মেইন ম্যেনু

গার্লফ্রেন্ড খুঁজতে ৭ লাখ রুপি গচ্চা দিলেন বৃদ্ধ

বয়স তার ৬৬ বছর। রেলের সাবেক ঠিকাদার। এখন অবসরে। সময় কাটে না তাই ভীমরতি ধরেছিল। এই বয়সে গার্লফ্রেন্ড খুঁজতে নেমেছিলেন। পেয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেলেন না। উল্টো প্রতারণা শিকার হলেন, খোয়ালেন সাড়ে সাত লাখ রুপি।

ওই বৃদ্ধের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে তিন নারীসহ পাঁচ জন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের নাম বিজয় সিং, প্রশান্ত বাজ, জ্যোতি সিং, প্রিয়াঙ্কা গুহ ও সুপর্ণা দাস। বিজয়-প্রশান্তের বয়স চল্লিশের কোঠায়। তিন তরুণীর বয়স তিরিশের মধ্যে।

বিজয়ই এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। জ্যোতি, প্রিয়াঙ্কা ও সুপর্ণাকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতো বিজয় ও প্রশান্ত।

গোয়েন্দা সূত্র কলকাতার গণমাধ্যমকে জানায়, গত ৩০ জুলাই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রতারিত বৃদ্ধ। অভিযোগে তিনি জানান, খবরের কাগজে একটা বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, পুজোর ক’দিন গার্লফ্রেন্ড চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন। একটি মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছিল।

সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে ও-পাশে এক নারীকণ্ঠ বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করেন, পুজোর কয়দিন বান্ধবী চান তিনি? উত্তরে তিনি জানান, রোজই বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটাতে চান। ধীরে-ধীরে ‘এসকর্ট রেজিস্ট্রেশন’, ‘সার্ভিস চার্জ’ বাবদ মোটা টাকা চাওয়া হয় বৃদ্ধের কাছে। প্রতিবারই একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা ‘ট্রান্সফার’ করার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশ অক্ষরে-অক্ষরে পালনও করেন ওই বৃদ্ধ।

বয়স ৬৬ শুনে ‘মেডিক্যাল টেস্ট’ বাবদও টাকা চাওয়া হয় বৃদ্ধের কাছে। সেই টাকাও অগ্রিম মিটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এভাবেই কয়েক ধাপে মোট সাড়ে সাত লাখ রুটি দেন ওই বৃদ্ধ।

কিন্তু হঠাত্‍ এক দিন লক্ষ্য করেন, মোবাইল ফোনটি বন্ধ। গার্লফ্রেন্ডের টোপ দেখিয়ে যে তাকে বোকা বানানো হয়েছে, সেটা টের পেতে আর বাকি থাকে না। তখনই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পুলিশ সেই মোবাইল নম্বর অনুসরণ করে খদ্দের সেজে ওই চক্রের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানা যায়, কসবায় একটি টেলি-কলিং সেন্টার থেকে অপারেশন চালাত এই চক্র। অবশেষে ধরা পড়ে তারা।






মন্তব্য চালু নেই