মেইন ম্যেনু

গাড়ির দীর্ঘ জট ঢাবিতে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার পরিবেশ

ছবিতে দেখলে মনে হবে এটা রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, অথবা মগবাজারের চিত্র। যানজট লেগেই থাকে। কিন্তু আসলে তা নয়। এ চিত্র দেশের একমাত্র প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মোড়ের চিত্র। নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন? কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ চিত্র এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিত্য দিনের। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোন বহিরাগত যানবাহন চলাচলের নিয়ম নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার কেন্দ্রে হওয়ায় এখানকার অবস্থানরত নাগরিকের চলাচলে সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রায় ধরনের যানবাহনই চলতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসটির একাডেমিক পরিবেশ।খবর পরিবর্তনের।

বহিরাগত লোকাল বাস– ট্রাক– লড়ি দাপটের সাথে চলায় নিজ ক্যাম্পাসেই নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা। কারণ ক্যাম্পাসে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর রাস্তাগুলোতে একটু বেশি যানজট থাকায় সময় সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ পথ- হাইকোর্ট মোড়, শাহবাগ, পলাশী ও নীলক্ষেত মোড়ের রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে বহিরাগত লোকাল বাস, ট্রাক, লরি ও প্রাইভেট কার। এর ফলে প্রায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় থাকে যানজট। এতে সঠিক ভাবে চলাচল করতে পারে না শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সময় শাহবাগের যানজট চলে আসে টিএসসি পর্যন্ত, নীলক্ষেতের যানজট আসে ভিসি চত্বর পর্যন্ত, পলাশীর যানজট আসে জগন্নাথ হল পর্যন্ত, মেডিকেল মোড়ের যানজট আসে শহীদ মিনার পর্যন্ত আর দোয়েল চত্বর, চানখারপুল এবং হাইকোর্টের যানজট কার্জন হলকে ঘিরে টিএসসি গিয়ে শেষ হয়। এসব যানবাহন চলাচল ও হর্নের শব্দে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। এর ফলে ক্ষতি হচ্ছে তাদের একাডেমিক পরিবেশ।

এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। এ বিষয় ঢাবির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী রোমানুজ্জামান (রনি) অভিযোগ করে বলেন, আমার তো মনে হয় এটি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস না, এটি গুলিস্তানের কোনো জায়গা। যেখানে অবাধে মানুষ যাতায়াত করতে পারে। যেখানে সাধারণ শিক্ষর্থীদের কোনো নিরাপত্তা নাই। আছে শুধু যানজটের শব্দ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি রেস্ট্রিকটেড এরিয়া। এখানে হর্ন বাজানো ঠিক না। আমার মনে হয় এমন ভাবে যান চলাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্বলতার বহি:প্রকাশ। আসলে যেকোনো জিনিসের সঠিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে এমনটা হওয়ার কথা না। আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয় আরেকটু নজর দেওয়া দরকার।

এদিকে এর আগে অবৈধ যানবাহন প্রবেশের প্রতিবাদে কয়েকবার রাস্তা অবরোধ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ কয়েকটি কর্মসূচিও পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয় ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ আলী বলেন, ‘বহিরাগত বড় গাড়ি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য উচ্চতামাফিক স্ট্যান্ড বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর পুলিশ প্রশাসনকেও ভাল ভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে ট্রাক ছাড়া যেকোনো ধরনের পরিবহন চলাচল করতে পারবে। এতে কোনো বাধা নেই। কেননা এটা পাবলিক রোড।

এক প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছুটা তো সমস্যা হচ্ছেই। তার পরও কিছুই তো করার নেই আমাদের, সারা ঢাকাতেই তো জ্যাম। সেখানে আমরা চাইলেই যে কোনো কিছু করতে পারিনা। তাই এ বিষয় পুলিশ প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে ক্যাম্পাসে গাড়ি নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানো হয়।






মন্তব্য চালু নেই