মেইন ম্যেনু

ঘরোয়া এই ক্লিনারগুলো ভুলেও মেশাবেন না একসাথে

নিজে নিজেই প্রাকৃতিক পণ্য তৈরি করতে পছন্দ করেন অনেকে। এর মাঝে প্রসাধনী থেকে শুরু করে ঘরদোর পরিষ্কারের এটাসেটা সবই থাকে। কিন্তু ঘর পরিষ্কারের সময়ে যদি নিজে নিজে বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে নতুন কিছু তৈরি করতে চান, তাহলে খুবই সাবধান থাকুন। কারণ রাসায়নিক ক্লিনার একটির সাথে আরেকটি মেশানো খুবই বিপজ্জনক। এতে আপনার বুদ্ধির প্রমাণ পাওয়ার বদলে বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে।

এই উপাদানগুলো আলাদা আলাদাভাবে ব্যবহার করলে কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু একটির সাথে আরেকটিকে মেশাবেন না কখনোই-

১) ব্লিচ এবং স্পিরিট/অ্যালকোহল

এই দুটো জিনিস মেশালে তৈরি হবে ক্লোরোফর্ম এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিড। হাইড্রোক্লোরিক এসিড এখুব বাজে ধরণের এসিড আর ক্লোরোফর্ম গ্যাসটাও ভালো কিছু নয়। এ কারণে এ দুটো কখনোই মেশাবেন না।

২) ব্লিচ এবং অ্যামোনিয়া

এই দুটোকে মেশালে তৈরি হতে পারে ক্লোরামিন নামের এক ধরণের গ্যাস। এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সমস্যার পাশাপাশি তৈরি করতে পারে বুকে ব্যাথা। অনেক গ্লাস ক্লিনারে অ্যামোনিয়া থাকে। তাই এটা কখনোই ব্লিচের সাথে মেশাবেন না।

৩) ক্লোরিন ব্লিচ এবং ভিনেগার

ব্লিচ দাগ তুলতে সক্ষম। ভিনেগার অনেক কিছু পরিষ্কার করতে পারে। শুনে মনে হতে পারে এই দুইটি মেশালে দারুণ শক্তিশালী একটা ক্লিনার তৈরি হবে। আসলে কিন্তু জিনিসটা খুব বিপজ্জনক। এগুলো একসাথে তৈরি করে ক্লোরিন গ্যাস। খুব কম পরিমাণেও এই গ্যাস তৈরি করতে পারে কাশি, নিঃশ্বাসের সমস্যা এবং চোখে জ্বালাপোড়া।

) হাইড্রোজেন পারক্সাইড এবং ভিনেগার

অনেকেই রান্নাঘরের তাক, টেবিল এসব পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগারের স্প্রে ব্যবহার করেন। কেউ কেউ হাইড্রোজেন পারক্সাইডের স্প্রে ব্যবহার করেন। দুটোই আলাদাভাবে ব্যবহার করাটা নিরাপদ। স্প্রে করার পর ভালো করে মুছে নিলেই হলো। কিন্তু একই বোতলে এই দুইটি উপাদান মেশালেই বিপদ। এ দুটির বিক্রিয়ায় তৈরি হয় প্যারাসেটিক অ্যাসিড। এটা টক্সিক যা ত্বক, চোখ এবং শ্বসনতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

৫) দুইটি আলাদা ক্লিনার

আপনি হয়তো মনে করতে পারেন গ্লাস ক্লিনারের সাথে ডিশ ওয়াশিং লিকুইড মেশানোটা খুব বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু এটা মনে করবেন না। একেকটা ক্লিনার একেক ধরণের কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। দুই ধরণের ক্লিনার যোগ করলে কাজ ভালো হবে, এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। আবার বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিকে কী বিক্রিয়া হবে, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

৬) ব্লিচ এবং টয়লেট ক্লিনার

ব্লিচের সাথে যে কোন ধরণের টয়লেট ক্লিনার মেশানো থেকে বিরত থাকুন। এতে টক্সিক গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে।

টিপস

টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করেও যদি টয়লেট পরিষ্কার না হয় তাহলে ব্যবহার করতে পারেন কোকাকোলা!
এসব নিয়ম যদি মনে রাখতে কষ্ট হয় তবে অন্তত একটা জিনিস মনে রাখুন। কখনোই ব্লিচ বা ব্লিচিং পাউডারের সাথে পানি ছাড়া অন্য কিছু মেশাবেন না।
অনেকে ভিনেগার আর বেকিং সোডা মেশান পরিষ্কার করার জন্য। এটা খুব একটা ক্ষতিকর না হলেও আসলে মোটেই কার্যকর নয়। এই দুটোর বিক্রিয়ায় বেশীরভাগ পানি উৎপন্ন হয়।






মন্তব্য চালু নেই