মেইন ম্যেনু

গৃহকর্মীকে বাথরুমে আটকে খুন্তির ছ্যাঁকা

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভায় এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবি আমেনা (১৪) নামে গৃহপরিচারিকাকে বাথরুমে আটক রেখে তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতিতা আমেনা ভোলা জেলার দৌলতখানের মাঝিরঘাট এলাকার বকসিবাড়ীর আলমগীর হোসেনের মেয়ে।

অভিযুক্ত দম্পতিরা হচ্ছেন-পল্লী বিদ্যুতের নোয়াখালী প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঠেঙামারা এনজিওর (টিএমএসএস) নোয়াখালী কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর বেগম নিকোনাদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বিবি আমেনা জানায়, পরিবারে অভাব থাকায় গত ১ বছর আগে চৌমুহনী-ফেনী সড়কের চৌমুহনী পৌরসভার উত্তর হাজীপুর এনটি ভবনের তৃতীয় তলার ৩০৩ নম্বর কক্ষে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বাসায় কাজ করতে আসে। বাসার কাজের পাশাপাশি ওই দম্পতি চাকরিজীবী হওয়ায় তাদের শিশু বাচ্চাকে দেখাশুনা করতো সে।

ঘটনার শুরু:
গত ১৬ আগস্ট রোববার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী এনজিও কর্মকর্তা নিকোনাদের ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি নুপুর হারিয়ে যায়। পরে এ বিষয়টি নিয়ে আমেনাকে সন্দেহ করেন তিনি। একই দিন তার শিশু বাচ্চাকে অতিরিক্ত ওষুধ খাইয়ে ঘুমিয়ে রেখেছে অভিযোগ এনে ওই দম্পতি আমেনাকে পিটিয়ে বাথরুমের মধ্যে আটক করে রাখে। শুধু পানি খেয়ে বাথরুমে দুই দিন বন্দী থাকে আমেনা। মঙ্গলবার আমেনাকে বাথরুম থেকে বের করে ওড়না দিয়ে হাত এবং পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় রুটি তৈরির কাজে ব্যবহৃত খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা এবং গরম পানি করে আমেনার সারা শরীরে ঢেলে দেয় ওই দম্পতি। এতে আমেনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জলসে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ওইদিন রাতে আমেনা কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদে গিয়ে অবস্থান নেই।

বুধবার রাতে ওই দম্পতি বাসা থেকে বের হয়ে গেলে আমেনা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে আমেনা সব ঘটনা তাদের জানালে আশ্রয়দাতা ওই বাড়ির লোকজন বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা সাইফুল ও স্ত্রী এনজি কর্মকর্তা দু’জন পারিবারিক কারণে ২০ আগস্ট বুধবার থেকে কয়েকদিন অফিসে আসতে পারবেনা বলে স্ব-স্ব অফিসে জানিয়ে পলাতক রয়েছেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসিম কুমার দাস জানান, মেয়েটির পিঠ, তলপেটে ও বুকে রুটি তৈরি করার উত্তপ্ত খন্তির ছ্যাঁকা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শওকত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ভিকটিমের বাবা ভোলা থেকে আসতেছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত পল্লীবিদ্যুৎ নোয়াখালী প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।






মন্তব্য চালু নেই