মেইন ম্যেনু

গৃহপালিত তেলাপোকা!

অধিকাংশ মানুষের কাছেই তেলাপোকা অতিশয় বিরক্তিকর প্রাণী। বসত বাড়ির সবচেয়ে নোংরা স্থানে এর বসবাস হওয়ার কারণে মানুষের কাছে তোলাপোকাও নোংরা হিসেবেই সাব্যস্ত হয়। কিন্তু এটা সত্যি যে, তেলাপোকাই একমাত্র প্রাণী যা মানবসৃষ্টির সূচনাকাল থেকে এখনও বেশ আয়েশের সঙ্গেই টিকে আছে। এমনও রেকর্ড আছে যে, পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণস্থল যেখানে প্রাণের বিন্দুমাত্র লেশ নেই, সেখানেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে তেলাপোকা। তবে আজ আমরা চিরপরিচিত কালো তেলচিটচিটে তেলাপোকার কথা বলছি না, উল্টো সবুজ এমন এক প্রজাতির তেলাপোকার কথা বলবো যা মানুষের পোষ মানে।

কিউবার এই তেলাপোকাগুলোকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয়, পাঞ্চলোরা নিভেয়া অথবা সবুজ তেলাপোকা। পৃথিবীতে প্রাপ্ত তেলাপোকার অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এদের আকার এবং রং সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে কিউবা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলসমূহ, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে এই তোলাপোকা দেখতে পাওয়া যায়। তবে কিছু সংখ্যক সবুজ তেলাপোকা সামারভিল সাউথ ক্যারোলিনাতেও দেখা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মকে, সবুজ তেলাপোকারা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলেই বেশি দেখা যায়।

নারী সবুজ তেলাপোকাগুলো সচরাচর ২৪ সেন্টিমিটার লম্বা হলেও পুরুষ তেলাপোকারা মূলত ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এদের পাখাগুলো অন্যান্য তেলাপোকার তুলনায় বেশ শক্ত এবং সবুজ রংয়ের চারপাশে হলুদাভ রংয়ের ছটা দেয়া থাকে। তবে জন্ম থেকেই এদের রং সবুজ হয় না। জন্মানোর পর মূলত কালো থেকে ক্রমশ হলুদের দিকে যেতে যেতে সবুজ রং ধারণ করে পূর্ণবয়স্ক হয়।

তোলাপোকার মূল বসতিস্থল আদতে বাড়ির বাইরে হলেও বাড়ির ভেতরেই এদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তবে সবুজ তেলাপোকাগুলো বাসা বাড়িতে বিচরণ করার তুলনায় গাছ কিংবা তুলনামূলক দুর্বল কাণ্ডে বাসা বাধে। যদিও বয়স ভেদে এদের আবাসস্থল পরিবর্তিত হয়। তরুণ সবুজ তেলাপোকাদের তাই পঁচে যাওয়া গাছের গুড়িতে দেখা যায়।

একমাত্র কিউবাতেই দেখা যায় কিছু পরিবার বেশ আয়োজন করে সবুজ তেলাপোকা পোষেণ। কিউবার স্থানীয় কিছু মিথের সঙ্গে সবুজ তোলাপোকা জড়িয়ে থাকার কারণে অধিকাংশ কিউবানই অহেতুক তেলাপোকা হত্যাতো করেই না, উল্টো কোনো তেলাপোকাকে বিপদে দেখতে যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেন। আর এই সাহায্যের প্রতিদানও দিতে ভুল করে না তেলাপোকারা। অন্যান্য স্থানে যেমন তেলাপোকাকে বিধ্বংসী চরিত্র হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু কিউবান সবুজ তেলাপোকাদের ধ্বংসাত্মক কোনো কাজে দেখা যায় না।






মন্তব্য চালু নেই