মেইন ম্যেনু

ঘটনাচক্রে ক্যানসারের প্রতিষেধক

ক্যানসার কোষে ম্যালারিয়া প্রোটিন স্থাপনের মাধ্যমে যেকোনো ধরণের টিউমার ধবংস করা যেতে পারে এবং এভাবে ঘটনাক্রমে যেকোনো জটিল ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করা যেতে পারে। আর এক্ষেত্রে সফলতার হার প্রায় ৯০ শতাংশেরও কিছু বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ম্যালেরিয়া প্রোটিনের ওপর দীর্ঘ গবেষণার ফল হিসেবে এই তথ্য উদঘাটন করেছেন বিজ্ঞানীরা। যদি এই ম্যালেরিয়া প্রোটিনকে ক্যানসার কোষে স্থাপন করে যায় তাহলে মানুষের শরীরে ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে আবার নতুন সজিব কোষে রূপান্তর করা সম্ভব। ফলে বিজ্ঞানীদের সুদীর্ঘ কালের গবেষণার ফলাফল হিসেবে এক সময় ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়ের একটা উপায় বের হতে পারে। অর্থাৎ ঘটনাক্রমে বিজ্ঞানীরা পেয়েও যেতে পারেন যে ম্যালেরিয়া প্রোটিনকে ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি কার্যকরী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সম্প্রতি একদল ডাচ গবেষক এই অভূতপূর্ব আশার কথা শুনিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। তাঁরা গর্ভবতী নারীদের ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার কারণ এবং এর কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে গবেষণার সময় এর প্রমাণ পেয়েছেন।

ডাচ গবেষকগণ জানান, গর্ভবতী নারীরা ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হলে তার পরিনাম খুবই ভয়াবহ রূপ ধারন করে। এর প্রধান কারণ হল গর্ভবতী নারীদেরকে ম্যালেরিয়া জীবানু সরাসরি অমরায় আক্রমন করে থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখতে পান ম্যালেরিয়া জীবানু গর্ভবতী নারীর শরীরে প্রভাব বিস্তারের সময় ম্যালেরিয়া প্রোটিন ক্যানসার কোষের ওপর বিপরীত ক্রিয়া করে। অর্থাৎ ক্যান্সার কোষেকে এরা প্রতিনিয়তই লড়াই করে করে একেবারে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে যায়। এই গবেষণার ভিত্তিতে তাঁরা ধারণা করছেন এই ম্যালেরিয়া প্রোটিনকে ক্যানসারের একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে ম্যালেরিয়ার টীকায় ব্যবহৃত হয় এমন প্রোটিনের সঙ্গে বিষক্রিয়ার বিক্রিয়া ঘটিয়ে তা কোষে স্থাপন করেন। তারপর সেটাকে ক্যানসার আক্রান্ত কোষে স্থাপন করেন এবং আবারও সেই বিষাক্ত পদার্থকে প্রয়োগ করেন জীবানু ধবংস করে। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁরা দেখেন ম্যালেরিয়া প্রোটিন একই কার্বোহাইড্রেটকে যুক্ত করে। আর উভয়ের মধ্যেই সুস্পষ্ট মিল বিদ্যমান। এক্ষেত্রে তাঁরা আরও দেখতে পান কার্বোহাইড্রেড ম্যালেরিয়া আক্রান্ত অমরায় খুব দ্রত বেড়ে ওঠে। কিন্তু একই সঙ্গে তা টিউমারে এরা খুবই ক্রিয়াশীল। একইভাবে ম্যালেরিয়া পরজীবী ক্যানসার আক্রান্ত কোষকেও ঠিক একইভাবে যুক্ত করে। অর্থাৎ কোষের বিষাক্ত অংশকে এরা ধবংস করে দেয়।

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী সালান্তি বলেন, তাঁরা দীর্ঘ দশ বছর ধরে অমরা এবং টিউমারের ওপর গবেষণা করে চলেছেন। গবেষকদের মূল গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল অমরা এবং টিউমারের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া অনুসন্ধান। তাঁরা দেখতে পান। এদের বেড়ে ওঠার ধরণ প্রায় একই রকম। তাই ম্যালেরিয়া জীবানু যেখানে অমরাকে আক্রমণ করে আর ক্যানসার জীবানু করে টিউমারকে। এবং ম্যালেরিয়া যেহেতু পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। তাহলে অমরার মত টিউমার থেকেও বিষক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দুর করে তা আবার সজিব কোষে রূপান্তর সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে পরিক্ষামুলকভাবে ক্যানসার আক্রান্ত ইঁদুরের শরীরে প্রয়োগ করেছেন। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তা মানুষের শরীরে প্রয়োগের কথা চিন্তা করে হকুব দ্রত তাদের গবেষনাকে চালিয়ে যাচ্ছেন।

অধ্যাপক সালান্তি আরও বলেন, একতা বিষয়ে তাঁরা এখনও সন্দিহান। আর তা হল এর মাত্রা কি মানুষগের শরীর কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই গ্রহণ করতে পারবে কিনা। তবে তিনি জানান, যে তাঁরা খুবই আশাবাদী। কারণ প্রতিবারই তাঁরা দেখেছেন একই কার্বোহাইড্রেডকে যুক্তকারী যে প্রোটিন কোষটি রয়েছে তা মানিব দেহে আমরায় এবং একই সঙ্গে টিউমারে অবস্থান করতে পারে। তাই হয়ত অদূর ভবিষ্যতে মরনব্যাধী বিবিন্ন জটিল ক্যানসার নিরাময়েরও স্থায়ী পদ্ধতি আবিষ্কার সম্ভব।

কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক ও বিজ্ঞানী বলেন, ইঁদুরের মধ্যে প্রোটিন এবং টক্সিনের যৌথ প্রভাবে জানতে পেরেছি খুব শীগ্রই জটিল ক্যানসারের সম্পূর্ণ ন্নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা আমরা উদ্ভাবন করতে পারবো।






মন্তব্য চালু নেই