভাই আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র জনি আহম্মেদ উচ্চস্বরে গান বাজাচ্ছিলেন। গান বাঁজানোর শব্দে পড়াশুনার ক্ষতি হওয়ায় রাষ্ট্রনীতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মীম গান বাঁজাতে নিষেধ করে। এতে ওই তিন ছাত্রের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে লাইব্রেরির কর্মচারী তানিয়া রনি ও তার ভাই ছাত্রলীগ কর্মী জনি।

বাকবিত-ার এক পর্যায়ে সুজন ও জনি মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় লাইব্রেরির কর্মচারী তানিয়া ইসলাম রনি ফোন করে ছাত্রলীগ কর্মীদের ডেকে আনে।

দুপুর ১টার দিকে ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীরা লাইব্রেরিতে গিয়ে রাষ্ট্রনীতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সুজন ও শওকতকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সুজন পালিয়ে গেলে শওকতকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।

লাইব্রেরির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছাত্র মারধরের ঘটনায় পরিকল্পনাকারী নারী কর্মচারী তানিয়া ইসলাম রনি স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কাজ করে থাকে।

প্রায় প্রতিদিনই ছাত্রলীগের জুনিয়র গ্রুপের একাধিক কর্মী ও তার ভাই জনিকে নিয়ে লাইব্রেরিতে আড্ডাবাজি করে পরিবেশে বিঘœ ঘটিয়ে থাকে। ওই কর্মচারী স্থানীয় প্রভাশালী ঠিকাদার রাজু আহম্মেদের মেয়ে হওয়ায় ও ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে ভাল যোগাযোগ থাকায় তার ভয়ে অফিসের অধিকাংশরা তটস্থ থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে তানিয়া ইসলাম রনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন-‘পুলিশে দেয়া ছাত্র শওকত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল। সে ছাত্রদলের কর্মী। যে কারণে তাকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।’

মারধরের শিকার ছাত্ররা নিজেদের দলীয় কর্মী নয় উল্লেখ করে ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন-‘সুজন, শওকত নামে আমাদের কোনো কর্মী নেই। তবে লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত সাধারণ ছাত্রদের মারধর করা কোনো সভ্য রাজনৈতিক কর্মীদের কাজ নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

প্রক্টর ড. ত ম লোকমান হাকিম বলেন-‘লাইব্রেরিতে কয়েকজন ছাত্র মারামারি করে। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িয়ে পড়ার পর আমরা মারধরের শিকার শওকত নামে এক ছাত্রকে রক্ষার জন্য কৌশলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক ছাত্রকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই