মেইন ম্যেনু

গুলি ও ককটেলের শব্দে ঘুম ভাঙে মোল্লাকান্দিবাসীর, গ্রাম ছাড়ছেন হাজারো নারী-পুরুষ

নাসরিন আক্তার, মুন্সীগঞ্জ থেকে : গুলি ও ককটেলের শব্দে ঘুমভাঙে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নবাসীর। সেখানকার বাইশটি গ্রামে দিনরাত বিস্ফোরিত হচ্ছে ককটেল ও বষর্ণ করা হচ্ছে গুলি। আগামী ২৮ শে মে’র পঞ্চমধাপের ইউপি নির্বাচনকে সেখানে চলছে বহিরাগতদের অস্ত্রের মহড়া। বানানো হচ্ছে ককটেল ও বোমা। সরবরাহ করা হচ্ছে নানা ধরণের অস্ত্র। এ নিয়ে শঙ্কিত সেখানকার ভোটাররা। গত কয়েকদিনে শত শত নারী-পুরুষ গ্রাম ছাড়া হয়ে আছে। হামলা-ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব ঘটনায় মোল্লাকান্দির সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেখানকার প্রায় ২০ হাজার ভোটার।

৫ নং ওয়ার্ড সাধারণ সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মনির হোসেন জানান, সোমবার ফজরের নামাজ শেষে ভোর ৫টার দিকে চৈতারচর গ্রামে আকস্মিক ককটেল ও গুলি বর্ষণ করে হামলা চালায় নৌকা প্রার্থীর আমঘাটা, নয়াকান্দি ও সোলারচর গ্রামে প্রায় ২০০-২৫০জন সমর্থক। এ সময় তারা রাস্তা দিয়ে শত শত ককটেল ও গুলিবর্ষণ চালায়। এতে গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনার আনারস প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প। রাস্তায় ও গ্রামে সাটানো ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়। গ্রাম ছাড়া করা হয় আনারস প্রতীকের শতাধিক সমর্থককে। নৌকার প্রার্থী রিপন পাটোয়ারি সমর্থক আনিস নকতির নেতৃত্বে এ হামলা হয়। গ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকজন পাশ্ববর্তী চরকেওয়ার ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন। সেখানেও তারা চরকেওয়ারের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী দুই ভাই আতা ও মোতার আক্রমণের শিকার হন। বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের সমর্থক হওয়ায় মেম্বার প্রার্থী মনির হোসেনকেও গ্রাম ছাড়তে হয় বলে তিনি জানান।

IMG_2614

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তৃণমূলের আওয়ামী লীগ আনারস প্রতীকের প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনাকে সমর্থন করায় নৌকার প্রার্থী ও তার ভাই সিপন পাটোয়ারি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে এসব করাচ্ছেন।

ওদিকে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা, চরডুমরিয়া, মোল্লাকান্দি, কংশপুরা, রাজারচর, সামারচর ও মহেষপুরসহ ৮টি গ্রামে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের ককটেল ও গুলিতে ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতরা ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনার সর্মথকদের গ্রাম ছাড়া করার লক্ষে গ্রাম গুলোতে হঠাৎ হামলার চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় তিন শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু সোমবার কাকডাকা ভোরেই আবার একই ঘটনা ঘটে। রোববারের ঘটনায় ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদও থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে এসআই মো. নুরুল কাদির সৈকত হোসেনকে।

Pic-1 Mollakandi Munshiganj 23.05.2016

মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রিপন পাটোয়ারি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট দাবি করে বলেন, জানান, মহাসিনা হক কল্পনার সমর্থকরা নৌকার সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। আনন্দপুর গ্রামে কাপড় দিয়ে বানানো নৌকার স্মারক তুলে নিয়ে টয়লেটে ফেলে দেয় স্বপন গং। ওই গ্রামের ৩০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনা বলেন, রিপন পাটোয়ারি ও তার ভাই সিপন পাটোয়ারির নেতৃত্বে মোল্লাকান্দির গ্রামে গ্রামে হামলা চালাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুচ আলী বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই