মেইন ম্যেনু

গুপ্তপচর হত্যায় ছিলো পুতিনের হাত

প্রাক্তন রুশ গুপ্তচর আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর হত্যাকাণ্ডে সম্ভবত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সায় ছিল বলে জানাল এক ব্রিটিশ তদন্ত-রিপোর্ট। ২০০৬ সালে লন্ডনে প্রাক্তন রুশ চরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কার্যত ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ের শীতলতা দেখা দিয়েছিল রুশ-ব্রিটিশ সম্পর্কে।

২০০৬ সালের ২৩ নভেম্বর। লন্ডনের মিলেনিয়াম হোটেল। পানশালা ‘পাইন বার’-এ দেখা করলেন তিন বন্ধু। তাঁদের মধ্যে দু’জন প্রাক্তন রুশ গুপ্তচর। ওই সাক্ষাতের পরেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রাক্তন চরদের এক জন, আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কো। মৃত্যুর ঠিক আগে ব্রিটিশ তদন্তকারীদের বলে গেলেন, দুই বন্ধুই খুন করেছেন তাঁকে। আর তাতে সরাসরি মদত আছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

এক সময়ে রুশ গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি-তে কাজ করতেন লিটভিনেঙ্কো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে কেজিবি নাম বদলে হয় এফএসবি। ২০০০ সালে রাশিয়া ছেড়ে সপরিবার ব্রিটেনে পালিয়ে আসেন লিটভিনেঙ্কো। ঠিক যে ভাবে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমী বিশ্বে পালিয়ে আসতেন বহু রুশ গুপ্তচর। তার পরেই লন্ডনে ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তাবাহিনীতে দুর্নীতি ফাঁস করতেও সক্রিয় ছিলেন ওই প্রাক্তন গুপ্তচর। পুতিন প্রশাসন ও অপরাধ জগতের যোগ খুঁজতে স্পেনেও যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। খুন হওয়ার পরে লিটভিনেঙ্কোর স্ত্রী মারিনা জানান, ব্রিটেনে আসার পরে তাঁর স্বামী ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা এমআইসিক্সের হয়ে কাজ করছিলেন।

২০০৬ সালের ২৩ নভেম্বর লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে মিলেনিয়াম হোটেলের পানশালা ‘পাইন বারে’ দুই রুশ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন লিটভিনেঙ্কো। আন্দ্রেই কে লুগোভয় এবং দিমিত্রি ভি কোভতুন নামে ওই দুই বন্ধুই লিটভিনেঙ্কোর গ্রিন টি-এ তেজস্ক্রিয় ‘পোলোনিয়াম ২১০’ মিশিয়ে দেন বলে দাবি ব্রিটিশ পুলিশের। ওই সাক্ষাতের ২২ দিন পরে মারা যান লিটভিনেঙ্কো। মৃত্যুর আগে ব্রিটিশ তদন্তকারীদের জানান, লুগোভয় এবং কোভতুনের মাধ্যমে তাঁকে খুন করেছে রুশ গুপ্তচর সংস্থাই। সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্টের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘‘পুতিন, আপনি এক জনকে চুপ করাতে পারেন। কিন্তু সারা বিশ্ব থেকে প্রতিবাদের আওয়াজ আপনার কানে আসতেই থাকবে।’’

লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যুর পর থেকেই ব্রিটিশ তদন্ত আইন (এনকোয়ারিজ অ্যাক্ট) মেনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের জন্য লড়াই শুরু করেন তাঁর স্ত্রী মারিনা। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি মেনে ২০১৪ সালে তদন্তের আদেশ দেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রসচিব টেরেসা মে। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রবার্ট ওয়েনের সেই তদন্তের রিপোর্টে খুশি মারিনা। তাঁর কথায়, ‘‘মৃত্যুর সময়ে পুতিনের দিকে আঙুল তুলেছিলেন আমার স্বামী। আজ ব্রিটিশ আইনি প্রক্রিয়ায় সেই অভিযোগই প্রমাণিত হল।’’

প্রাক্তন বিচারপতি ওয়েন তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন, রুশ গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তো ছিলই। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবেও লিটভিনেঙ্কোর উপরে খাপ্পা ছিলেন পুতিন। এই হত্যাকাণ্ডে যে রুশ গুপ্তচর সংস্থা জড়িত তাতে সন্দেহ নেই। পুতিন এবং এফএসবি-র তৎকালীন প্রধান নিকোলাই পাত্রুশেভ ব্যক্তিগত ভাবে এই খুনের পরিকল্পনায় সায় দিয়ে থাকতে পারেন।

ঘটনার দুই খলনায়ক অবশ্য ব্রিটেনের নাগালের বাইরে। আন্দ্রেই লুগোভয় এখন রুশ পার্লামেন্টের সদস্য। দ্বিতীয় অভিযুক্ত কোভতুন ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে নিজেই তেজস্ক্রিয় বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে মস্কোর হাসপাতালে ভর্তি হন। লুগোভয়-কোভতুনের দাবি, তাঁরা আদৌ লিটভিনেঙ্কোকে খুন করেননি। বরং লিটভিনেঙ্কোই কোভতুনের বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী হতে পারেন।

লিটভিনেঙ্কো খুন নিয়ে ব্রিটেন-রাশিয়া সম্পর্ক শীতল হয়। ওয়েনের রিপোর্টের পরে ফের রুশ-ব্রিটিশ সম্পর্ক নিয়ে কূটনীতিকদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে কূটনীতিকদের একাংশের মতে, এখন ইরান-সহ বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়াকে পাশে চায় ডেভিড ক্যামেরন সরকার। তাই রবার্ট ওয়েনের রিপোর্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তেমন প্রভাব নাও ফেলতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই