মেইন ম্যেনু

গীর্জায় নামাজ আদায় করেন স্কটল্যান্ডের মুসলমানরা!

স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের একটি অংশ। এটি গ্রেট ব্রিটেনের উত্তর তৃতীয়াংশে অবস্থিত। এডিনবরা দেশের রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। স্কটল্যান্ডের মোট আয়তন ৭৮,০৮০ বর্গকিলোমিটার।

স্কটল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ স্কটিশ ও ৭.৯ শতাংশ ব্রিটিশ। অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আছে ১.৯ শতাংশ উপজাতি শ্বেতাঙ্গ, ১.২ শতাংশ পোলিশ, ১ শতাংশ আইরিশ, ০.৯ শতাংশ পাকিস্তানি ও ০.১২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ক্যারিবিয়ান স্কটিশ।

জনগণের ৩২.৪ শতাংশ চার্চ অব স্কটল্যান্ডের অনুসারী। রোমান ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাসী ১৫.৯ শতাংশ। অন্যান্য খ্রিস্টান ৫.৫ শতাংশ, মুসলিম ১.৪ শতাংশ ও হিন্দু ০.৩ শতাংশ।

স্কটল্যান্ডে প্রায় ৬০ হাজার মুসলমান বসবাস করে এবং ইসলাম দেশটির দ্বিতীয় প্রধান ধর্ম। স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩০টি মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদসমূহের মাঝে অলোচিত মসজিদ হলো- স্কটল্যান্ডের আল মাখতুম মসজিদ।

আল মাখতুম মসজিদটি স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে অবস্থিত। মসজিদটির ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। ২০১৩ সালে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়েছে। আল মাখতুম কলেজ অব হাইয়ার এডুকেশন চত্বরে মসজিদটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।

মসজিদটি উদ্বোধন করেছেন যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুর রহমান গানেম আল মুতাইবি। দুবাইয়ের উপ-শাসক ও অর্থমন্ত্রী শেখ হামদান বিন রশিদ আল মাখতুমের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এটি। মসজিদটি তিন তলাবিশিষ্ট। এর মোট আয়তন ১৬৫০ বর্গমিটার।

গীর্জা

এ মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন ১৬০ জন পুরুষ ও ১০০ মহিলা। এছাড়া রয়েছে সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা একটি হল।

স্কটল্যান্ডে ধর্মীয় বিদ্বেষকে কঠোর হস্তে দমন করা হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে স্কটল্যান্ডের রাজধানীর একটি মসজিদে তিনজন চরম ডানপন্থী দলের রাজনৈতিক কর্মী হামলা চালিয়ে মসজিদের ক্ষতিসাধন ও অবমাননা করে। তাদের এই কর্মের দায়ে স্কটল্যান্ডের একটি আদালত ওই তিন ব্যক্তিকে নয় মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

এদিকে গত রমজানে স্কটল্যান্ডের মুসলমানরা ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা প্রচার’ নামে বিশেষ একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। এ কর্মসূচিতে ছিল সেদেশের জনগণের মাঝে ইসলাম ও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভুল ধারণার অপনোদন করা। এ লক্ষ্যে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জ্ঞানগর্ভ হাদিস সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন স্কটল্যান্ডের রাস্তায় টানিয়ে দেয়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্তৃক এসব ব্যানার লাগানো হয়।

টানানো ব্যানারসমূহে লেখা ছিল, ‘যা কিছু নিজের জন্য পছন্দ করো, তা অন্যের জন্যেও পছন্দ করবে।’ ‘পিতামাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ এমন বেশ কিছু হাদিসের বাণী সম্বলিত ব্যানার স্কটল্যান্ডের রাস্তায় রাস্তায় শোভা পেয়েছিল পুরো রমজান। এছাড়া গরিব ও অসহায়দের প্রতি সদয় হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন নীতিবাক্য লেখা ছিল ওইসব ব্যানারে।

স্কটল্যান্ডে প্রয়োজনের তুলনায় মসজিদের সংখ্যা অনেক কম। তার পরও যেসব মসজিদ রয়েছে সেগুলোতে স্থান সংকুলান হয় না। তাই বাধ্য হয়ে কয়েক দফায় নামাজের অায়োজন করতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষ বিভিন্ন গীর্জায়ও নামাজ আদায় করতে হয়।

ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান এ বিষয়ে লিখেছে, ‘ইউহান্না’ নামক একটি গীর্জা রয়েছে। যেখানে মুসলমান এবং খ্রিস্টানরা পরস্পরে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে উভয়েই তাদের ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, স্কটল্যান্ডের ইউহান্না গীর্জার ধর্মযাজক ও কর্মকর্তা ‘ইসহাক পাপলান’ এ সম্পর্কে বলেছেন, একদিন আমি মসজিদের দরজার সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় দেখলাম যে, ২০ থেকে ৩০ জন মুসলমান ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছে, আর এ কারণেই আমি তাদেরকে গীর্জা অভ্যন্তরে নামাজ আদায়ের প্রস্তাব দেই।

তিনি বলেন, যেহেতু ২০১০ সাল হতে মুসলমান ও খ্রিস্টানরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরে সহযোগিতা করছে তাই এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় মুসলমানরা।






মন্তব্য চালু নেই