মেইন ম্যেনু

গোয়েন্দাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে ভাঙন

যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়ন্তা হবেন। কিন্তু তার আগেই কিছু গোপন প্রতিবেদন ফাঁস করে দেয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা তার প্রেসিডেন্ট পদ ধ্বংস করতেই কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদন ফাঁস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোই প্রতিবেদন ফাঁস করার জন্য দায়ী। এটা তাদের জন্য বড় ধরনের কলংক হয়ে থাকবে।

এর আগে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প মার্কিন গোয়েন্দাগুলোকে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেন, তিনি বলেন, তাদের এ ধরনের ভুয়া সংবাদ জনসমক্ষে ফাঁস করে দেয়া ঠিক হয়নি। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই তীব্র আক্রমণে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থার উপর অযৌক্তিক শক্রতা পোষণ ও প্রদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার সিআইএ পরিচালক হিসেবে ট্রাম্পের মনোনীত মাইক পম্পোর ব্যাপারে শুনানি চলার প্রাক্কালে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অপর একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বিবেকবান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অযাচিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বরং গার্ডিয়ানসহ আরও কয়েকটি পত্রিকা কয়েকমাস ধরে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এমনকি পর্যাপ্ত যাচাই প্রক্রিয়া সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত পত্রিকাগুলো তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রধান জেমস ক্ল্যাপার বলেন, তিনি বুধবার ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, প্রতিবেদন ফাঁসের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দায়ী নয়। জেমস ক্ল্যাপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি গুরুত্ব দিয়ে বলেছি এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৈরি কোনো প্রতিবেদন নয় এবং আমি বিশ্বাস করি না যে, প্রতিবেদন ফাঁস গোয়েন্দা সংস্থার মধ্য থেকে হয়েছে।’ গত রাতে সিএনএন প্রতিবেদনে বিভিন্ন দিক জানিয়ে দেয়ার আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অ্যারিজোনার রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাক কেইনের কাছ থেকে পেয়েছিল এফবিআই। এরপর তা বারাক ওবামা ও ট্রাম্পকে জানানো হয়েছিল। কোনো সংবাদমাধ্যম এই অভিযোগ প্রকাশ করেনি যে, ট্রাম্পের ব্যাপারে রাশিয়ার কাছে স্পর্শকাতর তথ্য আছে। ট্রাম্প তাদের বক্তব্য অস্বীকার করেন। অরেগন রাজ্যের ডেমক্রেট সদস্য রন ওয়াইডেন গার্ডিয়ানকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক শত্রুতা ট্রাম্পের জন্য মারাত্মক হবে। ওয়াইডেন বলেন, যুদ্ধে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্তসহ জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য প্রেসিডেন্টই দায়বদ্ধ। আর এটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণও বৃহৎ কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে। প্রেসিডেন্ট যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বক্তব্য উড়িয়ে দেন। তবে তা প্রেসিডেন্টের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর হতে পারে।’

সিআইএর সাবেক অ্যাটর্নি ও সিনেট গোয়েন্দা প্যানেলের সদস্য ভিকি ডিভোল গোয়েন্দা সংস্থা ও ট্রাম্পের মধ্যকার বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কম সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং প্রতিবেদন প্রকাশের পর গোয়েন্দা সংস্থার পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। আমরা এমন একটা যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে একজন প্রেসিডেন্ট তার দেশের ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে খোলামেলা ও অযৌক্তিক শত্রুতা পোষণ করছেন।’






মন্তব্য চালু নেই